ঝিকরগাছা মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সম্মেলন আবুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর ও অ্যাড. মনির এমপি’র বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার  

  • ২৪-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ঝিকরগাছা প্রতিনিধি ::
বঙ্গবন্ধুর সাবাস চেয়ারম্যান, গণপরিষদ সদস্য, প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম আলহাজ্ব আবুল ইসলামের নামে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর ও তার পুত্র যশোর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে যশোর প্রেসক্লাবে সাংবাদ সম্মেলন করেছেন ঝিকরগাছা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ওলিয়ার রহমান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গোলাম মোর্তজা জেম নামের যে ব্যক্তি ২১ অক্টোবর সাংবাদ সম্মেলন করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা সেটা মিথ্যা, আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের মধ্যে শহীদ হেমের নামে কোন সরকারী জায়গা বা স্মৃতি সংসদ বা প্রতিষ্ঠান নেই, তাদের জমিতে কোন প্রাচীর বা স্থাপনা করা হয়নি, গত ৪৭ বছরে কোন অকাঠামো তৈনি হয়নি। অথচ তিনি মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও একজন জাতীয় সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে মানহানিকর মিথ্যা সংবাদ সম্মেল করায় আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রদিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, গোলাম মোর্তজা জেম নামে যে ব্যক্তি সংবাদ সম্মেলন করেছেন তাকে আমরা চিনি ও জানি। তিনি যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার হাজিরবাগ গ্রামের মৃত আব্দুর রব সরদারের ২য় পুত্র ছেলে। বর্তমানে যশোর শহরের সিভিল কোর্ট মসজিদের পশ্চিম পাশে বসবাস করেন। ১৯৬২ সালে মেট্রিক পাস করে। যশোর এম.এম কলেজে পড়–য়া অবস্থায় পাকিস্তান আমলে আইয়ুব খান-মোনায়েম খানের মুসলিম লীগের ছাত্র সংগঠন এন.এস.এফ (ন্যাশনাল স্টুডেন্ট ফেডারেশন) করতেন। মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে কখনও বঙ্গবন্ধু ও জয় বাংলা স্বীকার করে না। আজীবন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী লোক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালিন সময় সে তার বড় ভাই ব্যাংকার (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) গোলাম মোস্তফা এম এর ভোলা জেলা শহরের বাসায় ৯ মাস  ছিলেন।

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে তখন জালিয়াতি করে গোলাম মোর্তুজা জেম মুক্তিযোদ্ধা হয়। ২০১৭ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারী থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারী উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাইতে গোলাম মোর্তুজা জেম যুদ্ধ করেছে এমন কোন প্রমাণ দিতে না পারায়  উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও যাচাই বাচাই কমিটি তার নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের পাঠিয়েছে। সে হাই কোর্টে ঐ যাচাই বাচাই কমিটির বিরুদ্ধে রিট করেছে। বর্তমান সে জেলা বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য। তার আপন ছোট জামাতা তারেক জিয়ার হাওয়া ভবন দেখভাল করতেন। তারেক জিয়ার পিএস ছিলেন তার নাম আশিকুর রহমান পাপ্পু। এখন সে আমেরিকায় পলাতক জীবন যাপন করছে। লন্ডন থেকে তারেক জিয়ার সকল বার্তা জেমের মাধ্যমে যশোরে আসে বলে আমাদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমের তথ্য আছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেছেন, ঝিকরগাছার হাজিরবাগে ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, ১৯৭১ সালের গণপরিষদ সদস্য, (আমাদেও পবিত্র সংবিধানে যাদের স্বাক্ষরে তাদের অন্যতম একজন) ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সংগঠক মরহুম আলহাজ্ব আবুল ইসলামের পুত্র যশোর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির আমাদের সাথে গত ১০ বছর এই প্রকল্প নিয়ে বারবার আলোচনা করেছে। আমরা জানি, আবুল ইসলাম ফাউন্ডেশনের মোট জমি ২২৫ শতক।

এর মধ্যে আবুল কালাম আজাদের সাড়ে ৩৯ শতক। এর মধ্যে ১৫ শতক রেজিষ্ট্রি হয়েছে, ৫ শতক দান করেছে, ৮ শতক বিনিময় করেছে এবং ২৬ শতক বিক্রয়ের জন্য কথা শেষ হয়েছে। মোস্তাফিজুর রহমান মোহন ১০ শতক, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই তিন শতক জমি চাচার নামে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে দান করেছেন। মশিয়ার রহমান, আব্দুল আলিম ডালিম, মেজর মেহেদী হাসান বুলবুল ও তার সকল ভাইবোনেরা ১৮ শতক জমি বিনিময় করেছে। আনোয়ার হোসেন গং পাঁচ শতক জমি বিনিময় করেছে। আজগর আলী মোড়ল ১২ শতক জমি বিনিময় পূর্বক রেজিষ্ট্রি করেছে। নূর ইসলাম গং ১০ শতক জমি বিনিময় পূর্বক রেজিষ্ট্রি করেছে। মশিয়ার রহমান, মিজানুর রহমান গং ২০ শতক জমি বিনিময় করেছে। সাদেক আলী মোড়ল ১৯ শতক জমি বিনিময় পূর্বক রেজিষ্ট্রি করেছে এবং ২১ শতক জমি মামলা জনিত কারণে সমস্যা থাকলেও তাকে ২১ শতক জমি বিনিময় পূর্বক রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে। এছাড়া আয়ুব আলী মাস্টারের ২৩ শতক, এমপি অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনিরের ২৯ শতক জমি রয়েছে এবং তার পরিবারের সাত শতক জমি রয়েছে।

এর মধ্যে জেম ও তার পরিবারের সদস্যদের জমি মাত্র ৯ শতক। তাদের জমি বাদ রেখে এমপি অ্যাড. মনির ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি যাদুঘরের নামে নামে ১০ শতক সহ আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের নামে ২৫ শতক জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন।

এখানে ভবিষ্যাতে অন্য প্রকর্পের নামে জমি দেয়ার প্রস্তুতি আছে। সেখানে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গণপরিষদ সদস্য এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল ইসলাম স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ কাজ চলছে। যে জমিতে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি যাদুঘর তৈরি করা হচ্ছে সে জমির দাগ নং ৫৭ও ৯৪। এই দাগের রেজিষ্ট্রিকৃত জমির মধ্যে ৬ শতক জমিতে স্মৃতি যাদুঘর তৈরি হচ্ছে  আর জেম গংদের জমির দাগ নং  ৫৭ ও ৫৮। সেখানে পুকুর রয়েছে। তাদের জমিতে কোন প্রাচীর বা কোন স্থাপনা তৈরি করা হয়নি। গত ৪৭ বছরে শহীদ হেমের নামে কোন সরকারী- বেসরকারী, ব্যক্তিগত নামে কোন প্রতিষ্ঠান নেই। তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে সম্পূর্ন মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এখানে কারও বিন্দু পরিমাণ জোরপূর্বক দখল করা হয়নি।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন,তিনি মিথ্যা অভিযোগ এনে, বঙ্গবন্ধুর সাবাস চেয়ারম্যান, ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য, ১৯৭১ সালের গণপরিষদ সদস্য, ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ সদস্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম বীর সংগঠক মরহুম আলহাজ্ব আবুল ইসলাম ও তার পুত্র বর্তমান যশোর-২ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির এর সম্মানহানি করেছে। আমরা মনে করি, একজন মুক্তিযোদ্ধার সম্মানহানি মানে সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানহানি করা। তাই অবিলম্বে ঐ গোলাম মোর্তজা জেমকে আইনের আত্ততায় এনে গ্রেফতারের দাবী জানাচ্ছি।

গোলাম মোর্তজা জেম যেহেতু মুক্তিযুদ্ধের আগে ও পরে বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা ও স্বাধীনতার পক্ষের মানুষ না, সেহেতু সে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক গণপরিষদ সদস্য এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক আবুল ইসলাম মুক্তিযোদ্ধ স্মৃতি যাদুঘর নির্মাণ কাজ মেনে নিতে পারছে না। তাই বিভিন্নভাবে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি যাদুঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ করার জন্য ষড়যন্ত্র শুরু করেছে এবং মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
এসময় অন্যন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, এমপি’র মেজো ভাই আলহাজ্ব শহিদুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শাহাজান আলী, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহকারী কমান্ডার আব্দুল কাদের, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই, আব্দুর রব, আব্দার রহমান, আব্দুর রাজ্জাক, ওমর আলী, আবু বক্কর ছিদ্দিক, মকবুল হোসেন, রথিন্দ্রনাথ নন্দী সহ আবুল ইসলাম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের সকল জমিদাতা বৃন্দ।


 

Ads
Ads