পাকিস্তান ইমরান খানের জয়ে হতাশ বিএনপি

  • ২৭-Jul-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

ভোরের পাতা ডেস্ক

ঐতিহাসিক ভাবেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং তাঁর দল মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বিএনপি। একই সঙ্গে পাকিস্তান আর্মির সঙ্গে তাদের ভালো সম্পর্ক। তবে সময়ের পরিবর্তনের এখন দু:সময় নওয়াজের। গতকাল অনুষ্ঠেয় পাকিস্তানের নির্বাচনে তাঁর দল মুসলিম  লিগের ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের পুরো ফলাফল না আসলেও তাদের বিপর্যয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর তাই সম্প্রতি দেশে ফিরে মেয়ে মরিয়ম সহ গেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা নওয়াজ শরিফ যে শিগগিরই মুক্তি পাচ্ছেন না। আর নির্বাচনে দেশটির সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের বিজয়ী হচ্ছেন বলা যায়। ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই) এর বিজয়ে আরেকটি বিষয় নিশ্চিত হয়ে গেছে, তা হলো পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে পরিবর্তন। এই পরিবর্তিত পাকিস্তানি সেনাবাহিনীও যে বিএনপির নেতৃত্বের অপরিচিত।

অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়েই গত ১৩ জুলাই লন্ডন থেকে পাকিস্তানে ফেরেন নওয়াজ শরিফ। নওয়াজের দেশের ফেরার খবরে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেছিলেন, কোনো ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েই হয়তো দেশে ফিরছেন তিনি। তবে পাকিস্তানে লাহোরের বিমানবন্দরে নেমেই গ্রেপ্তার হন নওয়াজ শরিফ এবং তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। এরপর থেকেই বন্দী জীবন যাপন করছেন। ওই ঘটনার মাত্র ১২ দিন পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের একাদশ পার্লামেন্ট নির্বাচন। সেখানেও ভরাডুবি দলের। নওয়াজ শরিফের দেশে ফিরে আসার খবরে অনেকেই আশা করেছিল নির্বাচনে জয়ী হয়ে হয়তো বাংলাদেশের সুসম্পর্ক থাকা রাজনৈতিক দলকেও সহায়তা করবেন তিনি। আর পাকিস্তানে যেমন নওয়াজ ও তাঁর মেয়ে মুক্তি পাবেন তেমনি বাংলাদেশে মুক্তি পাবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও দেশে ফিরবেন তাঁর ছেলে বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। কিন্তু পরপর দুটি ঘটনার পর এমন কল্পনা করা অনেকের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে।

পাকিস্তানে নির্বাচনে এরই মধ্যে নিশ্চিত হয়ে গেছে ইমরান খানের নেতৃত্ব। নতুন এই পাক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে অপরিচিত। কারণ ইমরান খানের যখন রাজনীতি প্রবেশ যখন, তখন থেকেই বিএনপি যে বাংলাদেশের মূলধারা থেকে দূর পরাহত। নওয়াজ শরিফের সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বের যে নৈকট্য ছিল ইমরানের সঙ্গে ঠিক ততটাই দূরত্ব। একই সঙ্গে ইমরানের নেতৃত্ব আসার ফলে পাকিস্তান আর্মিতে পরিবর্তনের ফিসফাস বাস্তব হয়েই দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনে ইমরানের এই সাফল্যের নেপথ্যে আছে পাকিস্তান আর্মি। দেশের রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলে পাকিস্তান আর্মির প্রভাবের কথা সবারই জানা। ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনার পেছনেও বড় ভূমিকা রেখেছে সেনাবাহিনী। কিন্তু ইমরানকে ক্ষমতায় এনে সেনাবাহিনীর কী লাভ? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমানে পাকিস্তান আর্মিতে এসেছে তরুণ নেতৃত্ব। এই তরুণ নেতৃত্ব ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্কে আগ্রহী। তাইতো এনেছে ইমরানকে।

পাকিস্তান আর্মি ভারতের সঙ্গে বৈরিতার বদলে ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। যুদ্ধ-বিগ্রহে সময় ও অর্থ অপচয় না করে ভারতের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য গড়তে চায় পাকিস্তান আর্মির তরুণরা।

পাকিস্তান আর্মির আগের নেতৃত্বে সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল বিএনপির। নতুন এই তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপি পুরোপুরিই অপরিচিত। ভারত বিরোধী মনোভাব থেকে বাংলাদেশে বিএনপির পক্ষে পাক আর্মির সমর্থন আশা ছিল বিএনপির। কিন্তু পরিবর্তিত পাকিস্তান আর্মির কাছ থেকে সেই আশা গুড়ে বালি।

নির্বাচন পরবর্তী পাকিস্তানে আগামী কয়েকমাস রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল থাকবে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমন উত্তাল অবস্থায় দেশ নিয়েই ব্যস্ত থাকবে পাকিস্তান সামরিক গোয়েন্দা (আইএসআই) থেকে শুরু করে দেশটির সব ধরনের নিরাপত্তা বাহিনী। তাই আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পাকিস্তানের কোনো আগ্রহ এবং দেওয়ার মতো সময় থাকবে না বলেই বিশ্বাস আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।

পাকিস্তান নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব যে স্বপ্নের জাল বুনেছিল তা এরই মধ্যে ছিঁড়ে গেছে। নির্বাচন এবং এর আগে পরের ঘটনাপ্রবাহে এটা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে অনেকদিনই পাকিস্তানকে পাশে পাচ্ছে না বিএনপি। পাকিস্তানের নির্বাচন সামগ্রিকভাবেই হতাশ করেছে বিএনপিকে।
 

Ads
Ads