আমাদের পরাজয় মানে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়া: কাদের

  • ৬-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমাদের পরাজয় মানে বাংলাদেশে রক্তের বন্যা বয়ে যাওয়া। আমাদের পরাজয় মানে ২০০১ এক সালের অন্ধকার। আমরা কী সে সন্ত্রাস দুর্নীতির অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই?

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউর মহানগর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের যৌথ সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ ২০০১, ২০১৪ সালে যে বিভীষিকা, রক্তপাত, সন্ত্রাস, দুর্নীতি করেছে আমরা সেই অমানিশার অন্ধকারে ফিরে যেতে চাই না। তাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আ.লীগের দশ বছরের কাজ বিএনপি ক্ষমতায় এলে পরিত্যক্ত হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে কাদের বলেন, তারা নাকি পদ্মা সেতুতে উঠবে না, সেটা নাকি জোড়াতালি দিয়ে তৈরি হচ্ছে। ওই পক্ষটি জনগণকেও সেতুতে উঠতে মানা করে দিয়েছে। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি মির্জা ফখরুলকে, আপনাদের এমন কোনও কাজ আছে যে কাজ স্মরণ করে এদেশের মানুষ আপনাদের ভোট দিবে? আপনাদের আছে হাওয়া ভবন, আছে গ্রেনেড হামলা, আছে ২১ আগস্ট, উত্তরবঙ্গে বাংলা ভাই আর বিদ্যুতের নামে খাম্বা। বাংলাদেশের ইতিহাস বলে যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, তারা নির্বাচনেও বিজয়ী হতে পারে না। ১০ বছরে জনগণ কি তাদের আন্দোলনে সাড়া দিয়েছে, জোয়ার কি এসেছে মরা গাঙে?

নির্বাচনে বিএনপি কেন্দ্র পাহাড়া দিতে আসলে আমাদের কেন্দ্র রক্ষা করতে হবে বলে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের বিরোধী শক্তির কাছে রাজনীতির একটা বড় অস্ত্র আছে। সেটা হলো ‌‘ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার’। এই হাতিয়ার ব্যবহার করে অনেক কিছু ভাঙা যায়। সতর্ক থাকতে হবে। তারা আবার ভাঙতে পারে, নাশকতা করতে পারে, সহিংসতা করতে পারে।

তফসিলের পর পল্টনে তাণ্ডব চালিয়ে তারা শুরুটা করে দিয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, ‘তাণ্ডব শুরু করে দেওয়া পক্ষটি নির্বাচনকে ঘিরে দেশ-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্রের পায়তারা করেছে। তারা তো কেন্দ্র পাহাড়া দিবে, আমাদের কেন্দ্র রক্ষা করতে হবে।’

ড. কামাল হোসেন বিএনপির রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি এখন নেতা নন, নির্বাচনও করছেন না। তাহলে তাদের নেতা হচ্ছে পলাতক, দণ্ডিত আসামি তারেক রহমান। তার নির্দেশে কামাল হোসেন সাহেব এখন কথাও বলেন না। তারেক রহমানের নির্দেশে কামাল হোসেন, কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমান মান্না, মোস্তফা মহসিন মন্টু পরিচালিত হচ্ছেন। হায় রে, কি লজ্জা! বাংলাদেশের জনগণ কি এত বোকা? এই মানুষগুলোর অসহায় আত্মসমর্পণ খুনির কাছে, দুর্নীতির কাছে। তারা নাকি পাহাড়া দিতে আসবে, আমরাও কেন্দ্র রক্ষা করবো।

আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে কাদের বলেন, তিনি আওয়ামী লীগকে ৩০ আসনের বেশি দিতে চান না। ২০০৮ সালে পেয়েছিলেন ২৯ সিট। আমরা কিন্তু ক্ষমতায় থেকে প্রতিপক্ষকে এতো সিট দিবো - এই অহংকারী উচ্চারণ একবারও করিনি। ক্ষমতার মালিক আল্লাহপাক, তারপর দেশের জনগণ। জনগণই ঠিক করবে কাকে কত সিট দিবে। আপনার নেত্রী বলেছিলেন আওয়ামী লীগ ১০০ বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। এবারও তো ১০ বছর ছুঁই ছুঁই। তাই যতই আস্ফালন করবেন ততই পতন ঘটবে।

দল ও জোটের মনোনয়ন প্রসঙ্গে কাদের বলেন, আমাদের দলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দলের এবং জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে দলের এবং জোটের মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ করেছি। আজ কালের মধ্যেই চিঠি দিয়ে দিবো। আগামীকাল মনোনয়ন প্রাপ্তরা চিঠি পাবেন আশা করি। এবার প্রার্থী অনেক, তার মধ্যে থেকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করা কঠিন চ্যালেঞ্জ। আমাদের একটা সুবিধা ছিল, আমাদের সভাপতি গত সাত বছর ধরে সার্ভে রিপোর্ট প্রতি ছয় মাস পর পর কালেক্ট করেছেন। ৫-৬টি বিদেশি কোম্পানি এই সার্ভের কাজ করেছে। এই জরিপ রিপোর্টগুলো প্রার্থী নির্বাচনে মূল ভূমিকা পালন করেছে। ছয় মাস পর পর আপডেট করার পর আমাদের প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নিরুপন করতে পেরেছি। এই জরিপ শুধু আওয়ামী লীগের ওপর হয়নি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীর বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর ফলে অন্যান্য দলের জনমত জরিপ বিবেচনা করেছি। শরিকদের সঙ্গেও বোঝাপড়া হয়ে গেছে, আমরা একটা সমঝোতা করতে পেরেছি। মনোনয়ন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে টানাপোড়েন দেখতে পাইনি। যাদের মহাজোট মনোনয়ন দিয়েছে আমি শতভাগ আশাবাদী বিপুল ভোটে বেশির ভাগ আসনে বিজয়ী হবো। কিছু কিছু প্রার্থী বিতর্কের কারণ হতে পারে, এই ভেবে আমরা অনেক প্রার্থীর পরিবর্তন এনেছি। আমাদের মনোনয়নে রাজনীতির বিজয় হয়েছে। কাজেই আওয়ামী লীগের দুশ্চিন্তা নেই। কিছু কিছু জায়গায় ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতে পারে। কারণ জোটের কারণে আমাদের অনেক আসনে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। আমরা আশা করি জোটের মনোনয়ন তারা মেনে নেবেন। এবারের নির্বাচনে আমাদের বিজয়ের বিকল্প নেই।

Ads
Ads