শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুজব: ২৮ উসকানিদাতার বিরুদ্ধে মামলা

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে গুজব ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের উসকানিদাতা হিসেবে ২৮টি ফেসবুক ও টুইটার আইডি শনাক্ত করা হয়েছে। এসব আইডির মালিক ও অ্যাডমিনদের আইনের আওতায় আনতে রাতে অভিযান চালাবে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ।


এ ঘটনায় গত ২ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় একটি মামলা করেছে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রমনা থানা পুলিশ। মামলা নম্বর-১।

সাইবার ক্রাইম ইউনিটের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘২৮ আইডির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আইডিগুলো থেকে মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রকাশ করে কোমলতি শিশুদের মনকে নষ্ট করে তাদের খারাপ কাজের জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে। অচিরেই আইডিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। রাত থেকেই আইডির মালিকগুলোর বিরুদ্ধে অ্যাকশন চালানো হবে।’

মামলার এজাহারে দেখা গেছে, যেই ২৮টি আইডির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, এগুলোর মধ্যে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব, নৌমন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রধানমন্ত্রীর ভুল বার্তা ইত্যাদি দেয়া হয়েছে।

মামলার এজাহারে যেসব ফেসবুক আইডি ও পেজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হচ্ছে, জুম বাংলা নিউজ পোর্টাল, বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদ, অ্যাক্সিডেন্ট নিউজ, বাংলামেইল৭১, বাঁশেরকেল্লা, ফাইট ফর সারভাইভার্স রাইট, ফাঁকিবাজ লিংক, আন্দোলন নিউজ।

এছাড়া টু্ইটার আইডিগুলো হচ্ছে- রানা মাসুম-১ , নওরিন-০৭, দিপু খান বিএনপি, ইদ্রিস হোসেইন, এম আল আমিন-৯৯, বিপ্লবী কাজী, নাসিফ ওয়াহিদ ফায়জাল।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমরা আগামীকাল থেকে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করবো। ট্রাফিক সপ্তাহে গার্ল গাইডস ও বয়েজ স্কাউটের সহায়তা নেওয়া হবে। আমাদের কোমলমতি শিশু, তরুণেরা যা করেছে তাকে স্যালুট। তারা ট্রাফিক সপ্তাহে সহায়তা করতে চাইলে তাদের স্বাগত। তারা পুলিশের নৈতিক ভিতকে জাগিয়ে তুলেছে, অনেক শক্তিশালী করেছে, চোখ–কান খুলে দিয়েছে। তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।’ ‘যারা এর শুরু করেছে সেই কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। শিক্ষক, অভিভাবকদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, আপনারা আপনাদের ছাত্র-সন্তানদের স্কুলে ফিরিয়ে নিয়ে যান।’  ছাত্রদের স্কুল ড্রেসের বিক্রি ও বানানো বেড়েছে। আমরা ছাত্রদের নিরাপত্তার জন্য শঙ্কিত। যারা এসব কাজ করছে তাদের আমরা চিহ্নিত করেছি।

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেছেন, ‘তারা আমাদের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি। তারা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। তারাই দেশ চালাবে। আমি যে পদে থেকে কথা বলছি তারাই এই পদে আসবে। মন্ত্রীর পদে তারাই আসবে। সুতরাং তাদের এখন শিক্ষালয়ে ফিরে যাওয়ার সময় এসেছে। আমাদের দায়িত্বটা পালন করতে দেন। আমরা তাদের স্পিরিট ধারণ করেছি। সেটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য আন্তরিকভাবে রাষ্ট্রের সব সংগঠন মিলে চেষ্টা করে যাবো।’

এদিকে এ ঘটনার বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুপুরে লাঠি হাতে ৩০ থেকে ৩৫ জন মধ্যবয়সী যুবক সেখানে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার পর খবর ছড়ায় একজন শিক্ষার্থীকে আওয়ামী লীগ অফিসে আটকে মারধর করা হচ্ছে। এ খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা জিগাতলা আই হাসপাতালের সামনে জড়ো হতে থাকে এবং আওয়ামী লীগের অফিসের দিকে অগ্রসর হতে থাকে।

এ খবর আওয়ামী লীগের কর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে তারাও রাস্তায় বের হয়ে এসে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। ধাওয়া খেয়ে জিগাতলার দুই পাশের রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। তারা আবারও জড়ো হয়ে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে এবং কর্মীদের ধাওয়া দেয়। দুই পক্ষের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনার প্রায় ২০ মিনিট পর ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ গিয়েই পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এর কিছুক্ষণ পরই পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু এ ঘটনায় কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে সেদিন থেকেই শিক্ষার্থীরা রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

Ads
Ads