‘আবার ক্ষমতায় এলে তারেককে দেশে এনে শাস্তি কার্যকর করা হবে’

  • ২৩-Oct-২০১৮ ০১:০০ pm
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার দায়ে আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে সাজা কার্যকর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সংরক্ষিত আসনের ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী তার প্রশ্নে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমরা আলাপ-আলোচনা করছি। আল্লাহ যদি চান, আগামী নির্বাচনে আমরা আবার যদি ফিরে আসতে পারি, এর মাঝে অবশ্যই আমরা তাকে ফিরিয়ে আনতে পারবো। শাস্তি দিতে পারবো। এই বিশ্বাস আমার আছে। এজন্যই দেশবাসীর কাছে দোয়াও চাই, ভোটও চাই যাতে আবার ফিরে এসে যেন এই অন্যায়-অবিচারের বিচার করতে পারি। খুনের সাজা কার্যকর করতে পারি।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে আসার পর আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করা বা শেষ করার চেষ্টা হয়েছে। শারীরিকভাবে শেষ করার চেষ্টা হয়েছে। নানা রকম বদনাম দেওয়ারও চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু কোনও কিছুতে সফল হয়নি। ২১ আগস্ট বিএনপি-জামাতের সৃষ্টি করা আঘাত সেদিন প্রকাশ্য দিবালোকে এনেছিল। যার (তারেক জিয়া) কথা বলা হয়েছে তার পিতা জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। সে ও তার মা এই ২১ আগস্টের হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল, এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে সত্য যে কোনোদিন চাপা থাকে না, তা আজকে মামলা চলতে চলতে সত্য বেরিয়ে এসেছে। সেই হত্যার যে বিচার করতে পেরেছি এটাই সব থেকে বড় কথা। আজকে বিচারে সাজা হয়েছে।

তিনি বলেন, শাস্তি যখন পেয়েছে যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন আল্লাহর ওপর আমার বিশ্বাস আছে, বংলাদেশের জনগণের ওপর বিশ্বাস আছে, নিশ্চয়ই একটা দিন আসবে যে যারা এত বড় জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্য দিবালোকে রণক্ষেত্রের ব্যবহৃত গ্রেনেড রাজপথে ব্যবহার করে এভাবে হত্যা করেছে, আমাকে হত্যার চেষ্টা করেছে, তাদের বিচার যখন হয়েছে, রায় যখন হয়েছে, একদিন সাজা পেতেই হবে। সাজা তাকে ভোগ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের দুয়ার খুলে দিয়ে, আহার ভাগাভাগি করে আমার সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছেন এবং আমাকে সার্বক্ষণিক সাহস জুগিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির সম্পূরক এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে যারা জোট করেছেন, তাদের আমি স্বাগতই জানাই। কারণ আমি মনে করি, সবারই রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। আজ যারা রাজনৈতিকভাবে বিভিন্ন দল মিলে জোট করছেন, তারা নির্বাচনে আসবেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, এতে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা আরও মজবুত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে এখানে যারা যুক্ত হয়েছেন তাদের যে কথা-বার্তা, যা কিছু এখন মানুষ জানতে পারছে, শুনতে পারছে.. তাদের কেউ কেউ মানুষকে সম্মান রেখেই কথা বলতে পারছেন না। বিশেষ করে নারী বিদ্বেষী মনোভাব, মেয়েদের প্রতি অশালীন কথা বলা থেকে শুরু করে অনেক কিছুই শুনতে পাচ্ছি। আশা করি, তারা সংযত হবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জন্য কাজ করতে হলে যতটা সহনশীল হতে হয়, রাজনীতি করতে হলে যে ত্যাগ দরকার হয় সেটা তাদের মধ্যে নেই। তারা যদি সত্যি রাজনৈতিক একটি জোট করেন এবং এগিয়ে যেতে চান অবশ্যই তাদের সেভাবে চলতে হবে। এটাই বাস্তব কথা। যেভাবেই হোক রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ মোকাবেলা করতে আমি পিছ পা হই না। রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করি। তবে কেউ যদি জঙ্গি, সন্ত্রাস বা মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকেন অথবা কেউ যদি অশালীন উক্তি করেন, আর মানুষ যদি বিচার চায়, সেই বিচার করাটাও রাষ্ট্রের কর্তব্য। রাষ্ট্র সে বিচার করবে এবং করে যাচ্ছে। সেটা দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে।

বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রওশন আরা মান্নানের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবার যদি দেশের মানুষ ভোট দেয়, দেশের মানুষের সেবা করতে চাই। ক্ষমতায় আসার জন্য দেশের মানুষের ভোট যেমন প্রয়োজন তেমননি আল্লাহর ইচ্ছাটাও প্রয়োজন।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট আমার বাবা-মা-ভাইসহ সবাইকে হত্যা করা হয়। আমার ভাই শিশু রাসেলও এ হত্যাকাণ্ড থেকে রেহাই পায়নি। ১৫ আগস্টের ১৫ দিন আগে আমাকে দেশ থেকে চলে যেতে হয়। তাই ভাগ্যক্রমে আমি আর আমার বোন বেঁচে যাই। যখন দেশে এসেছি, তখন একটি কথাই আমার মাথায় ছিল যে আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। দেশের মানুষকে কতোটুকু দিতে পারবো সেটাই বড় কথা। সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি। একটানা ১০ বছর ক্ষমতায় আছি বলেই দেশের উন্নয়ন দৃশ্যমান করতে পেরেছি। দেশের মানুষও তার ফল পাচ্ছে, যোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এসময় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মাসেতু ও কর্ণফুলী টানেলের কাজ চলছে। দারিদ্র ২১ ভাগে নামিয়ে আনতে পেরেছি। আরও কমাতে চাই। দেশ থেকে দারিদ্র দূর করতে পারবো সে বিশ্বাস আমার আছে। ২০২১ থেকে ৪১ পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবো। ২০৪১ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারবো কি না জানি না, বয়স হয়েছে। তবে উন্নয়নকাজ অব্যাহত থাকবে। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। আমাদের মূল কাজ হবে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক থেকে দেশকে রক্ষা করা। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে তা অব্যাহত থাকবে। দুর্নীতি দূর করে সুষ্ঠু সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। 

/ই

Ads