পতনের ভূমিকম্প শুরু: রিজভী

  • ২৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

: ভোরের পাতা অনলাইন ::

সামনে হয়তো আরও নতুন নতুন ষড়যন্ত্র করবে সরকার এমন দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।, যতই ষড়ষন্ত্র আর মহাপরিকল্পনা করেন, আপনাদের পতন ঠেকানো যাবে না। আপনাদের পতনের ভূমিকম্প শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৫ আগস্ট) সকালে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন রিজভী এসব বলেন।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য শুনে মনে হয় একুশে আগস্টের রায়কে প্রভাবিত করার জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছেন। একুশে আগস্টের বোমা হামলার রায় নিজেরা লিখে তা আদালতকে দিয়ে বাস্তবায়ন করাবেন কি না মানুষের মনে এখন সেই সংশয় দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের বলেছেন, একুশে আগস্টের মামলার রায় হলে বিএনপি সংকটে পড়বে। আগামী সেপ্টেম্বরে এ রায় হবে। কাদের সাহেব আদালতের এ বিষয়টি কিভাবে জানলেন প্রশ্ন করে রিজভী বলেন, তার বক্তব্যে পরিষ্কার যে, তারা নীল নকশা অনুযায়ী একুশে আগস্টের বোমা হামলার রায় নিয়ে আগাম কাজ করছেন। সেজন্য একের পর এক কূটচাল চালছেন।

তিনি আরও বলেন, দলীয় চেতনার তদন্ত কর্মকর্তা কাহার আকন্দকে নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যই ছিল এ মামলায় তারেক রহমানকে জড়ানো। পরে ২০১১ সালে তারেক রহমানের নাম সম্পূরক চার্জশিটে অর্ন্তভূক্ত করে শেখ হাসিনার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়। পূর্ব পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চার্জশিটে তারেক রহমানের নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়।

যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এ জন্য নানা ধরনের ফন্দি ফিকিরের আশ্রয় নেওয়া হয়। ২০০৭ সালে ১/১১’র সময় ১৬৪ ধারায় মুফতি হান্নানের জবানবন্দিতে তারেক রহমানের নাম ছিল না। শুধু এ মামলায় তারেক রহমানের নাম বলানোর জন্য অন্য মামলায় ৪১০ দিন রিমান্ডে নিয়ে অমানুষিক ও নির্মম নির্যাতন করা হয় মুফতি হান্নানকে। পৃথিবীর কোনো দেশেই এ ধরনের নজির নেই। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে মুফতি হান্নানকে দিয়ে তারেক রহমানের নাম বলতে ও তথাকথিত স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করে কাহার আকন্দ- যার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। একই ব্যক্তির একই মামলায় দুই বার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দীর নজির নেই। পরবর্তীতে আদালতে আবেদন করে মুফতি হান্নান তার তথাকথিত স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্যও প্রত্যাহার করে নেয় এবং তার উপর বর্বোরচিত নির্যাতনের বিবরণ দেয়।

বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ২০০৮ সালের ১১ই জুন বর্তমান আইজিপি ও তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি জাবেদ পাটোয়ারির তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায় হরকাতুল জিহাদ, মুফতি হান্নানই পরিকল্পনাকারী, মওলানা তাজউদ্দিন গ্রেনেড সরবরাহকারী, হামলার পরিকল্পনা হয় ১৯ শে আগস্ট। জাবেদ পাটোয়ারীর তদন্ত প্রতিবেদনে কোথাও তারেক রহমান বা বিএনপির নাম নেই। যা ইতিমধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেররা নীলনকশা পূরণে তাদের নিজেদের আইজিপির প্রতিবেদনকেও অগ্রাহ্য করাও দূরভিসন্ধিমূলক।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী শপু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

 

অনলাইন/কে 

Ads
Ads