গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর সঙ্গে দেখা করলেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা

  • ১২-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:৩০
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে সুবর্ণচরে গণধর্ষণের শিকার সেই নারীর সঙ্গে দেখা করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

শনিবার (০৫ জানুয়ারি ) দুপুর ১২টায় ভিকটিমকে দেখতে হাসপাতালে যান তারা।

সেখানে তারা কিছুক্ষণ ওই নারীর পাশে বসেন ও ভিকটিমের কথা শোনে মির্জা ফখরুল বলেন, বোন আমরা তোমার পাশে আছি। তোমার কোনো ভয় নেই।’ ‘বোন, এই নিমর্মতার অবশ্যই একদিন বিচার হবে। আল্লাহ এর বিচার করবেন।’ মাথায় হাত বুলানোর সময়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন মির্জা ফখরুল।

এ সময়ে চারপাশের নেতাদের অশ্রুসজল হয়ে পড়তে দেখা যায়। পারুলের কান্নার সাথে তার স্বামী সিএনজি চালকও বিএনপি মহাসচিবকে জড়িয়ে কাঁদতে থাকে। এরপর জেএসডির আসম আবদুর রব ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীও পারুলের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেন।

পরে বিএনপি মহাসচিব, আসম আবদুর রব, কাদের সিদ্দিকী পারুলকে আর্থিক অনুদান দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পারুলের স্বামী ও চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। জেনারেল হাসপাতালের ০৯ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পারুল।

পরে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভোটের অধিকার থেকে আওয়ামী লীগ মানুষকে বঞ্চিত করেছে তাদের প্রতারিত করেছে। এই বঞ্চিত করার পরে যেহেতু তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সেজন্য তারা এখন গণশত্রুতে পরিণত হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে, নির্বাচনের দিন ও নির্বাচনের পরবর্তিতে যে সহিংসতা সৃষ্টি করেছে তাতে অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে, পঙ্গু হয়েছে। এমনকি আমার বোন নোয়াখালীতে ধর্ষিতা পর্যন্ত হয়েছেন চার সন্তানে মা তিনি। আমরা এর ধিক্কার জানাচ্ছি, তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। জনগণের কাছে এর বিচার দিচ্ছি।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এটা দেশের রাজনীতিতে একটা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত সৃষ্টি করবে। আমরা মনে করি একটা অন্ধকার যুগে প্রবেশ করল, বাংলাদেশ গণতন্ত্র বিহীন হলো, একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রবর্তন করার তাদের যে নীল নকশা সেদিকে তারা এগিয়ে গেলো।’

এর বিরুদ্ধে আপনারা কি করবেন সাংবাদিকদের এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবো।’

এ সময়ে বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নুল আবদিন ফারুক, আতাউর রহমান ঢালী, শামসুল আলম, মাহবুবউদ্দিন খোকন, হারুনুর রশীদ, শহিদ উদ্দিন চৌথুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, শিরিন সুলতানা, রেহানা আখতার রানু, সৈয়দ আসিফা আশরাফী পাপিয়া, শামীমা বরকত লাকী, হারুনুর রশীদ, আকবর হোসেন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের হাবিবুর রহমান খোকা, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খান, স্থানীয় নেতা জেলা সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, শহর সভাপতি আবু নাসের, অঙ্গসংগঠনের মঞ্জুরুল আজিম সুমন, নুরুল আমিন খান, সাবের আহমেদ, মিজানুর রহমান মিজান, আবু হাসান নোমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

/কে 

Ads
Ads