বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন: প্রধানমন্ত্রী

  • ১৬-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ষড়যন্ত্রে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিল। শুধু জিয়া একাই নয়, তার স্ত্রীও হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। তা না হলে জাতির পিতাকে হত্যার তদন্তে‌ জিয়া বাধা দিয়েছিল কেন?

বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি এবং জিয়াউর রহমান তাদের দূতাবাসে চাকরিসহ বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত করার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের পার্লামেন্টে বসিয়েছিল জিয়ার স্ত্রী (খালেদা জিয়া)। তার অর্থ কী দাঁড়াচ্ছে জিয়াউর রহমান একাই নয়, তার স্ত্রীও ১৫ আগস্টের হত্যার ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ও তার স্ত্রী খালেদা জিয়া প্রতি মাসেই দু’একদিন আমাদের বাড়িতে যেত। তাকে মেজর থেকে জেনারেল করেছেন আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। অথচ বঙ্গবন্ধু হত্যার পর আমি ও আমার বোন শেখ রেহানাকে জিয়াউর রহমান দেশে আসতে দেয়নি। কারণ আমরা দেশে আসলে তার রাজনীতি করতে অসুবিধা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিরা খুনিই হয়। এই খুনিরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে। বার বার আমাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে। কাজেই এদের হাতে দেশের ক্ষমতা গেলে দেশের কি উন্নতি হবে, দেশের মানুষ কি ন্যায় বিচার পাবে?

জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা ও বিএনপির প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অন্যায়ের মধ্যে দিয়ে যাদের ক্ষমতা দখল তারা কখনও ন্যায় বিচার করতে পারে না।

১৫ আগস্ট বাঙালি জাতির জন্য সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন হিসেবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন,  জাতির পিতা বেঁচে থাকলে, তার হাতে রাষ্ট্র ক্ষমতা যদি থাকতো তবে স্বাধীনতার ১০ বছরের মধ্যে বাঙালি জাতি ক্ষুধা দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতো, উন্নত জাতি হিসেবে বিশ্বে মর্যাদা পেতো।

শেখ হাসিনা বলেন, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, যারা কারাগারে চার জাতীয় নেতাকে হত্যা করেছে তারা মুক্তিযুদ্ধে সকল চেতনাকে মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে। তারা তো এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন চায় না। বাংলাদেশ উঠে দাঁড়াক চায় না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাক এখনো চায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং এখনো চক্রান্ত করে যাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। কারণ, তারা নিজেরা ভালো থাকতে চায়, বাংলাদেশের কল্যাণ দেখতে চায় না। তাদের অর্থের উৎস কোথায়? তারা কিছু হলেই আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলে। স্বাধীনতার পর থেকে মিথ্যা অপপ্রচার শুরু হয়েছিল। জনগণকে বিভ্রান্তে অপচেষ্টা হয়েছে। কর্নেল রশিদ-ফারুকরা বিবিসির সঙ্গে সাক্ষাতকারেও বলেছিল শেখ মুজিব এত বেশি জনপ্রিয়, শত চেষ্টা করেও তার জনপ্রিয়তা কমানো যায়নি। যার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্র দিয়েছে বলে অনেকে জিয়াউর রহমানকে বাহবা দেয়ার চেষ্টা করেছে। আমার প্রশ্ন, জিয়াউর রহমান কিভাবে ক্ষমতায় এসেছিলেন? অস্ত্রের মুখে বিচারপতি সায়েমকে হটিয়ে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করলেন। পাকিস্তানের এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন তিনি। গুম আর হত্যা করাই তো ছিল জিয়ার কাজ। হাজার হাজার সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন তিনি। অবৈধভাবে যারা ক্ষমতায় আসে তারা কি করে গণতন্ত্র দিতে পারে? সংবিধান লংঘন করে যে ক্ষমতায় আসে সে শাসক কিভাবে গণতন্ত্র দেয়?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে স্বাভাবিক করতে অনেক সময় লাগে। স্বাধীনতার পর দেশের যে অবস্থা ছিল সেই অবস্থা থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে জাতির পিতাকে কি আরেকটু সময় দেয়া যেত না? সদ্য স্বাধীন দেশ পুনর্গঠনের জন্য তাকে সময় দেয়া হয়নি। তার বিরুদ্ধে শুধু সমালোচনা ও ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু দেশের স্বার্থে কখনোই আপস করেননি।

ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যদি মনে করেন আমি বড় সাংবাদিক, লেখক, কবি, তাদের অপরাধ কোনো অপরাধ নয়। সেটা ভাবা ঠিক হবে না। আপনি অনেক জ্ঞানী হতে পারেন, কিন্তু সমাজের প্রতি আপনার কি কোন দায়িত্ব থাকবে না? আর দায়িত্ব বোধের পরিচয় যদি না দেন তাহলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কি অন্যায় হয়ে যাবে? উসকানি দাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কেন হইচই শুরু হয়ে যাবে?

তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিশোরদেও আন্দোলন শুরু হলো। দু’দিন দেখলাম। তারপর তৃতীয় শক্তি ঢুকে গেল। স্কুলের ব্যাগে, দা, চাইনিজ কুড়াল, পাথর। তাদের ব্যাগে তো বই থাকার কথা। যারা অন্যায় করেছে তাদের নিয়ে তো কেউ লিখলেন না। তাদের বিরুদ্ধে তো আপনাদের কালি ফুরিয়ে গেল?

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাম্যবাদী দলের প্রধান দিলীপ বড়ুয়া ও যুগ্ম-সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

/ই

Ads
Ads