যে কারনে ইসরাইলের ধ্বংস হবেই হবে!

  • ২৭-Jul-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

গবেষক ও বিশ্লেষকদের অনেককেই বলছেন ইসরাইলের পতন বা ধ্বংস অনিবার্য। বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের এই মতের পক্ষে কিছু প্রামাণ্য ও অকাট্য যুক্তি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির বিশ্লেষক ও বিশিষ্ট গবেষক মুনীর হুসাইন খান।

বিশ্ব-কুদস দিবসের প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি তিনি এইসব অভিমত তুলে ধরেছেন রেডিও তেহরানের কাছে।

ফিলিস্তিন এবং আল-কুদস হচ্ছে মুসলিম উম্মাহর প্রধান বা সর্ববৃহৎ সমস্যা এবং উম্মুল মাসায়েল অর্থাৎ সকল সমস্যার মূল। কারণ, এই সমস্যার সঠিক ও সুষ্ঠু সমাধান হলে মুসলিম উম্মাহ এবং ইসলামী বিশ্বের বাকি সব সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হওয়া সম্ভব।

আজ ৭০ বছর গত হয়ে যাওয়ার পরেও ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান হয় নি। আর তাই কাশ্মির , মরো ,পাত্তানি , চেচনিয়া, কারাবাগ, উইঘুর ( পূর্ব তুর্কিস্তান)সহ মুসলিম উম্মাহর কোনো একটি সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হচ্ছে না এবং হবেও না।

ফিলিস্তিন ও আল-কুদস সমস্যার ঠিক তখনই সঠিক, সুষ্ঠু ও ন্যায্য সমাধান হবে যখন মুসলিম বিশ্ব ভেতর থেকে শক্তিশালী হবে এবং মুসলিম উম্মাহর এ সর্ববৃহৎ সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত শক্তি ও জোর প্রয়োগ করতে সক্ষম হবে।

আর তা সম্ভব হলে মুসলিম উম্মাহ কাশ্মীর, মিন্দানাও, পাত্তানি ও রোহিঙ্গা সমস্যার মতো দীর্ঘ বহু যুগের পুরনো সমস্যাগুলো একের পর এক সমাধান করতে পারবে শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে থাকার কারণে।

তাই ফিলিস্তিন সমস্যার ন্যায্য ও সুষ্ঠু সমাধান মুসলিম উম্মাহকে নিঃসন্দেহে শক্তিশালী করবে এবং ইসলাম ও মুসলিম উম্মাহর দুশমনদেরকে করবে ভীত-সন্ত্রস্ত, দুর্বল ও হতভম্ব।

ফিলিস্তিন ভূখণ্ড জবর দখল করা হয়েছে অন্যায়ভাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে , সন্ত্রাসের মাধ্যমে এবং ফিলিস্তিনিদের গণহত্যা ও তাদের মাঝে ভয় ও ত্রাস সৃষ্টি করে তাদেরকে তাদের পৈতৃক ভিটামাটি ও বাসা–বাড়ী থেকে উচ্ছেদ ও বহিষ্কার করার মাধ্যমে।

যে ইসরাইলের গোড়া-পত্তন হয়েছে গণহত্যা,লুণ্ঠন, উচ্ছেদ, ভূমি জবর-দখলের মধ্য দিয়ে সেই ইসরাইল কেবল শক্তির ভাষাই বোঝে। তার সাথে শান্তি আলোচনা বৃথা সময় নষ্ট করা ছাড়া আর কিছুই নয়। চোরা না শোনে ধর্মের বাণী।

ইসরাইল ন্যায়-নীতির ধার ধারে না। আসলে ইসরাইল এবং এব় অবৈধ জন্মদাত্রী ব্রিটেন,ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তথা পাশ্চাত্যের কাছে অধিকার, ন্যায়, মানবতা ও নৈতিক মূল্যবোধের কার্যত: কোনো মূল্য নেই। এগুলোর প্রতি এদের কোনো বিশ্বাসও নেই।

এদের কাছে যে জিনিসটির মূল্য রয়েছে তা হচ্ছে অর্থ, বিত্ত, স্বার্থ ও ভোগবিলাস এবং বৈধা-বৈধ যে কোনো পন্থায় তা অর্জন করতে এরা বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না। বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তিও এদের কাছে অসার ও মূল্যহীন। তাই শক্তির ভাষায় এব়া ডায়ালগ করে এবং এদের সাথে আলোচনাও শক্তির ভাষাতেই করতে হয়।

ইসরাইল ও পাশ্চাত্যের সাথে আরবদের তথাকথিত মধ্যপ্রাচ্য শান্তি আলোচনাকে অনেকটা হিংস্র মাংস-খেকো নেকড়ের সাথে নিরীহ গোবেচারা ভেড়া ও মেষের সংলাপ বলা যায়।

ফিলিস্তিন সমস্যার নিষ্পত্তি ও সমাধানের নামে এ আলোচনার প্রহসন চললেও নেকড়ের তীক্ষ্ণ চোখা বড় বড় দাঁত দেখেই ভয়ে মেষের প্রাণখানা যেমন নিমিষে পানি হয়ে যায় ঠিক তেমন দশাই হচ্ছে আরব রাজা ও শাসকদের।

Ads
Ads