সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ও গুজব রুখতে পুলিশের বিশেষ সাইবার ইউনিট গঠন!

  • ২৩-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা ও ভুয়া গুজব ছড়ানো রুখতে বাড়তি তৎপরতা শুরু করেছে সরকার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে কড়া নজরদারী জন্য ইতিমধ্য দুটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পুলিশের সম্পূর্ণ একটি নতুন বিশেষ ইউনিট 

"সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো'' গঠন করা হবে।এছাড়া বর্তমান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং এবং সাইবার সিকিউরিটি ডিভিশনের জনবল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে শতাধিক ‘অপপ্রচারকারী আইডি‘ তারা চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে এমন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত কয়েক মাসে গুজবের নামে প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতিসহ রাষ্ট্রের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সেলিব্রেটিদের নাম জড়ানো হয়। কোনো গুজবে সশস্ত্র বাহিনীর মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের নামও জড়ানো হয়েছে। গুজব থেকে রেহাই পাচ্ছে না দেশের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমও। গত শনিবার যার সর্বশেষ নজির পাওয়া গেল। সমকাল, প্রথম আলো, ডেইলি স্টারসহ দেশের প্রায় সবগুলো প্রথম সারির গণমাধ্যমের মাস্টহেডের স্ট্ক্রিনশট নিয়ে অনলাইনে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত পত্রিকার ভুয়া প্রথম পাতা তৈরি করা হয়। সেখানে প্রধান বিচারপতি ও সরকারকে জড়িয়ে সংবাদের মনগড়া শিরোনাম দিয়ে ছড়ানো হয় বিভ্রান্তি।

গণমাধ্যমের এসব ভুয়া পাতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসার পর বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি সাইবার ক্রাইম।

অনুসন্ধানে ফেসবুক, ইউটিউব ও টুইটারে এমন কিছু আইডি পাওয়া গেছে, যেখান থেকে বিরামহীনভাবে রাষ্ট্রের অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তথ্য বিকৃত করে গুজব ছড়ানো হয়েছে। ফেসবুকের অন্তত ৯২টি পেজ ও আইডি এরই মধ্যে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন , মানুষ খবরের জন্য এখন ফেসবুক, টুইটার সহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমের উপর বেশি নির্ভর করে, আর এই সুযোগে আমাদের সচেতনতার অভাবে ক্রস চেক করা ছাড়াই আমরা অনেক জিনিস ভাইরাল করে দেই।

এই প্রসঙ্গে তিনি ২০১৪ সালে ৫ মে হেফাজত ইসলামের কর্মীদের শাপলা চত্বর থেকে পুলিশের উচ্ছেদের ঘটানা উল্লেখ্য করে বলেন , অতীতে এক সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ বলবে আড়াই হাজার কেউ ৫শ’ কেউবা বলবে ৪০ জন মারা গিয়েছে।

তিনি মনে করেন,'' বাংলাদেশের এইরকম অনেক ঘটনার আসল তথ্য এখনো আমরা জানি না। দেশে যেকোন আন্দোলনের সময় সরকারের মূলধারার মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণের কারণেই এত বেশি প্রোপাগান্ডা ও গুজব ছড়াচ্ছে''।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত গুজবের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সরকারের জরুরি উদ্যোগ নেওয়া উচিত। অনেকে মনে করেন, যখন কোনো ঘটনার পর সংশ্নিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পরিস্কারভাবে জনগণের কাছে তার বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়, তখন গুজব ডালপালা ছড়ায়।

প্রধান তথ্য কমিশনার ড. মো. গোলাম রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ফিল্টারিং ছাড়া তথ্য বা মতামত দেওয়া হয়, যেটা অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে রাষ্ট্রকেন্দ্রিক যে কোনো স্পর্শকাতর তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে মূলধারার গণমাধ্যম নিতে পারে।

তবে বিচারহীনতার সস্কৃতি এই জন্য দায়ী বলে মনে করেন বিশিষ্ট আইনজীবী ডক্টর. শাহদীন মালিক । নিকট অতীতে এইরকম একাধিক উদাহরণ রয়েছে, যেমন নাসিরনগরে তান্ডব, কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা ও সম্প্রতি প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্র ঠেকানোর ভুয়া খবর এই ঘটনা এর প্রমাণ।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিত দেলোয়ার হোসেণ সাঈদী কে চাঁদে দেখে গিয়েছে বলে প্রচার করে জামায়েত শিবিরে নেতা কর্মীরা, এতে গ্রামের সহজ সরল মানুষের ধর্মীয় অনুভুতি কাজে লাগিয়ে মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দিতে সক্ষম হয়। এই ঊত্তেজনা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে ২ পুলিশসহ অন্তত ৪০ জন মানুষ নিহত হয়। এই ঘটনায় পুলিশ আজ পর্যন্ত সুষ্ট তদন্ত শেষে কাঊকে বিচারে কাটগড়ায় দাড় করাতে পারেনি।তিনি আরো বলে, এর সঙ্গে জড়িতদের কঠোর আইনের আওতায় আনা না গেলে সমাজে নানা সন্দেহ ও সংশয় বাড়বে। বিশ্বাস-অবিশ্বাস ও সন্দেহের দেয়াল শক্ত হবে। এমনকি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের জন্য তা হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের ডিসি আলিমুজ্জামান বলেন, অপরাধী বিচারের মুখমুখি করায় পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। দক্ষ জনবল ও অপরাধের ধরনের কারনে বেশিরভাগ সময় মামলাগুলো দীর্ঘসুত্রতায় জড়িয়ে যাচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে প্রোপাগান্ডা সৃষ্টিকারী অধিকাংশ আইডির আইপি ঠিকানা দেশের বাইরে,আর এই কারনে এদের অধিকাংশ ধরা ছোঁয়ার বাহিরে থেকে যায়। এছাড়া ফেসবুক বা গুগলের কাছে তথ্য চাওয়া হলে তা সহজে পাওয়া যায় না, যেটা নাসিরনগরের বেলায় দেখা গেছে। 

ফেসবুক বা গুগল তারা নিজেদের আমেরিকার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলে, আমরা কেবল তাদের অনুরোধ করতে পারি। তারা নিজেদের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী নিজেদের কাজগুলো করে থাকে। তবে অনেক সময় ফেসবুক ও গুগল আমাদের অনুরোধ রক্ষা করে না। পুলিশের পক্ষ থেকে এইসব প্রোপাগান্ডা রোধের জন্য বিশেষ যুন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি বিদেশ থেকে আমদানির অনুমতি চেয়ে সরাষ্ট মন্ত্রনালয় আবেদন করা হয়েছে, এখন যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি জানান।

এই ক্রয়ের মধ্যে অন্যতম প্রযুক্তি হচ্ছে ''ওপেন সোর্স ইন্টিলিযেন্স'' সংক্ষেপে OSINT, যার মাধ্যমে যে কোন সাইবার অপরাধী অবস্থান শনাক্ত করা পুলিশের মাত্র সময়ের ব্যাপার হবে বলে মনে করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ভার্চুয়াল জগতে প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিয়ে গুজব ছড়ানোর বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছে বলে তিনি জানান। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের শনাক্তের কাজও শুরু হয়েছে। যারা নিজের পরিচয় প্রকাশ করেই এসব প্রোপাগান্ডা করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে লন্ডন, মধ্যপ্রাচ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি-জামাতের শতাধিক আইডি আমরা ইতোমধ্যে চিহ্নিত করতে পেরেছি।

অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, সম্প্রতি প্রধান বিচারপতির ছুটির ইস্যুকে কেন্দ্র করে কথিত সোনালী টিভি, এআর টিভি, দূরবীন টিভি,এসকে টিভি, রিয়েল নিউজ টোয়েন্টিফোর ডট কম ভয়ঙ্কর সব গুজব ছড়িয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রচার করে। গত ৩ অক্টোবর কথিত দূরবীন টিভির বরাত দিয়ে ইউটিউবে পাওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ''মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে এসকে সিনহাকে আটক করা হচ্ছে''। অশুদ্ধ বাংলা উচ্চারণে সেখানে আরও বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সিনহাকে 'সুপারসনিক গতিতে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে'। ওই ভিডিওটি দেখেছেন ১২ লাখ আট হাজার ৮৬৮ জন। 

আরটিভির আরেকটি বানোয়াট খবরের শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘এই মাত্র পাওয়া খবর, প্রধান বিচারপতি নিখোঁজ।’ ইউটিউবে এই ভিডিও হিট করেছেন ১১ লাখ চার হাজার ৭৭১ জন। এ গুজবে অনলাইনে হিট করেন ১০ লাখ ৪৮৪ জন। পদ্মা সেতু নিয়ে একটি গুজব ছড়ানো হয় কথিত এসকে টিভি নামে প্রচারিত ভিডিওতে। সেখানে বলা হয়, ‘পদ্মার তলদেশে দানব গিলে খাচ্ছে পিলার।আতঙ্কে সবাই’ ! এ ছাড়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নির্যাতনকে কেন্দ্র করেও ভুয়া ছবি ব্যবহার করে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হয়েছে। এতে মিয়ানমার লাভবান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা। কারণ, তারা বিশ্বকে বোঝানোর চেষ্টা করছে রোহিঙ্গা নির্যাতনের যে ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে তা সঠিক নয়।

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বিমান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন- এমন ভুয়া খবর প্রকাশের সূত্র ধরে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলামেইল২৪ ডটকমের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. সাহাদাত উল্যাহ খান, নির্বাহী সম্পাদক মাকসুদুল হায়দার চৌধুরী ও সহ-সম্পাদক প্রান্ত পলাশকে ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে আটক করছে’ র‌্যাব। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা পোস্ট দিয়ে গুজব ছড়ানোয় গ্রেফতার করা হয় বিএনপি নেতা তানভীর সিদ্দিকীর ছেলে ইয়াদ আহমেদ সিদ্দিকীকে। নেদারল্যান্ড থেকে ঢাকায় ফিরলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধের ঘটনায় ২৬টি মামলা রয়েছে। আরও যাদের নাম ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো হচ্ছে তারা অনেকেই বিদেশে অবস্থান করছেন। বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এ তালিকায় সরকার বিরোধী মতের সাংবাদিক-ব্লগারদের নাম বেশী বলে সূত্র জানায়।

এরা হলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী -‘‘ ইমরান আনসারী, আবু সাকের নোমান, আশিক ইসলাম, ইসতিয়াক ফিরোজ’’ । যুক্তরাজ্যে প্রবাসী - ‘‘ সাংবাদিক ও ব্লগার মাহবুব আলী খানশূর, সাবেক আমার দেশে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমান, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ব্লগার মোঃ তানজিল ইসলাম , মহিউদ্দিন খান , মুশফিকুল ফজল আনছারী, মাহবুবুর রহমান, এসএম শামসুর রহমান, সাবেক ছাত্রদল নেতা ও ব্লগার হাবিব ইবনে আজিজ, হেভেন খান, শিবির নেতা পারভেজ মল্লিক, আল নাহিয়ান বিন মুরাদ, গণজাগরণ মঞ্চের  নেতা জাহাঙ্গীর আলম শিমু, কামরান জাকি বিল্লাহ,  মোশাররফ হোসেন ভুইয়া,  আবু তালেব (রায়হান), ফয়সাল আহমদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক লাকি আহমেদ, আবদুর রহিম, সাবেক ছাত্রদল নেতা সালমান সাদী, রাকিবুল ইসলাম,শিবির নেতা এসএম মাহাবুব ,সাবেক ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ রিফাত মাহমুদ ভুঁইয়া, শেখ বুরহান, মিজানুর রাহমান ফরমান, হাসান মোরশেদ ” ।  ফ্রান্সের - “ যাহিদুল ইসলাম যাহিদ, জুয়েল রানা” ।এছাড়াও ইটালীর সফিকুর রহমান, ফিনল্যান্ডে শরিফ মাসুম, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবদুর রহমান, কলিম উদ্দিন, আলাউদ্দিন, সাবেক ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম বাবুল, ওয়াহিদ নবী, সোদি আরবে গোলাম কবির রিয়াদ, মালেশিয়ার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম,আসাদ প্রমুখ। 

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুক ও বিভিন্ন ওয়েব সাইট এ  যে ৯৩ আইডি বা পেইজ থেকে বেশি গুজব ছড়ানো হয়, তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ‘কামরুল ইসলাম, ফারাজী আন্দোলন, রসিক হাকিম ডট, বাশেরকেল্লা, নির্যাতিতা ডট কম  , জনতার ডট কণ্ঠ, অফিসিয়াল ডট জেসিডি বিডি, আবদুল বারেক ডট মিয়া ডট ফাইভ, ইয়থ পলেটিসিয়ান অফ বিনপি ,ফোর বাংলাদেশ, তুহিন ডট মালিক ডট ডক্টর, উইআর দ্য পিপল উইথ জ্যাকব মিলটন, ইসলামিক নিউজএসটিভিবিডি, বিডিডিএডব্লিউএনফোর, বিডিনেটওয়ার্ক টু, বাঁশের কেল্লা, রফহান্নান, কুমিল্লা জেসিডি, মিনা ডট ফারাহ ডট টোয়েন্টিফোর, চেঞ্জ বাংলাদেশ, সানি আহমেদ বিডি সেভেন, রোমান ডট রায়হান ডট সিক্সটিন, বুলবুল ডট খান ডট, নাফিস ডট হোসেন ডট টেন, টুসি ডট তালুকদার, সাইদ ডট সাতকানিয়া, নিজাম ডট চৌধুরী ডট, কামাল ডট শেখ ডট , টিপু ডট সুলতান ডট, প্রোফাইল ডট পিএইচডি, ক্যাপটেন নিমো, পিনাকি ডট ভট্টাচার্য ডট নাইন, জেড ফোস, বশির ডট সাফারি ডট ফাইভ, সুমনআকন, বাবরুল ডট আলম ডট ফাইভ, আলী ডট আশরাফ ডট প্রভৃতি। কিছু কিছু ওয়েব সাইট থেকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিক্ষামন্ত্রীসহ সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের ছবি অশালীনভাবে ব্যবহার করে প্যারডি ভিডিও ছাড়া হয়েছে।

গোয়েন্দাদের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, এসব আইডির অধিকাংশের ইন্টারনেট প্রটোকল ঠিকানা (আইপি) দেখা যায় মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে। খুব অল্প অর্থে ডোমেইনের জন্য এসব সাইটের হোস্টিং কেনা যায়। কখনও একটি ওয়েব  সাইটের পেছনে মাত্র এক ডলার খরচ হয়। অল্প অর্থের বিনিময়ে কথিত খবর ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব, যাকে বলা হয় ‘বুস্ট’।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু ইউটিউবসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য বা ছবি দেখে বাংলাদেশের মানুষকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইউটিউবে যার যা খুশি প্রচার করছে। সেখানে ভুল তথ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি করেন এমন একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, জনপ্রিয় তারকাদের ছবি ব্যবহার করে ভুয়া পরিচয়ে ফেইক ফেসবুক পেজ খোলা হয়। 

মূলত এসব পেজ থেকে যারা গুজব ছড়ায়, তাদের ৮০-৯০ শতাংশের টার্গেট সরকার, প্রশাসন ও মুক্তিযুদ্ধ। অনেকে সরকারের জনপ্রিয় পরিকল্পনাকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে থাকে। এতে সংশ্নিষ্টদের ধারণা, গুজব ছড়ানোর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের হাত রয়েছে। নিজের পরিচয় লুকাতে অনেক কুৎসা রটনাকারী ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করেন। আইন অনুযায়ী অনলাইনে গুজব ছড়ালে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে ৫৭ ধারার মামলার বিধান রয়েছে। অনেকে মনে করেন, ৫৭ ধারার প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তথ্যপ্রযুক্তির এহেন অপব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

Ads
Ads