আতঙ্কে সিনহা: যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন

  • ২৯-Sep-২০১৮ ০১:০০ pm
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

যুক্তরাষ্ট্রে আতঙ্কা ও ভয়ের মধ্যে বসবাস করছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন আলোচিত সাবেক এই প্রধান বিচারপতি।

শনিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ওয়াশিংটন প্রেসক্লাবে তার বই ‘এ ব্রোকেন ড্রিম’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান এখানে আমার কোনো স্ট্যাটাস নেই। আমার ভিসার মেয়াদ প্রায় শেষ। আমি কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রার্থনা জানিয়েছি, কিন্তু এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সিনহা জানান, লন্ডনের হাউস অব কমন্স, জেনেভা এবং ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন থেকেও দাওয়াত পেয়েছি। কিন্তু সিদ্ধান্ত না হওয়ার কারণে সেখানে যেতে পারছি না। আমি নিরাপদ বোধ করছি না। আমি ভীত থাকি, ২৪ ঘণ্টা বাসাতেই থাকি। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা আমার বাসা সব সময় মনিটরিং করে এবং যারা আমার বাসায় যায় তাদের ছবি তোলা হয়।

বর্তমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই সরকার ভারতের সমর্থন পায়।

শুধু তাই না, ২০১৪-এর নির্বাচনের পরে ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং কয়েকটি ইউরোপিয়ান দেশকে বুঝিয়েছিল এই সরকারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য।

ভারত বাংলাদেশকে নিজেদের লাভের জন্য সমর্থন দিচ্ছে জানিয়ে সিনহা বলেন, ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করে কারণ আওয়ামী লীগ সেখানে ভারত বিরোধী সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ক্যাম্প বন্ধ করে দিয়েছে।

তবে এধরনের সমর্থন ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি শেষ পর্যন্ত ভারতের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে এবং তাদের দু'টি পাকিস্তানের’ মুখোমুখি হতে হবে।

বই প্রকাশে দেশের নির্বাচনের আগের সময়কে বেছে নেয়ার এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বই প্রকাশে প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। সবকিছুর ব্যবস্থা করে লিখতে শুরু করেছি।’ বই প্রকাশে অর্থের জোগান সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা অ্যামাজন প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে তিনি ফেরত আসবেন কিনা? এমন এক প্রশ্নের জবাবে সিনহা বলেন, আমি যখন দেশ ত্যাগ করেছিলাম, বিভিন্ন মিডিয়ায় এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে- আপনি খুঁজলেই পাবেন। আমি সম্পূর্ণভাবে চলে এসেছি। বাংলাদেশের আমার জীবনের কী নিশ্চিয়তা আছে?

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি জানান, বইটি তিনি নিজে লিখেছেন, নিজেই আবার সম্পাদনা করেছেন। ৮০০ পৃষ্ঠার বইয়ে প্রধান বিচারপতি হিসেবে কেবল নিজের শেষ দিনগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন।

 

/কে

Ads