যে কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়েছে ৩৫০ মার্কিন সংবাদমাধ্যম

  • ১৭-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই সংবাদমাধ্যমের ওপর খড়গ হস্ত হয়েছেন। যা মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে আসে। ট্রাম্প প্রায়ই সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেন। তাঁর ভাষায়, গণমাধ্যম ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে। সাংবাদিকেরা জনগণের শত্রু।

যদিও সাংবাদিক সমাজ ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, প্রেসিডেন্টের এমন মনোভাব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবে এসবে পাত্তা না দিয়ে গণমাধ্যমের প্রতি ক্রমাগত ক্ষোভ ঝেরে যাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অব্যাহত আক্রমণের প্রতিবাদে ও স্বাধীন গণমাধ্যমের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০০টির বেশি সংবাদমাধ্যম বৃহস্পতিবার (১৬ আগস্ট) একটি প্রচার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে। গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্টের ‘জঘন্য লড়াই’-এর প্রতিবাদে ‘হ্যাশট্যাগ এনিমিঅবনান’ ব্যবহার করে নিজেদের অবস্থান জানাতে গত সপ্তাহে ডাক দেয় দ্য বোস্টন গ্লোব।

সংবাদমাধ্যমটি বলে, তারা গণমাধ্যমের প্রতি প্রশাসনের আক্রমণের বিপদ বিষয়ে একটি সম্পাদকীয় লিখবে। অন্যদেরও এতে শামিল হতে বলে তারা। এর জন্য নির্ধারিত দিন ছিল বৃহস্পতিবার। সে মোতাবেক গতকাল তারা সম্পাদকীয় লিখেছে। তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় ও জাতীয় প্রায় ৩৫০টি সংবাদমাধ্যম।

দ্য বোস্টন গ্লোব তাদের সম্পাদকীয়র শিরোনাম করেছে, সাংবাদিকেরা শত্রু নয়। এতে তারা বলেছে, ২০০ বছরের বেশি সময় ধরে স্বাধীন গণমাধ্যম যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মূল নীতি হিসেবে চলে আসছে।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ‘স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রয়োজন’ শিরোনামের সম্পাদকীয়তে বলেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আক্রমণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

দ্য বোস্টন গ্লোব-এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্য নিউইয়র্ক পোস্ট ‘কে আপনাদের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে?’ শিরোনামে একটি সম্পাদকীয় লিখেছে।

সেখানে সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, ‘অপ্রিয় সত্য প্রকাশ করার অর্থ ভুয়া খবর নয়। এ নিয়ে বিতর্ক করাটা খুবই হতাশাজনক।’

কলাম লেখক ম্যাকক্লাটচি একটি লেখা লিখেছেন, যেটি ৩০টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ওই লেখায় তিনি বলেছেন, ‘একটা সময় যুক্তরাষ্ট্রে বহু মত প্রকাশের সুযোগ ছিল। ক্রমেই এটি একটি কণ্ঠস্বর হয়ে যাচ্ছে। এখন যেটাকে জনগণের শত্রু বলা হচ্ছে, নাৎসিরা ইহুদিদের সেটা বলত। জোসেফ স্টালিনের সমালোচনা করলে মৃত্যুদণ্ড অবধারিত ছিল।’

এই প্রচারণায় যোগ দিয়ে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সমর্থনে কাজ করা টপেকা ক্যাপিটাল-জার্নাল লিখেছে, ‘এটা অশুভ। এটা ধ্বংসাত্মক। এর শেষ হওয়া উচিত।’

মিজৌরির দ্য কানসাস সিটি স্টার গণমাধ্যম নিয়ে ট্রাম্পের কথাবার্তাকে স্টালিনের অনুরূপ বলে মন্তব্য করেছে। তাদের সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, কর্মকর্তারা যা নিয়ে কথা বলতে চান না বা পাঠকেরা যা নিয়ে পড়তে চান না, তা নিয়ে সংবাদ হলেই সেটাকে ‘ভুয়া খবর’ বলা হচ্ছে।

তবে এই প্রচারণায় যোগ দেয়নি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। আর রক্ষণশীল ওয়েবসাইট টাউনহল ডটকম সংবাদমাধ্যমের একজোট হওয়াকে যোগসাজশ বলে মন্তব্য করেছে। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত মঙ্গলবার এক জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ রিপাবলিকান ভোটার বিশ্বাস করেন, গণমাধ্যম গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বদলে জনগণের শত্রু হতে পারে। আর ৫২ শতাংশ রিপাবলিকান সমর্থক ট্রাম্পের আক্রমণ যে সাংবাদিকদের প্রতি সহিংসতা বাড়িয়ে দিতে পারে, সে ব্যাপারে উদ্বিগ্ন নয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেক নিউজ বা ভুয়া খবর শব্দটি ব্যবহার করে ২৮১ বার টুইট করেছেন।

/ই

Ads
Ads