অল্পের জন্য ড্রোন হামলা থেকে প্রাণে বাঁচলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

  • ৫-Aug-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর লাইভ বক্তব্য দেয়ার সময় ড্রোন বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। তবে তিনি অক্ষতই রয়েছেন।

সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা গেছে, খোলা মাঠে সামরিক বাহিনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে প্রেসিডেন্ট ও অন্য কর্মকর্তারা হঠাৎ করে উপরের দিকে তাকিয়ে সচকিত হয়ে ওঠেন। সেই সময়ে বন্ধ হয়ে যায় টেলিভিশনের অডিও। ছোটাছুটি শুরু করে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ানো সেনা সদস্যরা। বড় ধরণের বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় সেই সময়ে।

এই হামলার জন্য কলম্বিয়াকে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট মাদুরো। তবে এই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে তা উড়িয়ে দিয়েছে বোগোটা।

ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলার ঘটনায় সাত সেনাসদস্য আহত এবং আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী জর্জ রদ্রিগেজ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট স্ট্যান্ডের কাছে বিস্ফোরকবোঝাই দুটি ড্রোনের বিস্ফোরণ ঘটে।

পরে জাতির উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেন, একটি উড়ন্ত বস্তু আমার সামনে বিস্ফোরিত হয়, এটা বড় বিস্ফোরণ ছিল। এর কিছুক্ষণ পর আরও একটি বিস্ফোরণ ঘটে।

রদ্রিগেজকে উদ্ধৃত করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনীর ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময়ে এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, বিস্ফোরক ভর্তি দুটি ড্রোন প্রেসিডেন্ট মঞ্চের কাছাকাছি দিয়ে উড়ে যায়।

তবে কোন গ্রুপ ওই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি। কিন্তু যোগাযোগ মন্ত্রী মি. রডরিগুজ হামলার জন্য ডানপন্থী বিরোধী দলকে দায়ী করেছেন। তার বক্তব্য, ভোটে হারার পর তারা আবার এখানেও হেরেছে।

গত মে মাসে ভেনেজুয়েলায় অনুষ্ঠিত হয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ওই নির্বাচনে পরবর্তী ছয় বছরের জন্য আবারও নির্বাচিত হন মাদুরো। নির্বাচনে জালিয়াথির অভিযোগ উঠলেও দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন তিনি।

২০১৭ সালে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের ওপর একটি হেলিকপ্টার থেকে গ্রেনেড ফেলার ঘটনা ঘটে। অস্কার পেরেজ নামে এক হেলিকপ্টার চালক দাবি করেন তিনি এই হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সরকারের বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলাবাসীকে জেগে ওঠার আহ্বান জানান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে কারাকাসের কাছে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি।

বামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো চাবেজের মৃত্যুর পর ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হন তার ঘনিষ্ট সহচর নিকোলাস মাদুরো। চাবেজের মতো তাকে ঘিরেও বিভক্ত মতামত রয়েছে দেশটিতে।

প্রথমবার ক্ষমতা নেওয়ার পর মাদুরোর বিরুদ্ধে গণতন্ত্র খর্ব ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বিরোধীরা তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর দমনপীড়নের অভিযোগ করে থাকেন। অন্যদিকে তার অনুসারীরা বলে থাকেন, মাদুরো দেশকে সেনা অভ্যুত্থান থেকে রক্ষা করছেন।

গত মে মাসে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর তেল সমৃদ্ধ ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়। তবে দেশটিতে এখনও অনেক মানুষ মাদুরো ও তার দল ইউনাইটেড সোস্যালিস্ট পার্টির (পিএসইউভি) প্রতি সমর্থন ধরে রেখেছে। দলটি বলে আসছে ভেনেজুয়েলার সঙ্কট সরকারের তৈরি নয় বরং তা যুক্তরাষ্ট্রের মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর তৈরি।

/ই

Ads
Ads