মোবারক হোসেন প্রতিব্ন্ধী বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীদের মানবেতর জীবন যাপন! 

  • ৭-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: মাসুদ রানা, পত্নীতলা ::

সমাজে ছিটিয়ে থাকা, ঘরের ভিতরে লুকিয়ে রাখা, চিকিৎসা বিহীন হত দরিদ্র প্রতিব্ন্ধীদের নিয়ে ছয় বছর জীবন সংগ্রাম করে চলেছে কিছু তরুন তরুনীরা, অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, এবং দাতা পারিবার। নওগাঁ  পোরশা থানার উপজেলা সদরে নিতপুর কপালিড় মোড়ে আরো অন্যান্য বিদ্যালয়ের মতই তিলে তিলে গড়ে ওঠেছে ব্যাতিক্রমী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  মোবারক হোসেন প্রতিব্ন্ধী বিদ্যালয়টি।

সমাজ কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের ২০০৯ সালের নীতিমালার সকল শর্ত সমূহুকে অনুসরন করে ২০১৩ সালে শুরু করা হয় সকল কার্য্যক্রম। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হয়েছে প্রতিব্ন্ধী ছাত্র ছাত্রী যা আজ সংখ্যা দাঁড়িছে ২৫৪ জন এলাকাবাসি, গনমাধ্যম, সোস্যালমিডিয়ায় ব্যাপক সারা জাগিয়েছে। এর মধ্যেই আগমন ঘঠেছে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার,  জেলা প্রসাশক, জেলা ডিডি, সংসদ  সদস্য, জেলা পিটি আই, জেলা শিক্ষা অফিস,জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি, এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গন্য মান্য ব্যক্তি বর্গ সকলের মনকে হতবাক করে তুলেছে এমন মানব সেবার কাজ দেখে। এলাকাবাসি এবং অভিভাবকেরা সকলে সাধুবাদ জানিয়েছেন এমন মানব প্রেমী তরুন তরুনী দের। বিদ্যালয়টি  সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের আদেশে জেলা প্রসাশকের মাধ্যমে অডিট করা হয়েছে বেশ কয়েকবার তবু মেলেনি স্বিকৃতি।

প্রতিষ্ঠাতা শাজাহান আলী জানান বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বাবার নিজ পৈত্রিক সম্পত্তিতে বিদ্যালয়টি স্থাপন করি আমার পরিবারের সকল সদস্য মিলে যে ভাবে পারি সকলে সহযোগিতা করে চলেছি বাবা একজন শিক্ষা অনুরাগী মানু্ষ ছিলেন শিক্ষা এবং শিক্ষিত মানুষকে তিনি খুব শ্রদ্ধা করতেন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জড়িয়ে থাকতেন। 

অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দাতার ছেলে মোঃ মওদুদ আহম্মেদ(২৯) জানান, অনেক কষ্ট করে আমরা প্রতিব্ন্ধী শিশুদের এক সাথে করে তাদের শিক্ষা সেবা দিতে পেরে আমরা ধন্য! আমারা ১৭ জন স্টাফ  এর মধ্যে ৬ জন কর্মচারী প্রায় সবাই মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে এসেছি এবং তারা বিনা বেতনে কাজ করে চলেছে। ভ্যান চালক এবং পিয়নের পরিবারে এত অভাব অনটন যে নেই কোন বেতন, বোনাস তারপরেও সেই সকাল থেকে বিকাল পযর্ন্ত সেবা দিয়ে চলেছেন।

তিনি আরো জানান ২৫৪ জন ছাত্র ছাত্রীর জন্য মাত্র একটি ভ্যান  তাই খুব সকাল থেক ভ্যান চালক কে ৫/৬ বার যেতে হয়, তারা প্রশিক্ষন নিয়ে বাচ্চাদের নিয়মিত থেরাপি দেন, থেরাপির অনেক উন্স্ট্রুমেন্ট কিনতে পারেনি, 

তারা ছয় বছর যাবৎ বিনা বেতনে সেচ্ছায় কাজ করে যাচ্ছে, ভ্যান চালক একরামুল জানান আমি ২০১৩ সাল থেকে বাচ্চাদের ভ্যানে করে নিয়ে আসি ও বাড়ী বাড়ী পৌছে দেয়, ওদের প্রতি আমার অন্যরকম ভালবাসা জন্ম নিয়েছে  তাই ছেড়ে যেতে পারিনা আমি গরিব মানুষ সংসারে ৪জন সদস্যের ভরন পোষন খুব মানবেতর জীবন পার করছি,  বিদ্যালয়ের পিয়ন আক্তারুল ইসলাম একই কথা জানান পরিবারের ৬ জন সদস্য খুব কষ্টে আছি স্যার,  তবে তারা আশায়  বুক বেধে আছেন এক দিন  না এক দিন সরকার তাদের বিদ্যালয় টি সরকারী  করে দিবেন  তাদের কষ্টের দিন শেষ হবে। 

বিদ্যালয়ের একজন প্রতিবন্ধী ছাত্র আয়নাল হক এ প্রতিবেদকের গলা জরিয়ে ধরে বলেন প্রধান মন্ত্রী  স্যারকে বলবেন আমাদের স্কুল টি যেন তারাতারি সরকারি করে দেন, সে আরও বলে আমাদের স্যার আপারা আমাকে খাইয়ে দেন, ঔষধ দেন, খেলা ধুলা করেন, আদর করেন,  তাই স্যারেরা বেতন না পেলে আমার কষ্ট হয়।

 এদিকে মরহুম মোবারক হোসেনের আরেক ছেলে মোঃ মাহাবুর রহমান (আনন্দ) পুলিশে চাকুরী করেন সে বাচ্চদের টিফিন সহ যাবতীয় খরচ গুলো বহন করে থাকেন বর্তমানে তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন কল্যাণ ও ফোর্স বিভাগ রাজার বাগে কর্মরত আছেন। বিভাগীয় কমিশনার জেলা প্রসাশক এবং উপজেলা প্রসাশনের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের কিছু অবকাঠামো ঠিক করা হয়েছে বাঁকি অনন্য বিষয় গুলো দেখা হবে। এলাকার সকলের প্রত্যাশা বর্তমান সরকার প্রতিব্ন্ধী বান্ধব সরকার তাই এই বিদ্যালয়টি একদিন সরকারের আওতায় আসবে এবং সকল সরকারী সুবিধা পাবে এই সব মানব প্রেমী শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কর্মচারীরা! এই আশায় বুক বেঁধে আছেন বিদ্যালয়ের সকল স্টাফেরা। তাই বিদ্যালয়টি যেন স্বিকৃতি দিয়ে এমপিও করা হবে এমন দাবি সকলের। নওগাঁ  ৪৬ - ১ আসনের সংসদ সদস্য বাবু সাধন চন্দ্র মুজুমদার বিদ্যালয়ে আসেন কিছু বাজেট দিয়েছেন এবং এই বিদ্যালয়টি আরো উন্নয়ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে করে গরিব প্রতিব্ন্ধী শিশুরা যেন সব কিছুর সেবা পায়।

সম্প্রতি পোরশার নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি হোসাইন মোহাম্মদ আল  মুজাহিদ, পরিদর্শনে এসে স্বাগত জানিয়েছেন এমন মহৎ উদ্যেগেকে। মাঝে মধ্যেই নিজে ক্লাশ নিবেন এবং বিদ্যালয়ের যাবতীয় সমস্যা গুলো দেখবেন তাৎক্ষনিক কি কি দরকার সে গুলোর তালিকা চেয়েছেন। শিক্ষকদের বিষয়টা মন্ত্রনালয়ে জরালো ভাবে দেখবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন 

এলাকার সচেতন মহলের দাবী দ্রুত বিদ্যালয় টি জাতীয়করন  করা হোক।

Ads
Ads