তারেককে ফখরুল: কোমরে রশি বেঁধে শেখ হাসিনা আপনাকে দেশে আনবে

  • ১০-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

উৎপল দাস
এবার মির্জা ফখরুলের অন্যরূপ দেখলেন তারেক জিয়া। লন্ডনে পলাতক বিএনপির এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে রীতিমতো ধমকালেন বিএনপি মহাসচিব। বললেন, ‘ক্ষমতা তো দূরের কথা, কোমরে রশি বেঁধে শেখ হাসিনা আপনাকে দেশে আনবে। জেলেই জীবন যাবে। আর বাড়াবাড়ি করবেন না, প্লিজ। আমাদের কথা শুনুন।’ আজ দুপুরে লন্ডনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে এসব কথাই বলেন ফখরুল। 

মনোনয়ন নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতে কথা হয় তাদের। শুধু কথা নয়, কিছু আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করা হলে নিজেই নির্বাচন থেকে সরে যাবেন বলে সাফ জানিয়ে দেন। বলেন, ‘আমি পোস্টবক্স হতে চাই না। দলে কি হচ্ছে আপনি বুঝতে পারছেন না।’ 

গতকাল শনিবার থেকেই মনোনয়ন নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বিএনপিতে। নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং তালা লাগানোর ঘটনা ঘটে। তবে সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা তৈরি হয়েছিল দলের চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে। এখানে দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতাদের আটকে রাখা হয়, গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বিএনপির সিনিয়র নেতারাও বুঝতে পারেন দলের অনেক ত্যাগী, দুঃসময়ের কাণ্ডারির প্রতি অবিচার করা হয়েছে। এসময় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের সিনিয়র নেতাদের বলেন, ‘এগুলো মেনে নেওয়া যায় না। যারা দলের জন্য কষ্ট করল, তাঁদের বাদ দেওয়াটা অনৈতিক।’ রাতে সিনিয়র নেতারাও ফখরুলের সঙ্গে সহমত পোষণ করেন। অবরুদ্ধ অবস্থা থেকেই বিএনপি মহাসচিব কথা বলেন তারেক জিয়ার সঙ্গে। কিন্তু তারেক জানিয়ে দেন আসন পরিবর্তন সম্ভব নয়। এসময় সিনিয়র নেতারা পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। দলের উপর নেতিবাচক প্রভাব পরবে বলেও তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে জানান। এসময় তারেক জিয়া বলেন, আপনারা কি কি পরিবর্তন করতে চান কাল আমাকে জানান। এরপর বিএনপি মহাসচিব জামাতকে ২৫টির পরিবর্তে ১৯টি আসনের চিঠি দেন। বিক্ষুব্ধ কয়েকজন প্রার্থীকে টেলিফোন করে আশ্বস্ত করেন। 

আজ দুপুরে মির্জা ফখরুল আবার লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি ৫ টি আসনে পরিবর্তনের অনুরোধ করেন। এর মধ্যে চাঁদপুর-১ এ এহসানুল হক মিলনকে, মানিকগঞ্জ-১ আসনে খন্দকার আবদুল হামিদ ডাবলুকে, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে তৈমুর আলম খন্দকারকে এবং চুয়াডাঙ্গায় শামসুজ্জামান দুদুকে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কিন্তু তারেক জিয়া এসব দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানালে, ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বিএনপি মহাসচিব। বিশেষ করে, গত ১০ বছর বিএনপি কীভাবে টিকে আছে তা স্মরণ করিয়ে দেন। এসময় তারেক জিয়া তাঁকে মনোনয়ন নিয়ে মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দিলে, বিএনপি মহাসচিব পদত্যাগের হুমকি দেন। শেষ পর্যন্ত অবশ্য মির্জা ফখরুলের কিছু দাবি মেনে নেন তারেক জিয়া।

Ads
Ads