গণফোরাম-যুক্তফ্রন্টের সুখের মিলন নির্বাচন পর্যন্ত স্থায়ী হোক: কাদের

  • ২৯-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচন আসলে অনেক ধরনের পোলারাইজেশন হয়! সমীকরণ হয়! ফ্রন্ট হবে অ্যালায়েন্স হবে; এটা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার। এখন গণফোরামের সঙ্গে যদি যুক্তফ্রন্টের মিলন হয়, এই সুখের মিলন নির্বাচন পর্যন্ত স্থায়ী হোক, আমরা এর শুভ কামনা করি। তবে শোডাউন বলতে যা বোঝায়, সেখানে যদি ২০১৪ সালের কোনো আগুন সন্ত্রাসের গন্ধ পাওয়া যায়, আন্দোলনের নামে সহিংসতা সৃষ্টি করা হয়? তাহলে কিন্তু জনগণ প্রতিরোধ করবে।

বুধবার (২৯ আগস্ট) বিকালে রাজধানীতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আন্দোলন যদি রাজনৈতিকভাবে ইতিবাচক আন্দোলন হয় তাহলে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো আর সহিংসতার সমুচিত জবাব জনগণই দেবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই জবাব দেয়া হবে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার নিয়ে বিএনপির সাম্প্রতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেন কাদের। বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মধ্য দিয়ে কত পরিবার নিঃস্ব করে দিয়েছেন বেগম জিয়া ও তারেক রহমান। আর আজ বিএনপির নেতারা গ্রেনেড হামলার বিচার চান। বিচার চাইলে জজ মিয়া নাটক সাজাতেন না। বিচার চাইলে তদন্ত করতেন। বিচার চাইলে হত্যার সব আলামত নষ্ট করে দিতেন না। আমরা কি ভুলে গেছি? রাজনীতিতে এরকম নিষ্ঠুর রসিকতা বিএনপির পক্ষেই সম্ভব। বাংলাদেশে এই দলটি ততদিন ততদিন এই দেশে অশান্তি লেগে থাকবেই।

ঢাকা মহাগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কিছু কিছু জায়গায় সমস্যা আছে স্বীকার করে কাদের বলেন, ছোটখাটো বিভেদগুলো সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক; আপনারা এটার সমাধান করতে পারেন না? এই নিয়ে আর কত কাল অভিযোগ শুনতে হবে? আমি আবারও ১০ দিন সময় দিচ্ছি। এটা লাস্ট। আর কোন সময় দেব না। আমাদের নেত্রী পরিষ্কারভাবে আমাকে যে নির্দেশ দিয়েছেন আমি সেটাই জানিয়ে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, ১০ দিনের মধ্যে অন্তর্কলহ হতে পারে এ রকম বিষয়গুলো সমাধান করুন। যারা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হয়ে গেছেন, তাদের তো হারাবার কিছু নেই। নির্বাচন সামনে, ঐক্যের স্বার্থে একোমোডেট করলে অসুবিধা কোথায়? নেত্রীর নির্দেশ, আগামী সেপ্টেম্বরের ২৫ তারিখের মধ্যে মহানগরের সব কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন করতে হবে।

ইভিএমের বিষয়ে কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার হবে কি হবে না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। সেটা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের দাবিটি আওয়ামী লীগের নতুন কোনো দাবি নয়। ইলেকশন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে আমরা কিন্তু ইভিএম ব্যবহারের দাবি জানিয়েছিলাম এবং আমরা আমাদের দাবিতে এখনো অটল।

গত তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কথা তুলে ধরে বিএনপির উদ্দেশে কাদের আরও বলেন, ইভিএমে এত অবিশ্বাস কেন? একটায় জিতলেন সিলেট? সেখানেও তো ইভিএমে জেতা দিয়েই শুরু।

ইভিএম আজকে বিশ্বস্বীকৃত একটা আধুনিক ভোটিং সিস্টেম দাবি করে তিনি আরও বলেন, ভারতে অনেকগুলো নির্বাচন ইভিএম পদ্ধতিতে হয়েছে এবং উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেও এই পদ্ধতি চালু আছে। আপনারা কেন বিরোধিতা করেন? স্বচ্ছ নিরপেক্ষ নির্বাচন যদি চান ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি কোথায়?

তবে এ ব্যাপারে ইসির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে উল্লেখ করে কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি মনে করে যে, ‘এই মুহূর্তে ইভিএমে ভোট করার মতো বাস্তবতা নেই অথবা তারা করতে চান না বা এই সময়ের মধ্যে ইভিএম মেশিন কেনা এবং এর ব্যবহার’-এ বিষয়গুলো যদি যৌক্তিক না হয়, সেটা নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে?

তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ১০০ ভোট কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে বলে দেয়া নির্বাচন কমিশনের ঘোষণাকে স্বাগত জানান কাদের।

আগামী নির্বাচন অবাধ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে বলেও নিশ্চয়তা দেন কাদের।

/ই

Ads
Ads