দেশের মানুষকে পরিকল্পিত বিভাজনের গভীর চক্রান্ত চলছে: রিজভী

  • ৪-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আবহমান বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে নেমে পড়েছেন ওবায়দুল কাদের সাহেবরা। জনসমাজে সাম্প্রদায়িক ঐক্য যখন অটুটবন্ধনে গ্রথিত, তখন ওবায়দুল কাদের সাহেবের আচমকা সাম্প্রদায়িকতা টেনে আনা দেশের মানুষকে পরিকল্পিত বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়ার এক গভীর চক্রান্ত।

মঙ্গলবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক চক্রান্ত হচ্ছে’ ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্যের জবাবে রিজভী আরও বলেন, আওয়ামী এ আমলেও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অনেক ঘটনা এখনও রহস্যজনক। কয়েকবছর আগে একটি বেদনাদায়ক ঘটনা ব্লগার অভিজিৎ হত্যাকাণ্ড। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতির ১০ গজের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। সে সময় বইমেলা চলায় সারা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। তাহলে কিভাবে অভিজিৎ রায় খুন হলেন। এর দায়তো সরকারের। এভাবে পুরোহিত, গীর্জার ধর্মীয়যাজকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের হত্যা করা হয়েছে, যার রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না এলে ‘প্রথম দিনেই এক লাখ লোককে হত্যা’ করা হবে বলে যে মন্তব্য আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ করেছেন, তারও সমালোচনা করেন রিজভী।

তিনি বলেন, এই কাল্পনিক তথ্য তিনি কোন পরিসংখ্যান ব্যুরো থেকে সংগ্রহ করেছেন জনগণ তা জানতে চায়। এই তথ্য কি হাসানুল হক ইনু না সজীব ওয়াজেদ জয়ের? কারণ তারা মাঝে মাঝে উদ্ভট তথ্য দিয়ে থাকেন। বিএনপি তো অনেকবার ক্ষমতায় এসেছে কিন্তু কোথাও তো রক্তক্ষরণের কোনো দৃষ্টান্ত নেই।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল তার নির্বাচনী এলাকা ভোলায় ‘কোনো অপকর্মের’ কারণে ওই আশঙ্কা করছেন কি না- সেই প্রশ্নও রাখেন রিজভী।

তিনি বলেন, আপনার এলাকায় বিএনপির নেতা-কর্মী-সমর্থকরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দোকানপাট, ‍গরু-ছাগল বিক্রি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে মানবেতর জীবন যাপন করছে। নিজেদের এই অপকর্মের প্রতিশোধ হতে পারে এই আশঙ্কায় কী তোফায়েল আহমেদ সাহেবরা মানুষ হত্যার কাল্পনিক তথ্য দিচ্ছেন। আসলে ভবিষ্যতে ব্যাপক হত্যার ভীতি ছড়িয়ে জনসমাজে আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি করছেন তারা।

গত ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে পুলিশ সারাদেশে ব্যাপক ধড়পাকড় করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে মাত্র ২/৩ দিনে চারশতাধিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার আসামির সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে। অথচ এখন কোনো কর্মসূচি নাই।

‘পতনের আতঙ্ক’ থেকেই সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর এই ‘দমনপীড়ন’ চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, আমি সকল নেতাকর্মীর নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি এবং যে সমস্ত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহারের দাবি করছি।

নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভুঁইয়া জুয়েল, কেন্দ্রীয় নেতা শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, এম এ মালেক, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, আসাদুল করীম শাহিন, মনির হোসেন ও হেলাল খান।

/ই

Ads
Ads