আলেমদের তোপের মুখে তাবলীগের মাওলানা জুবায়ের

  • ১২-জানুয়ারী-২০১৯ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ষ্টাফ রিপোর্টার ::

তাবলীগের চলমান সংকট নিয়ে তোপেরমুখে পড়েছেন তাবলীগের মূলধারাচ্যুত মাওলানা জুবায়ের। মূলত নিজের ক্ষমতা ও কাকরাইলের শূরার মসনদ টিকিয়ে রাখতেই তাবলীগের শত বছরের নিয়ম ভেঙ্গে রাজনৈতিক আলেমদের ভুল তথ্য দিয়ে তিনি সাদ কান্ধলভী বিরোধী আন্দোলনে হেফাজত নেতাদের মাঠে নামান।

গত ১লা ডিসেম্বর টঙ্গীর ময়দানে মাদরাসা ছাত্র ও তাবলীগ জামাতের সাথীদের মাঝে সংঘর্ষে ছাত্রদের পাশে মূলধারাচ্যুত মাওলানা জুবায়ের গ্রুপের কোন তাবলীগের সাথীকে না পাওয়া নিয়ে এখন হেফাজত ও জুবায়েরপন্থীদের মাঝে বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। এটি সর্বশেষে মাওলানা জুবায়েরের দেওবন্দ যেতে অনিহা প্রকাশ করার পর থেকে এই বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে।

গত ১লা ডিসেম্বর ঢাকায় টঙ্গীর সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে পরদিন ২রা ডিসেম্বর সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন হেফাজতের ওজাহাতি আলেমরা। তখন তারা সাংবাদিক সম্মেলনে জুবায়েরকে আসতে ফোন দেন। তখন তিনি জানান, এরকম সাংবাদিক সম্মেলন করা তাবলীগের উসুলের খেলাফ। আর আমি টিভি ক্যামারার সামনে কথা বলব না। তখন ঢাকার কয়েকজন যুবক ওজাহাতি নেতা জোড় করে তাকে সাংবাদিক সম্মেলনে আনতে বাধ্য করেন বলে জানয়েছেন, এই যুবক আলেমদের একজন মাওলানা লুকমান সাকী।

তখন তারা বলেন, আপনি আমাদের ছাত্রদের মাঠে নামিয়ে রক্তাত্ত করে এখন উসুলের কথা বলছেন। যখন আলেমদের কাছে ইনিয়ে বিনিয়ে তাবলীগের ও মাওলানা সাদের নামে নানান কথা বলেছিলেন, তখন আপনার উসুল কোথায় ছিল? তাদের এরকম আক্রমনাত্মক কথা ও চাঁপের মূখে পড়ে তিনি মওলানা ওমর ফারুককে নিয়ে হেফাজত নেতাদের সাথে সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হয়ে তাদের শেখানো কথা বলতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তাবলীগের মূলধারাচ্যুত ৫ শূরা ও হেফাজত নেতাদের মাঝে দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, এখন মাওলানা সাদের উপর আরোপিত অধিকাংশ মিথ্যাচারের গোঁমড় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মূলত মাওলানা জুবায়ের ক্রমশ হেফাজতী আলেমদের চাঁপের মুখে পড়েছেন।

এরপর গত ১০ ডিসেম্বর এনিয়ে হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতের আলেমরা মাওলানা যুবায়েরদের নিয়ে পরামর্শ সভায় বসেন। তখন হেফাজতের সকল কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তৃতায় তার উপর ক্ষোভ ফুটে উঠে। তারা জানতে চান মাওলানা যুবায়েরের কাছে, “আপনি বললেন ঢাকা শহরেই কেবল আপনার ৪৯ হাজার তিন চিল্লার সাথী আছেন। আর নিজামুদ্দিন অনুসারী মাত্র ১১হাজার তাবলীগের সাথী আছেন। সারা দেশে অন্তত ৪লক্ষ তিন চিল্লার সাথী আপনার আছে। তাহলে টঙ্গীর ময়দানে কেন শুধু মাদরাসার ছাত্ররা আহত হল? আপনার এত তিন চিল্লার সাথীরা কোথায় ছিল? তাদেরকে কেন ময়দানে আনা হলো না? আর আপনি বললেন, মাওলানা সাদ সাহেবের সাথে বাংলাদেশে তেমন কোন তাবলীগওয়ালাই নাই, তাহলে ১লা ডিসেম্বর টঙ্গীর ময়দানে তাদের এত লক্ষ লক্ষ সাথী কোথা থেকে এলো? তাহলে কি আপনি সব মিথ্যা বলেছিলেন? আপনার সাথে তো দেখা যাচ্ছে ১০ভাগ তাবলীগের কর্মীও নেই। কেবল আপনার শূরা সদস্যপদ টিকিয়ে রাখতে আলেমদের মাঠে নামিয়ে এখন বেজ্জতি করছেন?” সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

পরে হেফাজতের আমীর আল্লামা আহমদ শফীও তার উপর ক্ষুব্ধ হন। জানতে চান, টঙ্গীর ময়দানে কেন তার অনুসারীরা গেল না? আসলেই কি তার সাথে সারাদেশের তাবলীগওয়ালারা আছেন? মাওলানা যুবায়ের এর কোন সদুত্তর দিতে না পারলে পরে, আহমদ শফী বলেন, এখন থেকে আপনাদের কথায় নয়, তাবলীগ পরিচালনা করবে আলেমদের কমিটি।

তখন তাবলীগ পরিচলনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে যুবায়ের অনুসারীরা মনে করছেন, কাকরাইলের শূরার পদ এমনিই বাতিল হয়ে যায় তাদের। কারণ, এখন থেকে হেফাজতের আলেমদের পরিচালিত ‘পরিচালনা কমিটি’ই তাবলীগ চালাবে।

আল্লামা আহমদ শফীর সিদ্ধান্তের আলোকেই গত ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বাংলাদেশ কওমি মাদারাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের অফিসে হেফাজত ও বেফাক নেতাদের এক বৈঠকে খেলাফত মজলিসের অভিভাবক পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলীকে আহ্বায়ক করে ২৪ সদস্য বিশিষ্ট তাবলীগ পরিচলনা কমিটি করা হয়। কমিটিতে মাওলানা যুবায়েরসহ কাকরাইলের ৭জনকে রাখলেও বর্তমানে তাবলীগের মূলধারাচ্যুত অংশের নেতৃত্ব হেফাজত নেতাদের হাতেই।

মাওলানা যুবায়ের এই তোঁপের মূখে পড়ার পেছনে তার ছেলে ও শ্যালকের সম্প্রতি সময়ে স্যোসাল মিডিয়াতে ভাইরাল হওয়া লাইভ ও ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় আরো বির্ব্রতকর পরিস্থিতে পড়তে হয়েছে। এসব নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। সম্প্রতি তার ছেলে হাফেজ হানজালা ফেসবুক লাইভে এসে সরকার সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি ও আলেমকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করে সমালোচিত হয়। তারপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবায়েরপুত্রের অনেক অনৈতিক কর্মকান্ড উঠে আসে। এদিকে তার আপন শ্যালক ও একান্ত সহকারী মাওলানা আবু ওবায়দার সরকার বিরোধী একটি ফোনালাপ স্যোসাল মিডিয়াতে ব্যাপক ভাইরাল হয়। এতে দেখা যায়, তাবলীগের বিষয়ে ও টঙ্গীর সংঘর্ষ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে দোষারোপ করেন। এসব কারণে মাওলানা জুবায়েরকে নিয়ে চরম অসন্তুষ্টি এখন হেফাজত নেতাদের মাঝে। 

Ads
Ads