বিশ্ব বাঙালির কাছে শেখ হাসিনা অমূল্য সম্পদ

  • ২৮-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

শেখ হাসিনা বর্তমান সময়ের বীর। বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যেভাবে গোছাতে চেয়েছিলেন, যে উচ্চতায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু তা পূরণ হয়নি ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের কালরাত্রির কারণে। এরপর যেসব কুচক্রি মহল বাংলাদেশের শাসনক্ষমতা নিজেদের কুক্ষিগত করেছিল তারা ব্যস্ত ছিল হত্যা, লুণ্ঠন, ক্যু আর দুর্নীতিতে। একটা দেশকে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে তুলে ধরতে যে শক্তি, মনোবল, দৃঢ়তা, ইচ্ছা আর পরিকল্পনার প্রয়োজন ছিল তার কোনোটাই ছিল না বঙ্গবন্ধু পরবর্তী সরকারগুলোর মধ্যে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাকে- সোনার বাংলা বানানোর। তার ফলশ্রুতিতে তিনি বিদেশ থেকে শত বৈরিতা সত্ত্বেও, জীবনবাজি রেখে দেশে ফিরে এসে হাল ধরেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর। একের পর বাধা, চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ছিন্ন করে শেখ হাসিনা তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছেন বিশ্ব মঞ্চের এক অনন্য উচ্চাতায়।

২৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৭ সালে টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তাঁর জন্ম হয়। সময়টা ভারত ভাগের উত্তালে মাতোয়ারা। মূল্যবোধ, রাজনীতি, দর্শন, দেশ ধর্ম দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে নতুন জাতি সত্তা তৈরি হচ্ছে। শেখ হাসিনার জন্মের সময়ে তাঁর পিতা শেখ মুজিব খুবই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কলকাতাতে ভারত ভাগের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। দাঙ্গা প্রতিরোধ, রাজনীতি, আন্দোলন আর লেখাপড়া নিয়ে তিনি তখন মহাব্যস্ত। তাই জন্মের পরেই পিতার স্নেহ পাননি শেখ হাসিনা। দাদা এবং দাদির প্রথম স্নেহ মমতা নিয়ে শেখ হাসিনার জন্ম। প্রিয় নাতনির নাম রাখেন দাদা- ‘হাসিনা’।

মায়ের বুকের উম আর দাদা দাদির সাহচর্যে বেড়ে উঠতে থাকেন এখনকার সময়ের উন্নয়ন নেত্রী, মমতাময়ী মা শেখ হাসিনা। আচমকা একদিন ‘হাসুমনি’র কপালে কোমল চুমু এঁকে দিয়ে সবাইকে অবাক করে দেন শেখ মুজিব। কাউকে না জানিয়ে খবর পেয়ে মেয়েকে দেখতে সব কাজ ফেলে ছুটে আসেন কলকাতা থেকে। পিতার সেই প্রথম চুমুতে ছিল দুর্নিবার শক্তি। জাতির জনকের সাত রাজার ধন ফুটফুটে ‘হাসুমনি’ বহু ইতিহাসের উত্থান পতন, সংগ্রাম ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠেন বিশ্ব বাঙালির প্রিয় নেত্রী উন্নয়ন কন্যা এবং বাঙালির আশা ভরসার প্রতিচ্ছবি। প্রকৃতির অপার মমতার মাঝেই তার বেড়ে ওঠা এবং শিক্ষা জীবনের শুরু হয়। অবারিত মাঠ আর ছায়া সুনীবিড় গ্রামে ছোট ছোট পা ফেলে মহা জীবনের পথে পা বাড়ান শেখ হাসিনা। একসময়ে গ্রামের জীবন ছেড়ে আরও বিস্তৃত জীবনের শিক্ষা লাভের জন্যে ঢাকায় এসে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন।

মা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেন। শেখ হাসিনা গভীর জীবনবোধ এবং উন্নত চরিত্রের আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা লাভ করেন মায়ের কাছ থেকে। আর উচ্চশিক্ষার জন্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে শেখ হাসিনা ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা যার মা, বাংলা যার প্রাণ-তিনি বাংলা বিভাগে পড়াশোনা করবেন এটাই তো স্বাভাবিক? বাঙালি এবং বাংলাদেশের প্রতি তার মমতা আরও সুগভীর হয় বাংলা বিভাগে পড়াশোনার কারণে। তিনি ঢাকায় স্কুল ও কলেজে লেখাপড়া করেছেন তাই তার বন্ধুর সংখ্যাও ছিল অনেক। সবার মাঝে তিনি ছিলেন আনন্দের উপলক্ষ্য। সাথে মার্জিত, পরিশীলিত এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কারণে খুব কম সময়ের মধ্যে তিনি সকলের প্রিয় হয়ে ওঠেন। সবাই তার সাথে আড্ডা দেয়ার জন্যে উদগ্রিব থাকতো। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভিন্ন মতের এবং রাজনীতির ছেলেমেয়েরাও শেখ হাসিনাকে অনেক পছন্দ করতো এবং ভালবাসতো তার প্রজ্ঞা আর মমতাময়ী হৃদয়ের কারণে। ছোট, বড়, ছাত্র, শিক্ষক- সবার সাথে ছিল তার সখ্য।

বর্তমান আধুনিক বিশ্ব বাঙালির কাছে শেখ হাসিনা অমূল্য সম্পদ। পিতা যেমন তর্জনির গর্জনে সাত কোটি বাঙালিকে জাগিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন তেমনি তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনে বিশ্ব বাঙালি পৌঁছে যাচ্ছে উন্নত বিশ্বের কাতারে। সাবমেরিন থেকে মাটি, আর মাটি থেকে স্যাটেলাইট সব জায়গায় বাংলাদেশের এখন অপ্রতিরোধ্য বিচরণ। অবাক বিস্ময়ে বিশ্ব দেখছে এখন শেখ হাসিনার উন্নয়ন ম্যাজিক। শুধু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয় তিনি যখন বিরোধীদলের নেত্রী ছিলেন তখনও বিশ্ব দেখেছে তার অসীম তেজ এবং ক্ষিপ্রতা, আপসহীনতা আর সংগ্রাম আন্দোলনের দূরদর্শিতা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী হয়ে বারবার দায়িত্ব পালনকালে তিনি যথেষ্ট সচেতন। ভালো মন্দ যে কোন ঘটনা ঘটুক শেখ হাসিনা জানতে পারলে যেকোনো মূল্যে তার সুরাহা নিজেই বের করে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত মনিটরিং করেন।

তার ধ্যান জ্ঞান হলো মানুষ আর দেশ। নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বের কাছে তিনি বিস্ময়ে পরিণত হয়েছেন। আর বিডিআর বিদ্রোহ দমনের সময় তার অপরিসীম সাহস ও প্রজ্ঞা দেখেছে বিশ্ববাসী। রাষ্ট্র নায়কোচিত বক্তব্য, জ্ঞান, আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে বারবার। বাঙালি সাধারণ আটপৌরে নারী না হয়ে তিনি সারা বিশ্বের কাছে স্বমহিমায় উজ্জ্বল হয়েছেন, আলো ছড়িয়েছেন সবার মাঝে।

লেখক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প-বাণিজ্য ও ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির সদস্য

Ads
Ads