‘আপন ভাইয়ের চেয়েও বেশি ছিল বাচ্চু ভাই (বস)’

  • ১৮-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: নগর বাউল জেমস::

প্রিয় বাচ্চু ভাই ছিলেন আমার আপন বড় ভাইয়ের চেয়েও বেশি। পরবর্তীতে তিনি হয়ে গিয়েছিলেন আমার বস। নব্বই দশক থেকে আমাকে তিনি আগলে রেখেছেন। এক সঙ্গে পথচলা, ঝগড়া, মান-অভিমান আরও অনেক কিছু। তিনিই আমার অভিভাবক। আমরা ভাই-বন্ধু, একসঙ্গে আমাদের কত যে ডুয়েট অ্যালবাম হয়েছে, গুনে শেষ করা যাবে না। ব্যান্ড সংগীতের শ্রোতারা আমাদের জুটিকে সবচেয়ে বেশি গ্রহণ করেছিলেন।

আমাদের সেই জুটি আজ ভেঙে গেছে। আমি আজ ভাই-বন্ধুকে হারিয়েছি। আমার অভিভাবক চলে গেছেন। বহু স্মৃতি! আর বহু কান্না! আমি একা হয়ে গেলাম। অনেকের মতো আমিও আমার নিরব কান্না দমিয়ে রাখতে পারছি না।

আইয়ুব বাচ্চু নিঃসন্দেহে একজন কিংবদন্তি। সংগীতের সব শাখায় তিনি অবাধ বিচরণ করেছেন। তিনি রক সঙ্গীতের বস হয়ে ওঠেছিলেন। এক কথায় লিজেন্ড, যাই বলি না কেন! তার তুলনা নেই। তিনি সকল বাদ্যযন্ত্রও সমানতালে বাজাতে পারতেন। একজন নিবিড় সাধক। ব্যান্ড সংগীতের সবার অভিভাবক। তার শূন্যতা কোনোদিন আর পূরণ হবে না।

তার সঙ্গে ৮০’র দশকের শুরুর দিকে আমার পথ চলা । এরপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আমরা একে অপরের সুখে-দুঃখে, মানে-অভিমানে কাটিয়েছি। একসঙ্গে প্রচুর শো করেছি, গান করেছি, দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। অথচ তিনি আমার আগেই চলে গেলেন। সকালে এ খবরটি শোনার পরই উড়িয়ে দিয়েছিলাম। বিশ্বাস করতে চাইছিলাম না।

চাইলাম এবারও গুজবই হোক। সত্যি যেন না হয়। অথচ একটু পরই জানলাম, এটাই সত্যি। তারপরও আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। আইয়ুব বাচ্চুর গানই তাকে জীবন্ত করে রাখবে। উনি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ ছিলেন। প্রচন্ড রসাত্মবোধ ছিল তার মধ্যে।  আবার ছিলেন উদ্যমী। যে কোনো উদ্যোগ তিনি সবার আগে গ্রহণ করতেন। বাকিরা তার পথ অনুসরণ করতেন মাত্র। ওনার সাথে আমার যে সম্পর্কটা, সেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে আমরা একজন আরেকজনের পাশে সবসময় ছিলাম। সম্পর্কের এই গভীরতার কথা কখনও বোঝাতে পারবো না। কেউ হয়তো জানবেও না আমাদের হৃদয়ে একে অপরের প্রতি কতটা জায়গা। আবার আমাদের মধ্যে একটা সুস্থ প্রতিযোগিতাও ছিল। কখনও আমার গান হিটতো কখনো বাচ্চু ভাই কাঁপিয়ে দিতেন। মিডিয়া আমাদের সম্পর্কের বিচার কীভাবে করছে, সেটা নিয়ে কখনই আমাদের মাথা ব্যথা ছিল না। আজও নেই। 

ভালো গান তৈরির প্রতিযোগিতা আমরা সবসময় করেছি। এখানে ব্যক্তিগত কোনও দ্বৈরুথ ছিলো না। অনেকেই হয়তো দেখেছেন, আমাদের যখন যেখানে দেখা হয়েছে চারপাশ অগ্রাহ্য করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেছি পরম মমতায়। আমরা দুজন আলাদা হয়ে যেতাম। আড্ডায় মেতে উঠতাম, বাকিরাও আমাদের সঙ্গে যোগ দিত। 

গতকাল উন্নয়ন কনসার্টের জন্য ঢাকার বাইরে বরিশাল ছিলেন জেমস। ফিরবেন তিন দিন পর। তাই ছুটে যেতে পারেননি স্কয়ার হাসপাতালে রাখা আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহের পাশে। এটা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করলেন নগর বাউল জেমস। 

Ads
Ads