সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আ.লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না: ফখরুল

  • ৩০-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যে মন্তব্য করেছে সে বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ফখরুল বলেন, আমি ওবায়দুল কাদেরের কথার উত্তর দিতে চাই না, কারণ তিনি অবান্তর কথা বলেন।

সুষ্ঠু নির্বাচন চেয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এত কথা বলে কি লাভ? সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনটা দিন না, দেখেন কে কতটা আসনে জেতে? আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, ভোট সুষ্ঠু হলে আওয়ামী লীগ ৩০টির বেশি আসন পাবে না।

নির্বাচন হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে কিনা তা নির্ভর করবে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ওপর। আমরা বিগত ৭ বছর সংবিধান সংশোধনসহ নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছি। আমরা আলোচনা করেছি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও, কিন্তু কিছুই করা হয়নি। সরকার কোনো কর্ণপাত না করে একতরফা নির্বাচন করতে এবং তাদের নীলনকশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা বারবার অভিযোগ করার পরও আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেই চলেছে। এ ছাড়া কোনো ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। এভাবে নির্বাচনের মাঠে খারাপ পরিবেশ তৈরি হলে উদ্ভুত পরিস্থিতির দায় সরকারকেই নিতে হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করছে। আমরা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে সাত দফা দিয়েছিলাম, কিন্তু তারা আমাদের কোনো দাবির প্রতি কর্ণপাত না করে একটি প্রহসনের নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এখন জনগণের সামনে প্রশ্ন এসেছে আদৌ নির্বাচন হবে কি-না। এই প্রহসনের নির্বাচন করে কি লাভ? 

তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকার তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নিম্ন আদালতকে ব্যবহার করছে। তফসিলের পর কোনো গ্রেফতার হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অথচ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে কমিশন কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। তারা সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়ন করে চলেছে। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারকে স্পষ্ট বলতে চাই, গায়েবি মামলায় গ্রেফতার বন্ধ করুন, গ্রেপ্তারদের মুক্তি দিন। অন্যথায় উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতির সব দায়-দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।
                                      
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমরা কাল বা পরশু কমিশনে যাবো,  ফরমালি অভিযোগ করবো, এর আগেও করছি, আবারও করবো। 
        
ভোলায় মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমদ এর বাসায় নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের ক্যাডার বাহিনী হামলা করেছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, পাঁচবার ওবায়দুল কাদেরকে পরাজিত করেছি। ২০০৮ সালে অনেক কারচুপির পর ১৩০০ ভোটে পরাজিত হই। গত দুই ঈদে বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি।  তফসিল ঘোষণার পরে আশা করেছিলাম সবাই নির্ভয়ে কাজ করতে পারবো। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। বলতে চাই নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আমি মনে করি না।

জামায়াত এবং হেফাজত ইসলামীর সম্ভাব্য সহিংসতা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে যে আলোচনা হয়েছে সে বিষয়টি বিএনপি কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে এর জবাব দেন স্থায়ী কমিটির অপর সদস্য আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেন, ‘মার্কিনরা কী দেখে না তাদের রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে কারা কীভাবে হামালা করলো?’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ। 

/ই

Ads
Ads