বার্ন ইনস্টিটিউট: নবযুগের সূচনা হলো 

  • ২৬-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

সম্প্রতি ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর চানখাঁরপুলে অবস্থিত ১৮ তলাবিশিষ্ট ৫০০ শয্যার এই ইনস্টিটিউটটি দেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ। আর এর মধ্য দিয়েই দেশে অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসায় এক নবযুগের সূচনা হলো। 

ইতিপূর্বে দেশের অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিট ছিল একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেটি একেবারেই ছোট আয়তনের। যে কারণে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় অগ্নিদগ্ধ রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছিল। 

এখন এই দুই একর জমির ওপর ৯১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বার্ন ইনস্টিটিউটে কেবল দেশের নয়, বিদেশ থেকে আসা রোগীরাও চিকিৎসা ও সেবা নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে যে রাজনৈতিক অগ্নিসংযোগ, পেট্রলবোমা ব্যবহারের ফলে বহু মানুষকে অগ্নিদগ্ধ হতে হয়েছিল তখন তাদের একমাত্র ভরসা ছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের (ঢামেক) বার্ন ইউনিট। কিন্তু এ হাসপাতালটির জায়গা অপরিসর হওয়ায় অনেক অগ্নিদগ্ধ রোগীকে মেঝেয় রাখতে হয়েছিল। সামনেই জাতীয় নির্বাচন। দেশের রাজনীতিতে যে অগ্নিসন্ত্রাসের সূচনা হয়েছে ২০১৪ সালে সেটা আবারো দেখা দেয় কি-না, তাতে আমরা নিশ্চিত নই। তবে আগে থেকেই প্রস্তুতি হিসেবে চানখাঁরপুলে ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ একটা ভরসার জায়গা হিসেবে দেখা দেবে এটাই আমরা আশা করি। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক ও সামাজিকসহ নানা কারণে দেশে অগ্নিদগ্ধের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সে হিসেবে এই ইনস্টিটিউটটি আমাদের ভরসার জায়গা হতে পারে। 

বিশেষ করে ১০০টি কেবিন, ৬০টি হাইডেফিসিয়েন্সি বেড, ১২টি অস্ত্রোপচার থিয়েটার এবং অত্যাধুনিক পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডসহ বিশেষায়িত এ ইনস্টিটিউট দেশি-বিদেশি রোগীদের কাছে আশার আলো হিসেবে প্রতিভাত হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
বলাই বাহুল্য যে, স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন একই সূত্রে গাথা। এরই মধ্যে সরকার স্বাস্থ্য খাতকে প্রাধান্য দিয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ সমতা, শিক্ষা, মাতৃস্বাস্থ্যসেবা, শিশুমৃত্যু হ্রাস ও পরিবার-পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে। যা মানবিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়- সরকার যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পগুলোতে হাত দেয়, বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটে না।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত আগ্রহ ও ইচ্ছায় সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প তথা ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ তেমন ব্যত্যয় ঘটবে না বলেই আমরা আশাবাদী। আর এখানে হাজার হাজার অগ্নিদগ্ধ রোগীর সুচিকিৎসাই হবে না, একই সঙ্গে এটি চিকিৎসক ও নার্সদের এ বিষয়ে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তার তৈরির ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।

তবে এক্ষেত্রে ভুলে গেলে চলবে না যে, স্বাস্থ্য খাতে বিরাজমান বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে দেশের অনেক ভালো মানের প্রতিষ্ঠানও প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারছে না। ‘শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট’ এক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হবে আমাদের বিশ্বাস।

Ads
Ads