দেশে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ

  • ৬-Sep-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

দেশে সাক্ষরতার হার গত এক বছরে আরও বেড়ে ৭২ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।

বৃহস্পতিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ। নিরক্ষর ব্যক্তি ৩ কোটি ২৫ লাখ। আর বিদ্যালয় বহির্ভূত ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু ১০ লাখ। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে নিরক্ষরদের সাক্ষরতা জ্ঞান এবং বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশকে ‘সবার জন্য শিক্ষা’ অর্জনে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও সাক্ষরতা বিস্তারে বিভিন্ন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। দেশে সার্বিক সাক্ষরতা আন্দোলন কর্মসূচির মাধ্যমে ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ নিরক্ষরকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় দেশে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭২ দশমিক ৯ শতাংশ।

তিনি আরও বলেন, দেশে নিরক্ষরতা দূরীকরণে ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে সাক্ষরতা জ্ঞান দেওয়ার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) বাস্তবায়ন করছে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের ৫০ লাখ নব্য-সাক্ষরকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, সাক্ষরতা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা, বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে এবং কিছু শহর এলাকায় মোট ৫ হাজার ২৫টি আইসিটিভিত্তিক স্থায়ী কমিউনিটি লার্নিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রতিটি জেলায় একটি করে মোট ৬৪টি স্থায়ী ‘জীবিকায়ন দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।

জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী ২০১৮ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করার কথা। এ বিষয়ে অগ্রগতি কতটা- সেই প্রশ্ন করা হয়েছিল গণশিক্ষা মন্ত্রীর সামনে।

উত্তরে তিনি বলেন, এটা এখনও বাস্তবায়ন করা যায়নি, প্রসেস চলছে। আমরা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত চালাচ্ছি। আমাদের ৭০০ স্কুলে ষষ্ঠ, সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণি খুলেছি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অধীনে থাকা বিদ্যালয় থেকে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিগুলো ছেড়ে দিলে তা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, এটা উনারা ছেড়ে দেবেন, আমরা শুরু করব। এটার প্রসেস নিয়ে অনেক টানাপোড়েন আছে, এটা কেবিনেট পর্যন্ত গেছে। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ হলে নিশ্চয়ই সেটার বাস্তবায়ন আমরা করব।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের বেতন উন্নীতের বিষয়টি সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ব্যাপারটাও সরকারের। প্রাথমিক শিক্ষার মন্ত্রী যদি বলে দেয় তাহলে এটা হবে না। সরকার যখন সিদ্ধান্ত নেবে তখন এটা হবে, তবে এটা পরিত্যক্ত হয়নি, তাদের দাবি প্রত্যাখ্যাতও হয়নি। তাদের বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে আলোচনা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, আর কয়েক মাসের মধ্যে নির্বাচন হবে, আমি মনে করি যারা আন্দোলন করছেন তারাও বুঝবেন যে আওয়ামী লীগ সরকারই শিক্ষার জন্য, সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। আমি মনে করি তাদের আশ্বস্ত থাকা দরকার, এই সরকারের ধারাবাহিকতা থাকলেই বরং তাদের আশাটা পূর্ণ হতে পারে বলে আমি মনে করি। আমি আহ্বান জানাব কোনো হটকারি কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে তাদের অপেক্ষা করা দরকার।

পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা কত দিন চলবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যত দিন সরকার এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখবে, তত দিন প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা চলবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব আসিফ-উজ-জামান, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক তপন কুমার ঘোষ ছাড়াও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

/ই

Ads
Ads