কোরআন অবমাননাকারী হাসান তওবা করে ফের ইসলাম গ্রহণ করল

  • ৭-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননা করে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার ঘটনায় ৭ মাস কারাভোগ শেষে জামিনে বেরিয়ে এসে শত শত মুসুল্লিদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে তওবা করেছে হাসান উল ইসলাম (২৯) নামের এক যুবক। 

শুক্রবার বাদ জুমআ সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার দেলপাড়া কবরস্থান মাঠে কুতুবপুর ইসলামিক কালচার সেন্টারের উদ্যোগে আয়োজিত ওই তওবা অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে তওবা করে হাসান উল ইসলাম পুণরায় ইসলাম ধর্মে ফিরে আসে।

এসময় হাসান মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি সবচেয়ে ঘৃনিত একটি কাজ করেছেন। এজন্য তিনি অনুতপ্ত ও লজ্জিত। এই ধর্মীয় অপরাধের জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে হাসানকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা না দেয়ায় তার বাবাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করেন উপস্থিত আলেম ওলামারা। 

হাসানের বাবা স্থানীয় ইটভাপটা ব্যবসায়ী মজিবুর রহমানও নিজের দোষ স্বীকার করে মুসুল্লীদের কাছে ছেলের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী চেষ্টা করেছিলাম হাসানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম। তারপরেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এই ব্যর্থতার দায় আমাদেরই। তাই আমরা আপনাদের সবার কাছে এবং মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাই। আল্লাহ যেন আমাদের ও আমাদের সন্তান হাসানকে ক্ষমা করে মুসলমান হিসেবে কবুল করে নেন। পাশাপাশি আর কোন যুবক যাতে এ ধরণের অপরাধ করতে না পারে তার জন্য সন্তানদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতে সমাজের অভিভাবাকদের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। 

ওই তওবা অনুষ্ঠানে এলাকার শত শত মুসুল্লীরা ছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ মাদ্রাসার আলেম ওলামাগণ উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে হাসান উল ইসলামকে তওবা পড়ান জামিয়া আশরাফিয়া মাদরাসার মোহতামিম মুফতী আব্দুল বারী। সভাপতিত্ব করেন কুতুবপুর ইসলামিক কালচার সেন্টারের মাওলানা গাজী আবুল খায়ের। 

গত ৭ জানুয়ারী পবিত্র কোরআন শরীফ আবমাননা করে (পদপিষ্ঠ করে) ছবি তুলে সেটি নিজের পা বলে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয় হাসান উল ইসলাম। তার পোস্টটি সে সময় দেশে বিদেশে ছেিয় পড়ে ভাইরাল হয়। হাসানের ফাঁসির দাবিতে কয়েকবার বিক্ষোভ করেন স্থানীয় মুসুল্লী এবং আলেম ওলামারা। এ ঘটনায় ইসলাম ধর্মকে অবমাননার অভিযোগ তুলে হাসানের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় বাদি হয়ে মামলা করেন ভূইগড় আল আরাফা জামে মসজিদের ইমাম সিদ্দিক উল্লাহ। পরে ১২ জানুয়ারী সকালে সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট এলাকা থেকে হাসানকে পুলিশ গেফতার করে। দীর্ঘ সাত মাস ১০ দিন কারাভোগের পর গত ২০ আগস্ট জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় ফিরে আসে হাসান। 

তবে আলেমদের দাবী, হাসান ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে শরীয়ত মোতাবেক ঈমান ও ধর্মচ্যুত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তার স্ত্রীর সাথেও বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। এখন তওবা পড়ে নতুন করে বিবাহ না পড়ানো পর্যন্ত সে তার স্ত্রীর সাথে সংসার করতে পারবে না। 

তওবা অনুষ্ঠানে হাসান ইসলামী বিধান অনুযায়ী পুনরায় তার স্ত্রীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এই বিবাহে  হাসানের বাবা মজিবুর রহমানের ওকালতিতে ৫০ হাজার এক টাকা দেনমোহর ধার্য্য করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাসান ও হাসানের পরিবার সহ মুসলিম জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হাসান ইল ইসলাম ভারতে দার্জিলিং থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরে এসে বেকারত্বের তাড়নায় মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। বিয়ে করানোর পরও সে সংসারের প্রতি উদাসীন ছিল। নিয়মিত মাদক সেবনের কারনে তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। পরিবারের ধারণা, এ কারনেই হাসান হয়তো এই ধর্মীয় অপরাধটি করে ফেলেছে। 

Ads
Ads