গোলের পর তপু-ফয়সালদের এমন উদযাপনের আসল কারণ

  • ৭-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

ম্যাচটা গোলশূন্য ড্রয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল। বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলের কোনোটিই জাল পর্যন্ত যেতে পারছিল না। অবশেষে এলো কাঙ্খিত গোল। ম্যাচের অন্তিম মূহুর্তে। 

তপু বর্মণের হেডে গোল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের ১৬ হাজার দর্শক তখন উল্লাসে গর্জন করে ওঠে। গোল করেই জার্সি খুলে ভোঁ দৌড় দেন তপু। তার পেছনে ছোটেন বাকিরাও। এতেই উদযাপন শেষ হয়নি কিন্তু!

মাঠে উপস্থিত ও টিভি সেটের সামনে বসে থাকা দর্শকরা তখন দেখল অবাক করা এক দৃশ্য। হঠাৎ করেই তপু বর্মণের সামনে ওয়ালি ফয়সালসহ আরো কয়েকজন দাঁড়িয়ে গেলেন। ম্যাচ জয়ের নায়ক তপু তখন হাঁটু গেড়ে গুলি করার ভঙ্গি করলেন।

সঙ্গে সঙ্গে মাঠের মধ্যে পড়ে গেলেন ওই সতীর্থরা, যেন গুলি লেগেছে তাদের বুকে। এ যেন মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের প্রতীকী উদযাপন। ম্যাচের জয় ছাপিয়ে গেল এই উদযাপন।

দর্শকরাও করতালির মধ্য দিয়ে স্বাগত জানান তপু-ফয়সালদের এই উদযাপন। দেশপ্রেমী উজ্জীবিত দর্শকদের গায়ের লোম দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। কারো কারো চোখেও জল এনে দিয়েছে।

ম্যাচ শেষে তপু জানালেন, ওয়ালি ফয়সালের পরিকল্পনাতেই এমন উদযাপন।

ম্যাচ শেষে উদযাপনের বিষয়ে তপু বর্মণকে প্রশ্ন করা হলে রক্ষণভাগের অতন্দ্র এই প্রহরী বলেন, ‘আমার আগেরই পরিকল্পনা ছিল এই ম্যাচে গোল পেলে জার্সি খুলে উদযাপন করব। আর গুলি করার পরিকল্পনাটা ওয়ালি ফয়সাল ভাইয়ের। তিনি আমাকে বলেছেন, তুই গুলি কর। আমরা স্পট ডেট হব। আমি গুলি করি আর তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।’

ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও গোল পেয়েছিলেন তপু। তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে গোলটির মাহাত্ম্য তার কাছে একটু বেশিই।

সংবাদ সম্মেলনেও এই ডিফেন্ডারের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছিল তৃপ্তির ঝিলিক। তিনি বলেন, সেমিফাইনালের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি। এই আনন্দ অন্য রকম, তাও আবার গোলটি আমার করা। চিন্তা করতেই কেমন জানি লাগছে।

/ই

Ads
Ads