হেফাজতের বাধার মুখেও চলছে তাবলীগের ইজতেমা, হিন্দুদের সহায়তা

  • ২৬-Oct-২০১৮ ০১:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: সিনিয়র প্রতিবেদক ::

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া নামক স্থানে শুরু হয়েছে তিন দিনের ইজতেমা। ইতিমধ্যেই দিল্লীর মাওলানা সাদ’র হাজার হাজার অনুসারীরা এ ইজতেমায় যোগ দিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে এই ৩ দিনের ইজতেমা করার জন্য রাজধানীর তিনটি স্থানে আয়োজন করে তাবলীগ জামায়াতের মূল অংশ। কিন্তু হেফাজত ইসলাম বারবার সেসব স্থানগুলোতে বাঁধা সৃষ্টি করে। 

সম্প্রতি ডেমরা ও মিরপুরে বিশ্ব ইজতেমার আগে ৩ দিনের ইজতেমার আয়োজনের শেষ পর্যায়ে এসে বাঁধা দিয়ে পরিবেশ উত্তপ্ত করতে চেয়েছে হেফাজতের কর্মীরা। উদ্দেশ্যমূলকভাবে নির্বাচনের আগে তাবলীগের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে হেফাজত ও তাবলীগের পাকিস্তানপন্থী একটি অংশ। 

এমনকি,  কেরানীগঞ্জের খোলামোড়াতে চলমান ইজতেমাতেও হেফাজত হামলা করতে পারে বলে আংশকা প্রকাশ করেছেন অনেক মুসল্লীরা। তবে স্থানীয় প্রশাসন এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। 

এদিকে, চলমান ইজতেমাতে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে। কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া এলাকায় যে স্থানটিতে ইজতেমা চলছে তার পাশেই রয়েছে হিন্দুদের একটি মন্দির। সেই মন্দির থেকে তাবলীগের মুসল্লীদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা প্রদান করছে হিন্দুরা। ফলে সেখানে ধর্মীয় সম্প্রতির বিষয়টিও আরো সুদৃঢ় হয়েছে এই ইজতেমার মাধ্যমে।

ইজতেমা ময়দান ঘুরে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে উপস্থিত লাখ লাখ মুসল্লি ত্রিপল ও শামিয়ানা টানিয়ে ঐতিহাসিক এই ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, জুমার নামাজে কয়েক লাখ মুসল্লি জড়ো হয়েছেন। মাঠে লোকে লোকারণ্য। লাখো মানুষের জমায়েতে জুমার নামাজের ইমামতি করেন কাকরাইল মসজিদের প্রবীণ মুরব্বি মাওলানা মোশাররফ হোসাইন।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে পুলিশ ও আলমি শুরাপন্থীদের বারবার বাধার মুখেও লাখো তাবলিগের সাথি জিকিরের সঙ্গে বাঁধভাঙা স্রোতের মতো মাঠে প্রবেশ করেন। ইজতেমাকে ঘিরে ঢাকা জেলার মুসল্লিদের মাঝে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

গত সপ্তাহে ঢাকার মিরপুরের ইস্টার্ন হাউজিং মাঠের কাজ ৮০ ভাগ সমাপ্ত করেন তাবলিগের সাথিরা। এরপরও সেখানে বাধার মুখে ইজতেমা করতে পারেননি তারা।

গত শুক্রবারে প্রায় তিন হাজার তাবলিগের সাথিরা স্বেচ্ছাশ্রমে মিরপুর ময়দানের কাজ শুরু করেন। শত শত অজুখানা, টয়লেট ও বিশাল শামিয়ানা তৈরি করেন। কিন্তু রাতে একশ্রেণির আলেমদের রাজনৈতিক চাপে পুলিশ তা বন্ধ করে দিয়ে তাবলিগের সাথিদের ময়দান থেকে বের হয়ে যেতে বাধ্য করে।

ইজতেমা করার জন্য তাবলিগের মুরুব্বিরা অনেক চেষ্টাও করেও কোনো কূল পাচ্ছিলেন না। ঢাকা জেলা ইজতেমার জন্য এসব বাধার কারণে চারবার স্থান বদল করতে হয়েছে মূলধারার তাবলিগ সাথিদের।

ফলে নিরুপায় হয়ে তাবলিগের মুরুব্বিরা গত বৃহস্পতিবার রাতে তাবলিগের সাথিদের চাপা ক্ষোভ মেটাতে কেরানীগঞ্জে তাবলিগের ইজতেমা করার সিদ্ধান্ত নেন।

ঘোষণার পরপরই বৃহস্পতিবার রাত থেকে ইজতেমার ময়দান কেরানীগঞ্জের খোলামোড়ে মুসল্লিদের ঢল নামতে থাকে। বাদ ফজর কাকরাইলের মুরুব্বি মাওলানা মুহাম্মদউল্লার আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শুরু হয়।

বাদ জুমা বয়ান করেন কাকরাইল মসজিদের মুকিম মাওলানা আব্দুল্লাহ মনসুর। বাদ আছর বয়ান করেন বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের শূরা সদস্য সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, বাদ মাগরিব বয়ান করেন কাকরাইল মসজিদের প্রবীণ মুরুব্বি ও বাংলাদেশ তাবলিগ জামাতের আহলে শূরা সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন এবং শনিবার বয়ান করবেন বাদ ফজর মাওলানা আশরাফ আলী সাহেব।

শনিবার সকাল ১০টায় আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ঢাকা জেলার ইজতেমা।

Ads
Ads