বিএনপি নেতার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে! 

  • ২৬-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: আরিফুর রহমান ::

দেশের সরকারি দলের বিরুদ্ধে সর্বত্র দলীয়করণের অভিযোগ বিরোধী দলের নতুন নয়। তবে বরাবরই সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ নাকচ করে বলা হয় মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হচ্ছে। বিএনপির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সমর্থক না হলে চাকরি পাওয়া যায় না, বিরোধী মতাবলম্বীদের ‘ওএসডি’ করে রাখা হয়।

কিন্তু এ অভিযোগ  যে সত্য নয় তার প্রমাণ পাওয়া গেল খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই।  সেখানে কাজ করেন জামায়াতপন্থি এক কৃষিবিদ। নাম কুদরত ই-খুদা (তুষার)। গণপূর্ত বিভাগের প্রধান বৃক্ষপালন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দফতরে দায়িত্ব পালন করছেন। 

জানা গেছে, চারদলীয় জোট সরকারের  আমলে কৃষিবিদ কুদরত ই-খুদা (তুষার) বিএনপিপন্থি পেশাজীবী সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এ্যাব) এর একজন সক্রিয় নেতা। ২০০৩ সালের ৫ মে বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব প্রয়াত আব্দুল মান্নান ভূঁইয়ার এ্যাব এর যে কমিটি অনুমোদন করেন তাতে সহ-প্রচার সম্পাদক হিসেবে কুদরত ই-খুদার নাম রয়েছে। ওই কমিটিতে কৃষিবিদ জাবেদ ইকবাল সভাপতি এবং কৃষিবিদ কবির আহমেদ ভূঁইয়া সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সমালোচকদের মতে, কৃষিবিদ কুদরত ই-খুদা তুষার ‘রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায়’ বিভিন্ন সরকারি দফতরে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি সরকারের আমলে ‘বিএনপিপন্থি’ হলেও মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর ‘আওয়ামীপন্থি’ লেবাসে ‘জামায়াতপন্থি’ এই কৃষিবিদ দীর্ঘদিন যাবত গণভবন, বঙ্গভবনসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে রয়েছেন।

জানা গেছে, কুদরত ই-খুদা তুষারের বাড়ি সিরাজগঞ্জ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এক প্রভাবশালী উপদেষ্টার ইমেজ ব্যবহার করে তিনি স্বপদে বহাল রয়েছেন। ‘ভোল পাল্টানো’ এই কৃষিবিদ আসলেই কি দক্ষতার ভিত্তিতে প্রধান বৃক্ষপালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাকি যখন যে সরকার আসে তখন তিনি তার হয়ে ফায়দা লুটে নিচ্ছেন এমন প্রশ্ন সমালোচক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে। তার ব্যাপারে দফতরের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যার আসেন আর যান। তিনি (কুদরত ই-খুদা) প্রধানমন্ত্রীর বাসবভন, বঙ্গভবন, মন্ত্রীদের বাসভবন, সচিবালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ফুল সাজানো এবং ফুল লাগানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। তাছাড়া রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অতিথিদের টেবিলে ফুল সাজানো এবং ফুল দিয়ে বরণ করার কাজও করেন। এই ফুল আমরা নিয়মিত সরবরাহ করে থাকি। এছাড়া আমাদের আর কোনো কাজ নেই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্ত অধিদফতরের এক প্রকৌশলী দুঃখ প্রকাশ  করে  বলেন, ‘ভাই আমরা সত্যিকারের আওয়ামী লীগের আদর্শের হলেও নব্য  এই ‘আওয়ামী লীগারের’ পাল্লায় পড়েছি। তার দুর্নীতি বলে শেষ  করতে পারব না। তাছাড়া কিভাবে এই কর্মকর্তা ৮ বছরের  বেশি সময় একই জায়গায় কর্মরত আছেন  সেটা আমাদের মাথায় খেলে না। এক লাফে দুই টেবিলে প্রমোশন। তিনি যে টেবিলে যে যোগ্যতায় বসে আছেন, তার আগে আরেক সিনিয়র কর্মকর্তা এই যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু তিনি আবার প্রমোশন  পেয়েছেন।’

দুদকের অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি আরবরিকালচার কর্মচারীদের ১৩-১৪ অর্থ বছরের পোশাক প্রদান না করেই ৫ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন।  সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের লনের ঘাস কর্তন ও পরিষ্কার না করেই ঠিকাদারের সাথে যোগসাজসে ৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ সচিবালয় ১ নং ও ৮ নং ভবন সংলগ্ন মাঠে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমি ফুলের ও শীতকালীন মৌসুমি চারা রোপণ কাজেও অনিয়ম করেছেন। ১৩ লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করেন সীমানা প্রাচীর ও বহিঃবিভাগে হেজবেড ও ফলের বেড প্রস্তুত, চারা রোপণের ভুয়া বিলের মাধ্যমে। এসব অপকর্মের বিষয়ে বহুবার এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা প্রধান বৃক্ষপালনবিদ কুদরত ই-খুদা তুষারকে দুদক তলব করলেও তার কোনো হদিস মিলেনি। 

এ ব্যাপারে কুদরত ই-খুদা তুষারের সাথে গতকাল রোববার তার অফিসে যোগাযোগ করলে তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠালে তারও কোনো ফিরতি জবাব পাওয়া যায়নি।  

এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সাথে বেশ কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকেও পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠালেও তার কোনো ফিরতি জবাব পাওয়া যায়নি।

Ads
Ads