সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের পথ বন্ধ হচ্ছে

  • ২৮-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচার বন্ধ হচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশটির এন্টি মানি লন্ডারিং এন্ড কাউন্টারিং দ্যা ফিনান্সিং অব টেরোরিজম ইন্ড্রাটি পার্টনারশিপ (এসিআইপি) সম্প্রতি এক সেমিনারের আয়োজন করে। সিঙ্গাপুরের অর্থ বিভাগ, কর্মাশিয়াল এ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্ট, এসোশিয়েশন অব ব্যাংকস ইন সিঙ্গাপুর (এবিএস) এবং ৮ টি প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকের কর্মকর্তারা অর্থপাচার রোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দুটি পেপার উপস্থাপন করেন। 

‘লিগ্যাল পারসন-মিসইউস অব টাইপোলজিস এ্যান্ড বেস্ট প্যাকটিসেস এবং বেস্ট প্যাকটিসেস ফর কাউন্টারিং ট্রেড বেসড মানি লন্ডারিং’ এই দুটি পেপার উপস্থাপন করা হয়। 
উপস্থাপিত পেপার দুটোতে সিঙ্গাপুরে  এন্টি মানি লন্ডারিং এন্ড কাউন্টারিং দ্যা ফিনান্সিং অব টেরোরিজম ইন্ড্রাটি পার্টনারশিপ (এসিআইপি)  দেশটিতে অর্থ পাচার করে ব্যবসায়ে বিনোয়োগ বন্ধের পক্ষে ‍যুক্তি দিয়েছে। 

বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত দিতেও আগ্রহী দেশটি। এমনকি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়েও সহায়তা করবে এই দুই পেপারে উপস্থাপিত সুপারিশগুলো। 

পেপারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১০ বছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে। এ পাচারের বেশির ভাগই গেছে সিঙ্গাপুরে। সেক্ষেত্রে অবৈধ চ্যানেলে টাকা যাওয়ায় বাংলাদেশ এবং সিঙ্গাপুরের মধ্যে স্মরণকালের সবচে বড় বাণিজ্য ঘাটতিও দেখা দিয়েছে।  ৪৭ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সঠিক ব্যাকিং চ্যানেলে টাকা লেনদেন না হওয়াতেই এমনটি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সেমিনারের বক্তারা।

সেমিনারে উপস্থাপিত প্রবন্ধ দুটিতে পানামা পেপারস, প্যারাডাইস পেপারস, ইন্টারন্যাশনাল কনসোরটিয়াম অব জার্নালিস্টস (আইসিআইজি), গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইনট্রিগিটি গত কয়েক বছরে বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কয়েকটি দেশে অর্থ পাচার নিয়ে কাজ করেছে। সেখানে অভিযুক্তদের তালিকায় রাজনীতিবিদ, সেলিব্রেটি এবং ব্যবসায়ীদের নাম উঠে এসেছে। 
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি।  বাংলাদেশের অর্থপাচার রোধে দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)কে  গ্লোবাল ফিনান্সিয়াল ইনট্রিগিটি এবং সুইস ব্যাংক গত কয়েক বছর আগেই জানিয়েছে, বাংলাদেশিদের বিদেশী একাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেন হচ্ছে। 

এদিকে, বাংলাদেশ ইনিস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) বলেছে, বাংলাদেশ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থ পাচার হয় ব্যাংকিং চ্যানেলে। ভুয়া এলসি (লেটার অব ক্রেডিট), ইনভয়েস এবং শিপমেন্টের দলিল দিয়ে এ ধরণের পাচার চলছে। 

সিঙ্গাপুরের এন্টি মানি লন্ডারিং এন্ড কাউন্টারিং দ্যা ফিনান্সিং অব টেরোরিজম ইন্ড্রাটি পার্টনারশিপ (এসিআইপি) বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে কিছু সুপারিশ করেছে। সেগুলোর মধ্যে যেসব বাংলাদেশি নাগরিক সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ করবে তাদের বিষয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন পড়বে। তাহলে বৈধভাবে ব্যাংকিং চ্যানেলে বিনিয়োগ হবে দু’দেশের মধ্যে। তা না হলে দিনের পর দিন বাণিজ্য ঘাটতি বাড়তেই থাকবে। 

তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে অর্থ পাচার রোধে আরো বেশি সজাগ দৃষ্টি রাখারও কথা বলা হয়েছে এন্টি মানি লন্ডারিং এন্ড কাউন্টারিং দ্যা ফিনান্সিং অব টেরোরিজম ইন্ড্রাটি পার্টনারশিপ (এসিআইপি) আয়োজিত সেমিনারে। 

Ads
Ads