মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত নিতে দেশটির ওপর চাপ দিতে চীনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

  • ২৬-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

মিয়ানমার যাতে রোহিঙ্গাদের নিজ মাতৃভূমি রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নেয় সে জন্য দেশটির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

ঢাকা সফররত চীনের স্টেট কাউন্সিলর এবং জননিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী ঝাও কেঝি বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দেয়।

ঝাও কেজি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারের নাগরিকদের ফেরত নিতে সে দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। চীনের উদ্যোগ এ সংকট সমাধানে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা চীনের মন্ত্রীকে জানান, বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা করেছে এবং মিয়ানমার তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমার কথা অনুযায়ী কাজ করছে না। প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, এই দুটি সামাজিক অভিশাপকে কঠোর হস্তে দমন করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমনে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। 
ঝাও কেজি দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, ‘আপনার নেতৃত্বে সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় জাতির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের চলমান সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি চীনে সমুদ্রের ওপর বিশ্বের দীর্ঘতম সেতু উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে একে ‘বিস্ময়কর’ বলে বর্ণনা করেন। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ এবং বিভিন্ন নদীর ওপর আমাদের সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। এ জন্য আমরা চীনের সহযোগিতা চাই।’ বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয় আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের উদ্যোক্তাদের জন্য ভূমি বরাদ্দ করেছে, যাতে তারা সেখানে শিল্প স্থাপন করতে পারে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ কাজে লাগিয়ে চীনের আরও উদ্যোক্তা বাংলাদেশে আসবে।’

চীনের মন্ত্রী বলেন, বেইজিং সব সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নেও আমরা সমর্থন দিয়ে যাব।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয় আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনের উদ্যোক্তাদের জন্য ভূমি বরাদ্দ করেছে, যাতে তারা সেখানে শিল্প স্থাপন করতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ কাজে লাগিয়ে চীনের আরও উদ্যোক্তা বাংলাদেশে আসবে।

জবাবে চীনের স্টেট কাউন্সিলর আশা প্রকাশ করেন যে এ বিষয়ে তাঁর দেশের বিনিয়োগকারীরা সাড়া দেবেন।

সন্ত্রাসবাদের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তাঁর সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। সাইবার অপরাধ দমনে সম্প্রতি একটি আইন করার কথাও জানান তিনি।

জবাবে চীনের জননিরাপত্তা বিষয়কমন্ত্রী জানান, তাঁর দেশ এবিষয়ে বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।

এ সময় অন্যদের মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মিয়া জয়নুল আবেদীন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দিন এবং নিরাপত্তা সার্ভিস বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 

/কে 

Ads
Ads