যেভাবে সেনাবাহিনীতে চাকুরির প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতো তারা!

  • ২৫-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মো. সৈকত এ নীলয় চক্রের প্রধান পরিকল্পনাকারী। তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছে সেনাবাহিনীর পোশাক পরিহিত অবস্থায় নিজেকে উপস্থাপন করতেন কর্মরত মেজর হিসেবে। তার অভিনয়ের মাধ্যমে মানুষ বিশ্বাস করতো যে তিনি সেনাবাহিনীর একজন কর্মরত মেজর। 

এমন সুযোগে সাধারণ ছাত্র, বেকার যুবক, দরিদ্র ছাত্রদের সেনাবাহিনীতে চাকুরি দেয়ার কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি। নীলয় প্রাথমিকভাবে সেনাবাহিনীর একটি নিয়োগপত্র দেখাত এবং এতে নিজে একটি পদে চাকুরি দিতে পারবে বলে জানাতো। রাজি হলে মোটা অংকের টাকা দাবি করতো। টাকা পরিশোধ হলে পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগপত্রে নিজের স্বাক্ষর বসিয়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে চাকুরিপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে নিয়োগপত্র পাঠিয়ে দিতো।

রবিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে সোমবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁও, মহাখালী, বসুন্ধরা ও মিরপুর থেকে অভিযান চালিয়ে দুজন ভুয়া মেজরসহ একটি প্রতারকচক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-২। এ সময় তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ আর্মির পোশাক, মোবাইল, সিমকার্ড, পেন্ড্রাইভ, পাওয়ার ব্যাংক, নগদ টাকা ও বেশ কিছু ভুয়া নিয়োগপত্রও উদ্ধার করে র‍্যাব। 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. জামাল (৩৪), মো. সৈকত এ নীলয় (২৬), মো. সাজ্জাদ হক সৌরভ (২৪), নাজমুল আলম ভূইয়া (২৯), মো. মাসুদ মুন্সি (৩৫), শামীম আহম্মেদ (২৮), মাসুদ রানা (২৩) এবং শাকিল আহম্মেদ (২৭)। 

মঙ্গলবার (২৫ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব-২ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক ব্রেকিংনিউজকে জানান, র‌্যাবের কাছে বেশ কিছু জায়গা থেকে এই ধরনের প্রতারণার কিছু তথ্য আসার পর বিষয়টি  নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করে। আগারগাঁও পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসের সামনে থেকে ভুয়া মেজর পরিচয় দানকারী চক্রের অন্যতম মো. জামালকে (৩৪) গ্রেফতার করা হয়। জামালের দেয়া তথ্য অনুযায়ী চক্রের বাকি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকুরি দেয়ার নামে প্রার্থীদের নিকট হতে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত এবং পরবর্তীতে তাদেরকে চাকুরি না দিয়ে বিভিন্নভাবে প্রতারণা করে আসছিল।

এ ব্যাপারে র‍্যাবের সহকারী পরিচালকব ব্রেকিংনিউজকে জানান, মো. সাজ্জাদ হক সৌরভ এই চক্রের ২য় পরিকল্পনাকারী, সে নিজেকে ডিজিএফআই'য়ের অফিসারের পরিচয় দিত। সে ভুয়া চাকুরিপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ভেরিফিকেশনের জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিত। সে সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়দানকারী সৈকত এ নীলয় এর পরামর্শে ডিজিএফআই এর মনোগ্রাম ও সিল ব্যবহার করে চাকুরিপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে ডাকে অথবা কুরিয়ারের মাধ্যমে ভেরিফিকেশনে সার্টিফিকেট প্রেরণ করতো।

র‍্যাবের এএসপি জানান, মো. জামাল পেশায় একজন ড্রাইভার। গাড়ি চালানোর পাশাপাশি এই চক্রের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়ে সে। তার কাজ ছিলো সাধারণ মানুষদেরকে ফাঁদে ফেলে, সেনাবাহিনীর বড় কর্মকর্তা তাহার আত্মীয় ও আর্কষনীয় বেতনের কথা বলে লোভে ফেলা। কখনও কখনও গাড়ি চালানোর পাশাপাশি খোস গল্পের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলতো। এই ভাবেই তিনি ছাত্র, বেকার যুবক, দরিদ্র ছাত্রদের জোগার করতো। তার মূল কাজ ছিলো সাধারণ ছাত্র, বেকার যুবক, দরিদ্র ছাত্রদের এই প্রতিষ্ঠানে আনা এবং ভুয়া মেজর সৈকত এ নীলয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া। 

পরবর্তীতে সেনাবাহিনীতে বিভিন্ন পদে চাকুরী দেওয়ার প্রলোভন এবং ভুয়া নিয়োগপত্র দেখাত। জামালের মূল কাজ ছিল গ্রাম থেকে শহরমুখি ছাত্র, দারিদ্র ছাত্র, বেকার যুবকদের টার্গেট করে ভুয়া মেজর সৈকত এ নীলয় পর্যন্ত আনা।

মোহাম্মদ সাইফুল মালিক আরও বলেন, ‘নাজমুল আলম ভূইয়া নিজেকে মেজরের পি,এস (ব্যক্তিগত সহকারী) হিসেবে পরিচয় দিত। সে চাকুরিতে নিয়োগপাপ্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে সকল প্রকার টাকা বিকাশে ও কুরিয়ারের মাধ্যমে লেনদেন করতো। বেশি অংকের টাকা হলে আসামি (মাসুদ, শামীম, মাসুদ রানা ও শাকিলদের) সাথে নিয়ে যেত। তাদের গার্ড হিসেবে ব্যবহার করা হত। তারা সকলেই সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সক্রিয় সদস্য।

Ads
Ads