আন্দোলনের নাটের গুরু বিআরটিএ চেয়ারম্যান মাশিয়ার রহমান

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

বিশেষ প্রতিনিধি

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নামে কোমলমতি স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল সেখানে অনুপ্রবেশকারী ও ষড়যন্ত্রকারীরা প্রবেশ করেছে। ইতিমধ্যে গুজবে কান দিয়ে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা ও গুলি চালানোর মতো ঘটনা ঘটেছে। মূলত ছাত্রদের এই আন্দোলনকে সংহিসতায় রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে সরকার বিরোধী বিএনপি জামায়াত। তবে এ আন্দোলনে সরকারের একজন শীর্ষ আমলা যাকে এসব সড়ক দুর্ঘটনার জন্য প্রকৃত দোষী তার ইন্ধনেই ঘটছে সব কিছু বলে জানা গেছে। 


দেশের যত অদক্ষ চালক রয়েছে তাদের এবং ফিটনেট বিহীন যানবাহন চালাচল করে সেগুলোর লাইসেন্স দিয়ে থাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। এ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসাবে চেয়ারম্যানই অদক্ষ চালক এবং ফিটনেট বিহীন যানবাহন রাস্তায় চলাচলের জন্য দায়ী। 

কিন্তু চলমান আন্দোলনে একবারের জন্যও বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোঃ মশিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে কেউ কোনো কথা বলেননি। প্রকৃত দোষী এই মাশিয়ার রহমানে শাস্তি চাওয়া তো দূরে থাক তার নামটিও উচ্চারিত হয়নি কোনো আন্দোলনকারীর মুখে। 

আন্দোলনে উল্টো দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে কোমলমতি শিশুরা। তারা কেন মূল বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে প্রতিপক্ষ বানালো না এমনকি তার পদত্যাগ চাইলো না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

চলমান এ আন্দোলনকে ঘিরে সরকার বিরোধী পক্ষ বিএনপি জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবিরের উপস্থিতিও আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এছাড়া কোমলমতি শিশু-কিশোররা যেভাবে অশ্লীল স্লোগান দিয়েছে তাতে করে এই আন্দোলনের মাধ্যমে পুলিশকে প্রতিপক্ষ বানানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রাজধানীর কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হবার পর তার বিচার চেয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে স্কুল-কিশোররা রাজপথে নেমে আসে। তাদের আন্দোলনের সঙ্গে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও একাত্নতা ঘোষণা করে তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন।

কয়েকজন অভিভাবক ও আন্দোলনকারীর সঙ্গে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোরের পাতাকে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। শারমিনা নুপুর নামে একজন অভিভাবকের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমতা আমতা করে তিনি বলেন,  আসলেই তো তাই। আসল দোষী তো বিআরটিএ চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। এভাবে বিষয়টি ভেবে দেখেনি।

বিএনপিপন্থী এ আমলা মোহাম্মদ মাশিয়ার রহমান ১৯৮৫ সালের বিসিএস ক্যাডার। বিআরটিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে তাকে বদলি করা হলেও তিনি জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরার ঘনিষ্ঠজন হওয়ায় তা ঠেকিয়ে দিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন। আর বিআরটিএ চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেই দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলে অদক্ষ চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়ার আখড়ায় পরিণত করেছেন বিআরটিএ’কে। সেখান থেকে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যও চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের মাঝেও প্রভাব বিস্তার করেন। অঘোষিত গণপরিবহনের ধর্মঘট যেটা চলছে, সেটার পরামর্শ দাতাও তিনি বলে জানা গেছে। 

মাশিউর রহমান একজন দুর্নীতিবাজ আমলা হিসাবেই পরিচিত। তার ইন্ধনেই কোমলমতি শিশুদের আন্দোলন এখন সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তার পরিবারের লোকজনও বেপোরোয়া বলে জানা গেছে। নিজের ছেলে তানভীর শরীফ আপন ২০০৬ সালে ধানমন্ডির গর্ভমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুলের শিক্ষক স্বপন গোষ্বামীকে গুলি করে হত্যা করে। মাশিয়ার রহমানের লাইসেন্স করা পিস্তল চুরি করে তার ছেলে আপন এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ ঘটনায় আপনের যাবতজীবন শাস্তি হলেও টাকার বিনিময়ে হাইকোর্ট থেকে আপনকে এ মামলা থেকে বের করে এনেছেন মাশিয়ার। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোঃ মশিয়ার রহমানকে তার মুঠোফোনে কয়েকবার ভোরের পাতা অফিস ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি এবং এমনকি ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও তিনি প্রতিউত্তর করেননি। 


 

Ads
Ads