বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর মৃত্যুতে এরতেজা হাসানের শোক

  • ১৮-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এফবিসিসিআই পরিচালক, ভোরের পাতা এবং দ্যা পিপলস টাইমস সম্পাদক ড. কাজী এরতেজা হাসান। 

শনিবার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
শোকবার্তায় ড. এরতেজা হাসান বলেন, সাতক্ষীরার সন্তান হিসাবে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর কাছে আমার অনেক ঋণ। তার মতো নীতিবান, আদর্শিক ও সৎ মানুষের সংস্পর্শ আমার জীবন চলার পথে শক্তি যোগাবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেন বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করেন এই দোয়া করছি। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জন্য গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি। 

বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীকে সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে  সিদ্দিকীকে দাফন করা হবে।

বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ১৯৫০ সালের ৩০ মে সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৬ সালে এসএসসি ও ১৯৬৮ সালে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ১৯৭৩ সনে স্নাতক (সন্মান) এবং ১৯৭৪ সনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৫ সনে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

১৯৭৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর মুন্সেফ হিসেবে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগদান করেন বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী। পরবর্তীতে সাব জজ, ডেপুটি সেক্রেটারি, হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার, জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২২ আগস্ট ২০০৪ সন পর্যন্ত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার ছিলেন। বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী ল' কমিশনের প্রথম সেক্রেটারি এবং ১৯৯৬ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের তৎকালীন আইন উপদেষ্টা প্রয়াত ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমদের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অস্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী। দুই বছর পর তিনি স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ২৯ মে ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় হাইকোর্ট বিভাগ থেকে তিনি অবসর নেন।

দায়িত্ব পালনকালে বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী অনেক আন্তর্জাতিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ট্রেনিং প্রোগ্রাম ও কোর্সে অংশগ্রহন করেন। সেই সুবাদে তিনি নেদারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, থাইল্যান্ড, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফ্রান্স, পাকিস্তান, সুইজারল্যান্ড, ভারত, সিঙ্গাপুর, অস্টেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন।

বিচারপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিকীর বাবা আব্দুল ওহাব সিদ্দিকী তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের কলকাতায় ৩০ ও ৪০ এর দশকে প্রথিতযশা সাংবাদিক, সম্পাদক ও সাহিত্যিক ছিলেন। তাঁর মাতা বদরুন্নেসা সিদ্দিকী ছিলেন ধর্মপ্রান মানুষ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও আত্মীয় স্বজন সহ অনেক গুনগাহী রেখে গেছেন।

Ads
Ads