সকালে যে কারণে পত্রিকা পড়েন না ওবায়দুল কাদের!

  • ৫-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

আইনটা কেবিনেটে নীতিগত অনুমোদন হয়েছে, এরপরে চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এক বছরেরও বেশি সময়…। কিশোর-কিশোরীরা নিরাপদ সড়কের আন্দোলন করেছিল। তাদের স্যালুট, তারা আন্দোলনটা করেছিল বলেই এ আইনটা যেভাবেই হোক আলোর মুখ দেখেছে।

সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ে বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ ও পরিবহন নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, গতকাল রাতে টেলিভিশনে দুর্ঘটনায় ক্যাজুয়ালটি দেখে আজ সকালে আমি পত্রিকা পড়িনি। কারণ সকাল বেলা মনটা খারাপ হয়ে যায়। এগুলোতে মনের ওপরও তো একটা প্রতিক্রিয়া হয়। মন্ত্রী হলেও আমি তো মানুষ। এগুলো কী আমাকে আলোড়িত করে না? এসবের প্রভাব কী আমার জীবনে নেই?

বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না হওয়া নিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সাথে মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী বলেন, মাঝে মাঝে অসহায় বোধ করি।

তিনি বলেন, আমরা ফুটওভার ব্রিজ করেছি, মানুষ ব্যবহার করে না। ঢাকা সিটিতে বেরিয়ে দেখুন কেউ নিয়ম-কানুন মানে না। সব বেপরোয়া ড্রাইভারের জন্য হচ্ছে তাতো নয়। বেপরোয়া পথচারীও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। পথচারীরা কোনো নিয়ম মানতে চায় না। বর্ষায় জলজট, যানজট, জনজট আপনি কীভাবে রাস্তায় শৃঙ্খলা রাখবেন।

প্রতিদিন এত মানুষ মারা যাচ্ছে কেন? এখন নতুন উপদ্রপ ব্যাটারিচালিত রিকশা। এই নগরীতেও বেশকিছুটা চলে। মোটরসাইকেল তো এখন মূর্তিমান আতঙ্ক।

হঠাৎ করে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় মন্ত্রী বুদ্ধিজীবী, বিশেষজ্ঞ এবং পরিবহন নেতাদের কাছে পরামর্শ চান।

এ সময় শুরুতেই নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোনের প্রধান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ওভারটেক এবং আনফিট গাড়ির কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। চালকদের শাস্তি ৭ বছরের জায়গায় ১০ বছর করার দাবি জানান নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

বিনা লাইসেন্সে চালক গাড়ি চালিয়ে মানুষ হত্যা করলে তার ৩০২ ধারায় শাস্তি দাবি করেন তিনি। এছাড়া চালক এবং হেলপার দু’জনের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি করতে হবে। ইন্স্যুরেন্সের বিষয়টিও নতুন আইনে তেমন মনোযোগ দেওয়া হয়নি- বলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

মহাসড়কে ইজিবাইক বন্ধ না হওয়ার পেছনে জনপ্রতিনিধিদের হাত রয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হুক-অ্যাঙ্গেল-বাম্পার ৯০ শতাংশ বন্ধ হয়েছে, ইজিবাইক গাড়িগুলো ২২টি সড়কে পুরোপুরি বন্ধ করতে সাকসেসফুল হয়েছি। অন্যান্য স্থানে সরানো যেত আমরা যদি জনপ্রতিনিধিরা, আমাদের দেশের অনেক পলিটিশিয়ান এসবের পেছনে আছে। পেছন থেকে মদদ দেন অনেক জনপ্রতিনিধি।

‘মাঝে মাঝে বলি আমাদের পলিটিক্সটা যদি পুরোপুরি ঠিক হত, তাহলে বাংলাদেশের সব সেক্টর ঠিক রাখা যেত। এখানে আমাদের মূল সমস্যা। আপনি দেখুন ঢাকা শহরে পুলিশকে নিয়ে দীর্ঘদিনের চেষ্টার পর সবাই এখন হেলমেট পরে চলে। এখন দুইজনই হেলমেট পরে। যখন দেখবেন মোটরসাইকেলে যাত্রী তিনজন, কারোরই হেলমেট নেই, এরা পলিটিশিয়ান, এরা হচ্ছে রাজনীতির লোক দে ডোন্ট কেয়ার’ বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

‘এই প্রবণতা বন্ধ করার চেষ্টা করছি- আমি কিন্তু হাল ছাড়িনি, শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব যতক্ষণ আমার হাতে দায়িত্ব আছে।’

সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক মিজানুর রহমান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম, পুলিশের হাইওয়ে রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আতিকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Ads
Ads