রাত পোহালেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • ২৯-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দীর্ঘ অপেক্ষার পালা শেষ, আজ শনিবার রাত পোহালেই আসবে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ভোট। আগামীকাল রবিবার সারাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সব দলের অংশগ্রহণে হতে যাচ্ছে এবারের নির্বাচন। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শঙ্কা প্রকাশ করলেও ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন দেশের সাধারণ মানুষ। ফের নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য জাতির কাণ্ডারি বেছে নিবে জনগণ।

এবার ভোটের লড়াই হচ্ছে মূলত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আগামীকাল অনুষ্ঠেয় বহুল প্রতীক্ষিত ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ হবে কোন জোট ক্ষমতাসীন হবে। ভোটের দিন শেষ হওয়ার পর রাত যত গভীর হতে থাকবে, ততই পরিষ্কার হয়ে আসবে এ প্রশ্নের উত্তর। একে একে আসতে থাকবে ফল; মিলবে জবাব, আগামী ৫ বছর দেশ পরিচালনার ভার কোন জোটের সম্ভাব্য কার হাতে থাকবে?

ভোটের শুরু-শেষ

সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোয় একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হবে আগামীকাল সকাল ৮টায়; একটানা চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানবেন যেভাবে

এসএমএস

যে কোনো মোবাইল অপারেটর থেকে এসএমএস অপশনে এ গিয়ে PC লিখে স্পেস দিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর এর জায়গায় স্মার্টকার্ডের ১০ ডিজিট বা ১৭ সংখ্যার এনআইডি নম্বর লিখতে হবে।

কারো এনআইডিতে ১৩ ডিজিট থাকলে এসএমএস করার সময় ওই নম্বরের আগে জন্মসাল যোগ করতে হবে। অর্থৎ, এই নম্বর হতে হবে ১৭ ডিজিটের।

যেমন- PC স্পেস xxxxxxxxxx/xxxxxxxxxxxxxxxxx লিখে 105 নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে জানা যাবে কেন্দ্রের তথ্য।

অনলাইনে

যারা অনলাইনে নিজের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে চান, তাদের যেতে হবে এনআইডি উইংয়ের এই সেবার (https://services.nidw.gov.bd/voter_center) ওয়েব ঠিকানায়।

নির্ধারিত ঘরেএ নআইডি নম্বর অথবা ভোটার নিবন্ধন ফরমের স্লিপ নম্বর এবং জন্ম তারিখ লিখে ক্যাপচা কোডে দেখানো ইংরেজি হরফ লিখে ক্লিক করলেই জানা যাবে ভোটার এলাকা, ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্র।

ভোটকেন্দ্রে কী নিতে পারবেন, কী পারবেন না

> ভোটাররা শুধু ভোটের স্লিপ নিতে পারবেন, যেখানে ভোটারের নাম, কেন্দ্র ও একটি সিরিয়াল নাম্বার দেওয়া থাকে। জাতীয় পরিচয়পত্র বা স্মার্টকার্ড নিয়েও কেন্দ্রে যেতে পারেন, তবে সেটা বাধ্যতামূলক নয়।

> ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন, দাহ্য পদার্থ, আগ্নেয়াস্ত্র বা ধারালো কিছু সঙ্গে নেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। তবে মোবাইল ফোন যদি সঙ্গে নিতেই হয়, তাহলে ভোট দেওয়ার সময় সেটি সম্পূর্ণ বন্ধ করে রাখতে হবে। কেন্দ্রে ছবি তোলা, সেলফি তোলা বা চেক ইন না দিতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

> ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার কোনো ড্রেসকোড নেই। ভোটার তাঁর পছন্দমতো পোশাক পরে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। তবে ভোটার যদি নেকাপ পরে থাকেন, তাহলে পরিচয় শনাক্তের জন্য পোলিং এজেন্টকে ভোটারের একবারের জন্য মুখ দেখাতে হতে পারে। > ভোটকেন্দ্রে শিশুদের না নেওয়ার অনুরোধ করেছে ইসি। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারী, অন্ধ, প্রতিবন্ধী বা প্রবীণ ভোটার তাঁদের সঙ্গে একজন সহায়ক ব্যক্তি রাখতে পারবেন।

> ভোটকেন্দ্রে ভোটার গিয়ে যদি দেখেন আপনার ভোট কেউ আগেই দিয়ে দিয়েছেন, তাহলে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেননা ইসি বলছে, আপনি যদি আপনার ভোটার স্লিপ ও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে অথবা আঙুলের ছাপ দিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে অবশ্যই আপনার ভোটগ্রহণ করা হবে। প্রিসাইডিং অফিসার তাঁর সই করা ব্যালটে আপনার সিল নিয়ে সেটা নিজের কাছেই রেখে দেবেন। একে বলা হয় টেন্ডার ভোট। যেটা বাক্সে ফেলা না হলেও গণনা করা হয়।

ভোট দেবেন যেভাবে

প্রথমে আপনি আপনার ভোটের স্লিপ প্রিসাইডিং অফিসারকে দেখাবেন। তিনি আপনার সিরিয়াল নম্বর দেখে ওই কেন্দ্রের ভোটার তালিকা থেকে আপনাকে শনাক্ত করবেন। ওখানে প্রার্থীর এজেন্টরা বলবেন যে এই ভোটারের ব্যাপারে তাঁদের আপত্তি নেই। তখন সহকারী কর্মকর্তা আপনার জন্য একটা ব্যালট পেপার ইস্যু করবেন। পোলিং কর্মকর্তা সেই ব্যালট পেপারে সই বা আঙুলের ছাপ নেবেন; এরপর তিনি আপনার আঙুলে অমোচনীয় কালির চিহ্ন এঁকে দেবেন এবং একটি সিলমোহর দেবেন। সেই সিল আর ব্যালট পেপার নিয়ে গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দমতো প্রতীকের ওপরে সিল বসিয়ে নেবেন এবং এমনভাবে কাগজটা ভাঁজ করবেন যেন সিলের রং অন্যকোথাও না লাগে। কেননা ব্যালটে কালি ছড়িয়ে গেলে বা কিছু লিখলে ভোটটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সামনে থাকা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে। তারপর সিলমোহরটি জমা দিয়ে আপনি ফিরে যাবেন।

ইভিএম কেন্দ্র

ঢাকা-৬, ঢাকা-১৩, রংপুর-৩, খুলনা-২, সাতক্ষীরা-২ ও চট্টগ্রাম-৯ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে।

ইভিএমে ভোট দেবেন যেভাবে

ইভিএমের মাধ্যমে ভোট দেওয়া খুবই সহজ। প্রথমে পোলিং এজেন্টরা আপনার আঙুলের ছাপ বা ভোটের স্লিপের মাধ্যমে আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে পারমিশন স্লিপ দেবেন। তারপর গোপন কক্ষে থাকা ইভিএমে আপনি প্রতীকের পাশের বাটন চেপে প্রতীক পছন্দ করে এবং পরে নিচে সবুজ রঙের কনফার্ম বাটনটি চেপে ভোট দেবেন। কোনো কারণে ভোটার ভুল প্রতীকের বাটনে চাপ দিলে এবং তা সংশোধন করতে চাইলে তাঁর পছন্দের প্রতীকের বাটনে ফের চাপ দিয়ে ভোট প্রদান করতে পারবেন। এভাবে দুইবার তিনি সংশোধন করতে পারবেন। তৃতীয়বার যে প্রতীকের বাটনে চাপ দেবেন সেই প্রতীকেই ভোট প্রদান সম্পন্ন হবে।

শিশুদের না নেওয়ার অনুরোধ

ভোটকেন্দ্রে শিশুদের না নেওয়ার অনুরোধ করেছে ইসি। তবে অন্তঃসত্ত্বা নারী, অন্ধ, প্রতিবন্ধী বা প্রবীণ ভোটার তাঁদের সঙ্গে একজন সহায়ক ব্যক্তি রাখতে পারবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের টুকিটাকি

ভোট গ্রহণ কাজে নিয়োজিত থাকবেন প্রায় সাত লাখ কর্মকর্তা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পাঁচ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবেন। এরই মধ্যে সেনা ও নৌবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

এবারের সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধিত ৩৯টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। দীর্ঘ ১০ বছর পর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে রাজনীতিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তারা উভয়ই জোটবদ্ধভাবে ভোটে অংশ নিয়েছে। একক দল হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) সব থেকে বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে দলটির ২৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এক হাজার ৮০০’র বেশি প্রার্থী। এর মধ্যে ৫০ জনের মতো রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, বাকিরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের।

এবারের নির্বাচনে ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোট কেন্দ্র ও ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৭টি ভোটকক্ষ রয়েছে। একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে গাইবান্ধা-৩ আসনে ভোট স্থগিত করে পুনঃতফসিল দেওয়া হয়েছে। ওই আসনে ভোটারের সংখ্যা চার লাখের বেশি।

২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে সারা দেশে মোটরসাইকেল চলাচলে বিধিনিষেধ এবং ২৯ ডিসেম্বর মধ্যরাত থেকে সড়ক ও নৌপথের যানচলাচল বন্ধ থাকবে।

এক নজরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

> এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৪৮০ জন।

> ৫ কোটি ২৫ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৯ জন পুরুষ ভোটারের বিপরীতে নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ১৬ লাখ ৪৩ হাজার ১৫১ জন।

> ২ কোটি ৪০ লাখ তরুণ ভোটার প্রথম ভোট দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মোট ভোটারের ২২ শতাংশ।

> ৩০০ আসনে এবার জাতীয় নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪০ হাজার ১৮৩টি। ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৭টি। র

> নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে এবার মোট প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮৪১ জন। তবে উচ্চ আদালতের আদেশে তাদের মধ্যে কয়েকজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেছে । প্রতি আসনে গড়ে প্রার্থী আছেন ছয়জনের বেশি। তবে কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই।

> কুমিল্লা-৩ আসনে সবচেয়ে বেশি ১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর কয়েকটি আসনে সবচেয়ে কম তিনজন করে প্রার্থী আছেন।

> সারা দেশে প্রার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ৭৪৫ জন ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী; আর বাকি ৯৬ জন স্বতন্ত্র।

> একাদশ সংসদ নির্বাচনে পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলায় মোট ৭০০ কোটি টাকার খাতওয়ারি বরাদ্দ অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী এই ব্যয়ের দুই- তৃতীয়াংশই যাবে নিরাপত্তা খাতে।

এ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলই নতুন বছরে গঠন করবে নতুন সরকার। আগামী পাঁচ বছর তাদের ওপরই থাকবে রাষ্ট্রপরিচালনার ভার।

Ads
Ads