এরশাদকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে বিপাকে রুহুল আমিন হাওলাদার

  • ১৯-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক

আবারো রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের আকাশ-পাতাল স্বপ্নে বিভোর হয়ে নিজের লুকায়িত ইচ্ছা প্রকাশ করায় খোদ দলীয় কর্মীদের হাসিঠাট্টার পাত্রে পরিণত হলেন সাবেক স্বৈরশাসক ও জাতীয় পার্টি একাংশের চেয়ারম্যান এরশাদ। শেষ বয়সে এসে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলের পাঁয়তারার নামে মূলত সরকারের সাথে সমঝোতা করে দুর্নীতি ও লুটপাটের মামলাগুলো থেকে মুক্তিলাভ এবং কিছু পয়সা পকেটে ঢুকানোর নামে এমন ফন্দি আটছেন বলে হাসাহাসি করেছেন দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারসহ একাধিক সিনিয়র নেতারা। হাসাহাসির জন্য রুহুল আমিন হাওলাদারকে বুদ্ধিহীন এবং ভীতু বলে তিরষ্কার করেন এরশাদ।
সূত্র বলছে, বাংলাদেশকে কট্টোর ইসলামি দেশ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গিকার দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ থেকে গ্রিন সিগনাল পাওয়ার পর পরই নির্বাচন নিয়ে বেশে উৎফুল্ল রয়েছেন এরশাদ। প্রতিবার নির্বাচনের পূর্বে নির্বাচনী রিহার্সেল দেওয়ার নামে মূলত এরশাদ প্রধান দুটি দলের সাথে দর কষাকষি করেন। এটি সারা দেশের মানুষ ভাল মতই জানেন। এরশাদ যে অন্যের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি বলেও দলটির নেতা-কর্মীরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন। এরশাদ সকাল-বিকাল সিদ্ধান্ত পাল্টান বলে দলটির নেতারা তাকে গোপনে পল্টিবাজ নেতা বলেও সম্বোধন করেন। এরশাদ এককভাবে কোনদিন নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করতে পারবেন না বলেও জানেন কর্মীরা। তাই দলটির নেতারা যে যেভাবে পেরেছেন পাহাড়সম দুর্নীতি করে সম্পদ গড়েছেন। এরশাদের ঘাড়ে বন্দুক ঠেটিয়ে দলটির নেতারা ক্ষমতার স্বাদ মিটিয়েছেন ইচ্ছামত।

এছাড়া এরশাদকে যে কোন দলই পাত্তা দেয় না এবং এরশাদ যে তাদের হাতের খেলনা সেটি ভাল মতেই জানেন দলটির নেতারা। তাই এরশাদকে সামনে সামনে সম্মান করলেও পোছনে তাকে ভাঁড় ও দালাল বলেও ব্যঙ্গ করেন কর্মীরা। এরশাদ বিষয়গুলো জেনেও বয়স ও পরিস্থিতি চিন্তা করে এগুলো এড়িয়ে চলেন। কারণ শেষ বয়সে তার ভরসা নেতারাই। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে লিয়াজোঁ করে আগামীতে সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখায় ইতিপূর্বে কর্মীদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে এরশাদকে। সব সমালোচনা দূর করে এরশাদ নিজের মনের কথা শুনতে চান। এরশাদ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি এককভাবে নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করবেন এবং তাকে শায়েস্তাকারীদের শাস্তি দিবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে এরই মধ্যে সুনামগঞ্জ এবং ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন এরশাদ।

জানা যায়, ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমতায় যাওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন এরশাদ। তিনি বলেন, এবার জাতীয় পার্টি জয়ী হবে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন। এরশাদ জানেন তাকে অনেকেই অর্থ সহায়তা দিবে এবং ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য সাহায্য করবে। কিন্তু এরশাদের এসব অব্যর্থ এবং অপূরণীয় স্বপ্ন দেখার জন্য তাকে এর আগেও নিবৃত করেন দলটির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদার।

গোপন সূত্র বলছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে এরশাদের এমন উচ্চাকাঙ্খা দেখে দলটির দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সামনে হাসিতে ফেটে পড়েন রুহুল আমিন। এসময় তিনি এরশাদকে দিবা স্বপ্নচারী, ক্ষমতার কাঙাল বলেও ব্যঙ্গ করেন। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন দ্বিতীয় সারির নেতা এরশাদকে ফোন করে রুহুল আমিনের বাড়াবাড়ি নিয়ে বলে দেন। এরশাদ সঙ্গে সঙ্গে ক্ষিপ্ত হয়ে রুহুল আমিনকে ফোন করে বুদ্ধিহীন এবং ভীতু বলে তিরষ্কার করেন। জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় গেলে ঠিকই চেটেপুটে সব খাবেন এবং ঠিকই সম্পদের পাহাড় গড়বেন বলেও রুহুল আমিনকে তিরষ্কার করেন এরশাদ। সীমাহীন দুর্নীতি করেছেন বলে দুদকের ডাক পেয়েছেন রুহুল আমিন বলে এসময় পাল্টা হাসি দিয়ে ফোন কেটে দেন এরশাদ।

Ads
Ads