নবীজীকে নিয়ে কটূক্তি করলেই আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

  • ৪-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ(সা.) এর বিরুদ্ধে কটূক্তি করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রবিবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে তিনি একথা বলেন। কওমী মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদীসের সনদকে মাস্টার্সের মর্যাদা দেওয়ার প্রধানমন্ত্রী সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের ধর্ম ইসলাম ধর্ম। আমাদের নবীজীকে নিয়ে কেউ কটূক্তি করলে আইন দ্বারাই তার বিচার করা হবে। ইসলাম যে শান্তির ধর্ম, সেটাই আমরা প্রমাণ করতে চাই। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হবে না, সন্ত্রাসের স্থান হবে না, মাদকের স্থান হবে না, দুর্নীতির স্থান হবে না। বাংলাদেশ হবে একটি শান্তিপূর্ণ দেশ, উন্নত দেশ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নবীজীর শিক্ষা অনুযায়ী চলতে হবে। আল্লাহর হুকুমে দুনিয়া চলে। গাছের পাতাও নড়েনা। এই সংবধর্না আমার জন্য না। এটা হবে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ইসলাম শান্তির ধর্ম, শান্তির পথ দেখায়। তারা কেন অবহেলিত থাকবে। তাদের অবহেলিত থাকতে দেয়া যায় না।

বঙ্গবন্ধু ইসলামের প্রচারে কাজ করে গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার কন্যা হিসেবে স্বাধীনতা অর্থবহ করা, মানুষের জন্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। সেই দায়িত্ব হিসেবে কাজ করি।

ক্ষমতাদখলকারীরা তাকে রিফ্যুউজি বানিয়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কষ্টে কেটেছে জীবন। কারণ আমার বাবা অন্যদের মত টাকা কামাননি। তার হত্যার বিচারও চাইতে পারিনি। আইন করে বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো।

কারোও প্রতি বিদ্বেষ নয়, সবার জন্য কল্যাণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাই যেন সুখে বসবাস করতে পারে। সারা পৃথিবীতে হানাাহানি মুসলিমদের মাঝে। এতে অস্ত্র ব্যবসায়ীরা লাভবান হয়। ওআইসি ও সৌদি বাদশাকে বিষয়টি বলেছি।

সরকার প্রধান বলেন, কওমি মাদ্রাসায় এতিমরা পড়ে। এর থেকে বড় কাজ আর কি হতে পারে। আপনাদের স্বীকৃতি না দিয়ে কাদের দেবো? একটা শিক্ষা তখনি পূর্ণ হয় যখন ধর্মীয় শিক্ষা সংযুক্ত হয়। এই ছেলেরা কোথায় যাবে। তাই স্বীকৃতি। স্বীকৃতি আইন দিয়ে করেছি। কেউ যেন আর বন্ধ করতে না পারে।

তিনি বলেন, ইমাম মোয়াজ্জিনদের কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। তারা সুবিধা ভাতা নিতে পারেন। মসজিদে শিশু শিক্ষা করেছি। উপনুষ্ঠানিক শিক্ষা ৮০ হাজার আলেমের কর্মসংস্থান করেছি। ৫৩৬ টা মসজিদ নির্মাণ করে দিচ্ছি। এখানে ইসলামি সংস্কৃতি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। সরকার সৌদি আরবের সহায়তা পাচ্ছে এসব কাজে। বায়তুল মোকাররমে নারী পুরুষের ইবাদাতের ব্যবস্থা করেছি। দ্বিতীয়বার সরকারে এসে মসজিদটির কাজ করে দিয়েছি। দেশ এগিয়ে যাবে। দ্বীনের শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যাবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, এখন টঙ্গিতে যে বিশ্ব ইজতেমা হয় সেটি শেখ মুজিবুর রহমান করেছিলেন। ওআইসির স্বীকৃতি লাভ তার সময়ে হয়েছিল। তিনি কওমি শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু জাতির জনক সেটা করে যেতে পারেননি।  আওয়ামী লীগ সরকার তার সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

১৯৭৫ সালে আমি পরিবারের সবাইকে হারিয়েছি। ১৯৭৭ সালে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা কওমির স্বীকৃতি দেওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি অবাক হয়েছিলাম। কওমী শিক্ষার্থীদের দাঁড়াতে সরকার সব রকম সহায়তা করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় এই পাক-ভারত উপমহাদেশের মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহণের একমাত্র ক্ষেত্রই ছিল এই কওমী মাদ্রাসা। এই কওমী মাদ্রাসার মধ্যদিয়েই মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহণের শুরু।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন যারা শুরু করেছিলেন তাদের হাত ধরেই এই কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার প্রচলন। যাদের আমরা সবসময় সম্মান করি।

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আমি কোথায় থাকবো, কি খাবো, কিছুই জানি না, কেবল আল্লাহর ওপর ভরসা করেই আমি দেশে চলে এসেছিলাম। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কোনরকম কষ্ট করে থেকেছি। আর দেশের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারণ, আমার বাবা এদেশ স্বাধীন করেছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আপনাদের দোয়া চাই সামনে নির্বাচন আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি ইচ্ছা করেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই আবার বাংলাদেশের জনগণের খেদমত করাবার সুযোগ আমাকে দেবেন।

আর যদি না দেন আমার কোন আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি সবকিছু আল্লাহর ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।

Ads
Ads