মাওলানা সাদ কান্ধলভী বিরোধী আহমদ শফীর সমাবেশে ছিলেন না তাবলিগের শুরা সদস্যরা

  • ২৭-Jul-২০১৮ ০১:০০ অপরাহ্ন
Ads

হেফাজত আমির শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে তাবলিগ জামাত নিয়ে কওমি আলেমদের যে পরামর্শ সভা (ওয়াজাহাতি জোড়) নামে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে যোগ দেননি তাবলিগের কোনও শুরা সদস্য। মূলত তাবলিগের ভারতীয় মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিরোধী তাবলিগ ও হেফাজতপন্থী কওমি আলেমরা এ সমাবেশের আয়োজন করেন। সভা থেকে আলেমদের পক্ষে ৬টি সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত যে এ পরামর্শ সভার আগেই নেওয়া হয়েছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় সমাবেশে বিতরণ করা লিফলেটে সিদ্ধান্তগুলো মুদ্রিত দেখে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শনিবার (২৮ জুলাই) এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে কাকরাইল মারকাজে শুরা সদস্য রয়েছেন ১১ জন। এর মধ্যে দিল্লির নেজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সা’দ কান্ধলভির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন মাওলানা মোজাম্মেল হক, সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, খান সাহাবুদ্দিন নাসিম, মাওলানা মোশাররফ, ইউনুস শিকদার, শেখ নুর মোহাম্মদ। অন্যদিকে, মাওলানা সা’দ কান্ধলভির বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন মাওলানা যোবায়ের, মাওলানা রবিউল হক, মাওলানা মোহাম্মদ হোসেন, মাওলানা ওমর ফারুক। তবে এই দু’পক্ষের বিরোধের মধ্যে নেই মাওলানা মোহাম্মদ ফারুক।

ওই বৈঠকে তারলিগের শুরা সদস্যদের কেউ উপস্থিত না হলেও দেশের বিভিন্ন স্থানের তাবলিগ কর্মী ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।  উপস্থিত ছিলেন তাবলিগের দ্বিতীয় সারির মুরব্বিরা।  এর মধ্যে ছিলেন মাওলানা আব্দুল মতিন, মাওলানা নুর রহমান, মাওলানা আব্দুল বার, মাওলানা আবু জাফর, মাওলানা আব্দুর রহিম প্রমুখ।

অন্যদিকে, তাবলিগ জামাতের সংকট নিরসনে পাঁচজন কওমি আলেমকে পরামর্শক ও উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয় ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর। এর মধ্যে রয়েছেন  আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কো-চেয়ারম্যান আশরাফ আলী, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম মাদানিয়া যাত্রাবাড়ির মুহতামিম ও গুলশান সেন্ট্রাল (আজাদ) মসজিদের খতিব মাহমূদুল হাসান, শোলাকিয়া ঈদগাহের খতিব  ফরীদ উদ্দিন মাসউদ, কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আব্দুল কুদ্দুছ, মারকাজুদ দাওয়াহ বাংলাদেশের আমীনুত তালীম মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক। তবে এর মধ্যে মাহমূদুল হাসান ও ফরীদ উদ্দিন মাসউদ উপস্থিত ছিলেন না এ সমাবেশে।

এ সমাবেশে হেফাজত আমির ছাড়াও উপস্থিত হওয়া হেফাজতপন্থী কওমি আলেমদের মধ্যে ছিলেন জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল আশরাফ আলী, ঢাকা মহানগর হেফাজত সভাপতি জামিয়া বারিধারার মুহতামিম নূর হোসাইন কাসেমী, মারকাজুদ দাওয়ার আমিনুত তালিম মুফতি আবদুল মালেক, কিশোরগঞ্জ জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহাতামিম আজহার আলী আনোয়ার শাহ, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, শাইখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মুফতি মিযানুর রহমান সাঈদ, হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জামিয়া রাহমানিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক, হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও লালবাগ জামিয়ার মুহাদ্দিস মুফতি ফয়জুল্লাহ, বসুন্ধরা ইসলামিক রিসার্চ সেন্টারের প্রধান মুফতি এনামুল হক, বারিধারা মাদরাসার মুহাদ্দিস মুফতি ওবায়দুল্লাহ ফারুক, আরজাবাদ মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, উত্তরা আল মানহাল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আযহারী, হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল হক, শাহ আহমদ শফী ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী প্রমুখ।

Ads
Ads