সিবিআইয়ের কোন্দল মিটাতে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ

  • ২৫-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) ঘরোয়া কোন্দলে এবার হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। ছুটিতে পাঠানো হয়েছে সিবিআই প্রধান অলোক বর্মা এবং উপ-প্রধান রাকেশ আস্থানাকে। নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে নাগেশ্বর রাওকে।

দেশটির প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন নিয়োগ কমিটি মঙ্গলবার গভীর রাতেই এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। সিল করে দিয়েছে দুই শীর্ষ কর্মকর্তার কার্যালয়ও। সেখানে তল্লাশি চলছে। দুই সিবিআই শীর্ষকর্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িতদেরও ছুটিতে পাঠিয়েছে সরকার।

অলোক বর্মা ও রাকেশ আস্থানার মধ্যে বিরোধ ছিল গতবছর অক্টোবর থেকেই। প্রমোশন নিয়ে এ বিরোধ শুরু হয়েছিল। পরে গত সপ্তাহে ব্যাঙ্গালুরুর মাংস ব্যবসায়ী মইন কুরেশি মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে এ দুই কর্মকর্তা একে অপরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করলে কোন্দল চরমে ওঠে।

সিবিআই কর্মকর্তারাই গ্রেপ্তার করে আস্থানার ঘনিষ্ঠ অফিসার দেবেন্দ্র কুমারকে। ওদিকে, আস্থানার বিরুদ্ধে নজিরবিহীনভাবে এফআইআর দায়ের করে সিবিআই। আস্থানার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত শুরু করলে তিনি উল্টো সরকারের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার বস অলোক বর্মাই তদন্ত ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ঘুষ নিয়েছেন এবং এখন তাকে (আস্থানা) এ অভিযোগে ফাঁসাতে চাইছেন।

দেশের অন্যতম তদন্ত সংস্থা সিবিআই’য়ে এ অভ্যন্তরীন লড়াইয়ের খবর প্রকাশ্যে আসায় বিড়ম্বনায় পড়ে মোদী সরকার শেষ পর্যন্ত এ সংকটে হস্তক্ষেপ করেছে।

সরকার পক্ষ থেকে বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ভারতে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, ‘‘সিবিআইয়ের ভাবমূর্তি রক্ষা করতেই এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই শীর্ষকর্তাকে ছুটিতে থাকতে হবে।”

নতুন ডিরেক্টর পদে নাগেশ্বর রাওকে আনা ছাড়াও আরও অনেক পদে রদবদল করেছে সরকার। নাগেশ্বর রাও এর আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জয়েন্ট ডিরেক্টর পদে ছিলেন। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন তার নির্দেশেই সিবিআই সদর দপ্তরে চলছে তল্লাশি।

ওদিকে, ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অলোক বর্মা। তার আবেদনের ভিত্তিতে শুনানি আগামী শুক্রবার হবে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।

অন্যদিকে, রাকেশ আস্থানা ইতোমধ্যেই দিল্লি হাইকোর্টে গিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়েছেন। সোমবার পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার না করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দুইজনই বিচারব্যবস্থার আশ্রয় নেওয়ায় এখন ঘটনাটি বহুদূর গড়াবে বলেই মনে করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

Ads
Ads