আমরা খানা খন্দের মধ্যে নির্বাচনে আছি: ফখরুল

  • ১৫-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপি মহাসচিব ও বগুড়া সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবারো  সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়ে বলেছেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশনা ছাড়া কোন কাজ করতে পারছে না। তারা ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। তারা সব দলের জন্য নির্বাচনী সমতল ভূমি তৈরি করতে পারেনি। দেশে সমতল ভূমি নেই , সম্পূর্ণ খানা খন্দে ভরা । আমরা সেই খানা খন্দের মধ্যে নির্বাচনে আছি। তাই সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে হবে।  

শনিবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বগুড়া শহরের উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে দেশের সার্বিক নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বগুড়া হচ্ছে আপোসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের এলাকা। এখানে সারাদেশের ন্যায় ধানের শীষের গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ধানের শীষের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। গণতন্ত্রের জন্য বগুড়ার মানুষ একত্রিত হয়েছে। তাই যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন জনগণ রুখে দাঁড়ালে কোনো অপশক্তি জিততে পারবে না।

তিনি বলেন, পরাজয়ের ভয়ে সরকার জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট কেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়ার অপচেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষ পরিবর্তন চায়। জনগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে গণতন্ত্রের বিজয় হবেই।

ফখরুল বলেন, ১০ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে। কিন্তু এই নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, যে তত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ আন্দোলন করেছিল, ক্ষমতায় গিয়ে মেজরিটির জোরে সেই ব্যবস্থা বাতিল করেছে। এরপর থেকে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।

তিনি আরো বলেন, সর্বশেষ সরকারের সাথে সংলাপে গ্রেফতার বন্ধ ও প্রশাসন নিরপেক্ষ থাকার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাও রক্ষা করা হয়নি। বর্তমানে সারাদেশে প্রার্থী ও কর্মীদের উপর হামলা, মামলা চলছে। একদিকে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র, অপরদিকে আমরা জনগণকে সাথে নিয়ে মাঠে আছি। আমরা শেষ পর্যন্ত দেখব। সংবাদ সম্মেলনের পর মির্জা ফখরুল তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়া সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে প্রচারণায় অংশ নেন।

দেশে বর্তমানে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন কমিশন অসহায়। পুলিশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানছে না। সরকারের নির্দেশে চলছে পুলিশ প্রশাসন। এরপরও নির্বাচনী মাঠে আছি আমরা। জনগণ আমাদের সঙ্গে আছে। 

ত্বত্তাবধায়ক সরকারের জন্য আওয়ামী লীগ জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে সঙ্গে নিয়ে ১৭৩ দিন হরতাল করেছিলো উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের সেই দাবি মেনে নিয়ে বিএনপি তখন ত্বত্তাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছিলো।

‘সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে তিনটি নির্বাচন হয়েছে। নির্বাচনগুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের প্রশ্ন তোলেনি। অথচ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিলো। ২০১৪ সালে ভোটারবিহীন নির্বাচন করলো’।

 

/কে 

Ads
Ads