পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠকের খবর নাকচ করলেন ফখরুল

  • ১০-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

পাকিস্তানের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের বৈঠক ও লন্ডনে আইএসআই’র সঙ্গে তারেক রহমান বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের এমন বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

ফখরুল বলেন, প্রথমে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, পরে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা নাকি পাকিস্তানি দূতাবাসের সঙ্গে বসেছি। আব্দুর রহমানকে না হয় বাদ দিলাম। তিনি তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। ওবায়দুল কাদের সাহেব এর মতো দায়িত্বশীল নেতা মুখ দিয়ে এমন চরম জঘন্য মিথ্যাচার শুধু অপ্রত্যাশিতই নয়, এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

সোমবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন,  দৃঢ়ভাবে বলতে চাই এ ধরনের কোনো বৈঠক লন্ডনেও হয়নি। এটি বিএনপিকে হয়ে করা। এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাহার করার দাবি জানাই। অন্যথায় আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হব।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো সংস্থা ও দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে ক্ষমতায় আসে না। বিএনপি বরাবরই নিজেদের যোগ্যতায় জনগণের ভোটে ক্ষমতায় আসে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভয়াবহ কঠিন সময়ে একটি অসমতল ভূমিতে আমরা নির্বাচন করতে যাচ্ছি। বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার ১০ মাস হতে চলছে, আমরা দলকে, জোটকে, ফ্রন্টকে ঐক্যবদ্ধ রেখে আমরা প্রায় ৩শ আসনে মনোনয়ন দিতে সক্ষম হয়েছি। সরকারসহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে প্রহসন করার জন্যই এই সরকার সমস্ত আয়োজন করেছে। রিটার্নিং অফিসাররা আমাদের প্রার্থীদের বাদ দিলেও হাইকোর্টের নির্দেশনায় আমরা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছি।

৫৮টি অনলাইন পোর্টাল ও ওয়েবসাইট বন্ধে বিটিআরসি’র প্রস্তাবের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের অনেক সোস্যাল অ্যাকটিভিস্টদের গুম করে ফেলা হচ্ছে, কারাগারে দেয়া হচ্ছে। সমস্ত স্বাধীন চিন্তা, মুক্ত চিন্তা, বাকস্বাধীনতা হরণ করে নিয়েছে। ৫৮টি মিডিয়া বন্ধ করে দিয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তার কালো আইনের মাধ্যমে স্যোশাল মিডিয়ার ওপরে আঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি জোট ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করা হবে। এটা আমরা আগেও বলেছি,  এখনও বলছি।

সজিব ওয়াজেদ জয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে ব্যঙ্গ কার্টুন দেখিয়ে ফখরুল বলেন, কার্টুন প্রকাশ দোষের কিছু না। কিন্তু যখন তারা এসব কার্টুন প্রকাশ করে তখন সরকার কোনো ব্যবস্থা নেয় না। আমরা করলেই গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও কোনো সমতল ভূমি নেই উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের সব নেতাকর্মীদের আগের মতোই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং দুর্ভাগ্যজনকভাবে আদালতকে ব্যবহার করা হচ্ছে। খালেদা জিয়া জামিন পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। 

তিনি বলেন, আমাদের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন এমন কয়েকজনকে এখনো কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। এদের মধ্যে আছেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, রাজশাহীর প্রার্থী আবু সাঈদ চাঁদ।

ফখরুল বলেন, দেশকে রক্ষা করতে হলে, জাতিকে রক্ষা করতে হলে মিডিয়ার দায়িত্ব হলো, সঠিক সংবাদ প্রচার করা। আমাদের এখানে সামান্য বিক্ষোভ হলে মিডিয়া ফলাও করে প্রচার হয়। আওয়ামী লীগের কোন্দলে ২২ জন নিহত হয়েছে, যা আসেনি।

তিনি বলেন, এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি দেশকে সত্যিকার অর্থে রক্ষা করতে চান নির্বাচনটাকে উন্মুক্ত করুন। যেন সবাই অংশগ্রহণ করতে পারে, অন্যথায় এই দেশ আবারও দীর্ঘকালের জন্য স্বাধীনতা হারাবে, এখান থেকে ফিরে আসেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে কবে নাগাদ নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা প্রচারণা শুরু করব তবে আনুষ্ঠানিকভাবে কখন শুরু করব সেটা এখন বলতে পারছি না।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু,  ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপি নেতা এসএম ফজলুল হক, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান শিমুল, হায়দার আলী লেলিন, তাবিথ আউয়াল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Ads
Ads