নির্বাচনে আলোচিত ১০ ঘটনা

  • ২৯-Dec-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বছর শেষ হচ্ছে নির্বাচনের রেশ নিয়ে। বছর শেষের ঠিক আগের দিনটিতেই দেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভিন্ন দিক পর্যালোচনায় এই নির্বাচনটি এবার আলোচিত, সমালোচিত এবং অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। সবকিছু উতরে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশায় এখন সবাই। এবারের নির্বাচনকে ঘিরে ঘটেছে অসংখ্য আলোচিত কিছু ঘটনা। বাংলা ইনসাইডারের চোখে নির্বাচনের এমনই ১০ আলোচিত ঘটনা নিয়ে থাকছে আজকের আলোচনা-

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রচারণা

অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় এবার শেখ হাসিনার নির্বাচনী প্রচারণা অনেক কম। গত নির্বাচনগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে সেখানে বেশ আড়ম্বরের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগে বিশাল জনসভা, প্রচারণাতে যেতেন। কিছুটা নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি স্বশরীরে প্রচারণাতে না নামলেও আসলে তাঁর প্রচারণা থেমে থাকেনি। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্ণধার, তিনি সেই ডিজিটাল পদ্ধতিতেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রচারণা ঠিকই চালিয়েছেন।

স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহার

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হলো স্যোশাল মিডিয়ার ব্যবহার। এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয়েছে সামাজিক গণমাধ্যমকে। জনগণ দেশের মূলধারার গণমাধ্যমের চেয়ে স্যেশাল মিডিয়ায় প্রচারণায় বেশি নির্ভরশীল হয়েছে।

পুলিশ

নির্বাচনী প্রচারণার শুরু থেকেই পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে বিএনপি ও সমমান দলগুলো। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিরুদ্ধে এমন ঢালাওভাবে অভিযোগের নজির বিশ্বের অন্য কোন দেশে হয়েছে কি না তা নিয়ে গবেষণা করছে পর্যবেক্ষক মহল।

নির্বাচন কমিশনে দফায় দফায় অভিযোগ ‍

নির্বাচন কমিশনের কাছে দফায় দফায় অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ করেছে ঐক্যফ্রন্ট ও আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশন তাদের সকল অভিযোগ মনযোগ সহকারে শুনেছে। শেষের দিকে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনায় বসেন ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নানা ইস্যুতে  বৈঠক থেকে তাদের ওয়াকআউট আলোচিত ঘটনাগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিভিন্ন প্রার্থী আহত

এবারে নির্বাচনে বেশ আগে থেকেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের ওপর হামলা ও আহতের ঘটনা ঘটেছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ঢাকা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহাবুব উদ্দিন খোকন এবং সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের ওপর হামলা।

খালেদা জিয়া ছাড়া নির্বাচন

আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ বিএনপি। এই দলটির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন বড় বড় মামলায় কারাগারে রয়েছেন সেই ফেব্রুয়ারি থেকেই। তাকে মুক্তির কোনো পথই খুঁজে পায়নি দলটি। কিন্তু তাকে ছাড়াই বিএনপির মালিকানায় গড়ে উঠেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। সব মহলেই অবাক করা বিষয় হলো বিএনপি তাদের প্রধান নেত্রী এবং চেয়ারপারসনকে ছাড়াই নির্বাচনে নেমেছে।

আদালতের বিভিন্ন ভূমিকা

নির্বাচনকে ঘিরে এবার আদালতপাড়া ছিল ব্যাপক সরগরম। বিভিন্ন আসনে প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার পর বিভিন্ন আসনে প্রার্থিতা অবৈধ এবং বাতিল করা হয়। সেটা নিয়ে আদালতে চলে আইনী লড়াই। এমনকি নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে এসেও অনেকের প্রার্থিতা অবৈধ হয়েছে, অনেকের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে সেটা বৈধতাও পেয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন কিনা সেটা নিয়েও আদালতে অনেকগুলো দফায় শুনানি হয়েছে।

বিদেশী কূটনীতিকদের তৎপরতা

এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন কূটনীতিকদের তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা বিভিন্নভাবে নির্বাচনকে পর্যবেক্ষণ করছেন একেবারে শুরু থেকে। নির্বাচন ইস্যুতে উচ্চ পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক, নেতাদের সঙ্গে মত বিনিময় করা, নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করলেও সর্বদা পর্যবেক্ষণ তারা করেছেন। নির্বাচনে স্বচ্ছতা আনয়নে তাদের ভূমিকা ব্যাপক।

জামাতের প্রতীক বরাদ্দ

নির্বাচনে এবার অন্যতম আলোচিত একটি বিষয় হলো জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশকে প্রতীক বরাদ্দের ঘটনাটি। দলটি বিএনপির অধীনে নির্বাচন করছে এবং অবাক করা বিষয় হলো তারা প্রায় শেষের দিকে এসে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছে। বিএনপি আবার ধানের শীষ প্রতীক দিয়ে স্বাধীনতাবিরোধী দলটিকে আবার পুনর্বাসিত করছে।

ডিগবাজির নির্বাচন

এবারের নির্বাচনকে অনেকটাই ডিগবাজির নির্বাচন বলা যেতে পারে। সেটি কয়েকজনে নেতা এবং প্রার্থীর কারণেই। যারা আজীবন আওয়ামী লীগের সমর্থনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে বা বিএনপির সমর্থনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে, তাদের অনেকেই এবারে দল এবং প্রতীক পাল্টে নির্বাচনে নেমেছেন। অধ্যাপক আবু সাইয়ীদের মতো নেতা যিনি নৌকার পক্ষে ছিলেন তিনি গণফোরামের হয়ে নির্বাচন করছেন। মেজর মান্নান এতদিন ছিলেন ধানের শীষের প্রতীক নিয়ে, এবারে নির্বাচনে তিনি এসেছেন নৌকা প্রতীক নিয়ে। তাদের লক্ষ্য দল গঠন নয়, নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা।

Ads
Ads