চাল নিয়ে ভোলচাল: এই হঠকারিতা প্রত্যাশিত নয়

  • ১৭-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

বছরের শুরুতেই ফের চাল নিয়ে ভোলচাল চলছে। কোনো অজুহাত ছাড়াই বেড়ে গেছে চালের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানেই চালের দাম প্রতিকেজিতে ৪ থেকে ৬ টাকা বেড়ে গেছে। অথচ তথ্যমতে, সরকারের গুদামে এখন ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ আছে। চালের মজুদ যথেষ্ট থাকলে এবং বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি হলে অর্থনীতির স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ীই এক্ষেত্রে কী বলে? এখানে কি চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকে? কিন্তু আমাদের দেশটাই এমন যে প্রতিটি সেক্টরেই কোনো না কোনো ভাবে এই কারসাজি, কারচুপি চলে আসছে। কোথাও থেকে যেন এর কোনো মুক্তি নেই। কেননা, এর কোথাও যে কোনো নিয়ম নীতি মানা হয় না। মানছে না এই বাজার সংশ্লিষ্টদের কেউ। 

কিন্তু তাই বলে এর রাসও টানা যাবে না? এর জন্য কি কোনো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও নেই? অথচ বাজার ব্যবস্থাপনায় একটা পরিবর্তন আনলেই এই কারসাজির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তেমন কঠিন কিছু নয়। কিন্তু সে জন্য একটা রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও সদিচ্ছা না থাকলে তাও বা কী করে সম্ভব? চালের মতো নিত্যপণ্যের দাম যখন কোনো অজুহাত ছাড়াই বাড়ে, তখন সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এবারও পুরনো সিন্ডিকেট সক্রিয় হয়ে ওঠেছে। এই সিন্ডিকেটই মূলত চালের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির জন্য দায়ী। দিনাজপুরের পুলহাট, রংপুরের মাহিগঞ্জ, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী থেকে প্রতিদিন শত শত ট্রাক চাল ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। এসব মোকামে এক সপ্তাহ ধরে অটোরাইস মিলের কতিপয় মালিক চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এরা আসলে বর্তমান নির্বাচনী ডামাডোলের সুযোগ নিতে চেয়েছে। যাতে সরকার বা জনগণও সেদিকে ঠিকমতো মনোযোগ দিতে না পারে। বাস্তবক্ষেত্রেও তেমনি দেখা গেছে। নয়তো চালের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দৃশ্যমান তৎপরতা কেন দেখা যাবে না? খাদ্যমন্ত্রী, খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ বেশ কয়েক কর্মকর্তা বর্তমানে কয়েক দিনের সফরে উত্তরবঙ্গে আছেন। কিন্তু তাদের সফরকালীন সূচিতে চালের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কোনো কর্মসূচি নেই।

কথায় বলে, ভাতে-মাছে বাঙালি। সেই দুটোর একটি চাল আমাদের প্রধান খাদ্যদ্রব্য। কাজেই এটি নিয়ে খামখেয়ালির কোনো সুযোগ রাখা উচিত নয়। কাজেই আমরা প্রত্যাশা করবো, ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিকভাবে যেভাবে দাম বাড়িয়েছেন, তা কমানোর জন্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। জনস্বার্থে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা সরকারের দায়িত্ব। অনেক সময় সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, মহলবিশেষের অপতৎপরতাও বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ। পুরো বাজার নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গবেষণা করানো প্রয়োজন। বাজারে কীভাবে চালসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে আনা যায়, সেদিকেই সরকার ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সিরিয়াস হতে হবে। বর্তমান সরকার যে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে গঠিত হয়েছে এটা যেন কোনো মহল বিশেষের কারসাজিতে মøান না হয়ে যায়। কেননা, ‘যতো বড় জয়, ততো বড় ভয়’, এটাও ভুলে গেলে চলবে না।

Ads
Ads