‘২১ আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা’

  • ২৪-Aug-২০১৯ ১০:২২ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘২১আগস্টের ঘটনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সবচেয়ে নিন্দনীয় ঘটনা। কিন্তু সরকারপ্রধান এনিয়ে যা বলছেন, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’ এই ঘটনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উপস্থাপন করা ঠিক না বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন তিনি।

শনিবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সরকারে থাকা অবস্থায় এফবিআইকে বাংলাদেশে নিয়ে এসেছি। তদন্ত করার জন্য তাদের সহযোগিতা করেছিলাম। মুফতি হান্নানকে গ্রেফতার আমরাই করেছি।

তিনি বলেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি ২১ আগস্ট হামলা-মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের মন্ত্রী-নেতাদের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে মিথ্যাচার থেকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওই ঘটনার সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে মামলায় এজাহারভুক্ত করা হয়।

ফখরুল বলেন, বৈঠকে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আমরা মনে করি, তার চিকিৎসার উন্নতি যতটা হওয়া উচিত ছিল তা হয়নি। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিয়ে সুচিকিৎসার ব্যবস্থার দাবি জানাই।

প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার যেভাবে চাচ্ছে, সরকার সেভাবেই করছে। সরকার রোহিঙ্গাদের নিজ দেশের ভূমি ব্যবহার ও নাগরিকত্ব নিয়ে কিছুই করতে পারেনি। আজ পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা বিষয়ে কোনও বিদেশ সফরও হয়নি। সরকার সম্পূর্ণভাবে রোহিঙ্গা ইস্যুটি হ্যান্ডেল করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধান করতে হলে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আমরা শুরুতেই বলেছিলাম দরকার হলে সরকারপ্রধানকে অতি দ্রুত মিয়ানমারকে যে সব দেশ সমর্থন করছে সে সব দেশ সফর করতে হবে। তারা আজ পর্যন্ত তা করেনি।

প্রসঙ্গত, আগামী ২৮ আগস্ট (বুধবার) ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করবে বিএনপি। ইতোমধ্যে দলটির ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি (এফএসি) এই প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে এনেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ব্রিফ শুরু করেন। স্থায়ী কমিটির আগামী বৈঠক এগিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে, প্রতি সপ্তাহে এই কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতো।

শায়রুল কবির খান আরও জানান, এখন থেকে স্থায়ী কমিটির পরবর্তী বৈঠকগুলো ১৫ দিন পরপর বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত শিডিউল পরিবর্তিত হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিষ্ঠাবাষিকীর র‌্যালি হবে ২ সেপ্টেম্বর ও আলোচনা সভা একদিন এগিয়ে এনে ১ সেপ্টেম্বর আয়োজন করা হবে।

এর আগে বিকাল ৫টা থেকে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

লন্ডন থেকে বৈঠকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপে যুক্ত ছিলেন।

Ads
Ads