শোক দিবস উপলক্ষে এফবিসিসিআইর আলোচনা সভা

  • ২৪-Aug-২০১৯ ১০:১৬ অপরাহ্ন
Ads

সব দলের কার্যক্রমে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা উচিত : সালমান এফ রহমান

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) আয়োজনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল শনিবার (২৪ আগস্ট) ফেডারেশন ভবনের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এতে অন্যান্যের মধ্যে এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এম এ কাশেম, মাহবুবুর রহমান, কাজী আকরামউদ্দিন আহমেদ, মীর নাসির হোসেন এবং এ কে আজাদ আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতিগণ উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি মো. রেজাউল করিম রেজনুর সঞ্চালনায়  এফবিসিসিআইর পরিচালক এবং ভোরের পাতা ও দ্যা পিপলস টাইম-এর সম্পাদক ও প্রকাশক, ভোরের পাতা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, কাজী গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, বাজার ২৪.কম রূপান্তর ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারপারসন, ইরান-বাংলাদেশ চেম্বারের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট কমিশনের চেয়ারপারসন এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির শিল্প-বাণিজ্য ও ধর্মবিষয়ক সদস্য ড. কাজী এরতেজা হাসানসহ এফবিসিসিআইর পরিচালকগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপনে ছিলেন এফবিসিসিআইর  সহসভাপতি হাসিনা নেওয়াজ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবন, দেশ স্বাধীন করার সংগ্রামে তার দূরদর্শিতা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির উল্লেখ করেন। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের সাম্প্রতিক নানা আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়গুলো তিনি তুলে ধরেন। তিনি কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশের জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং জনসেবায় সরকারি-বেসরকারি সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন  সোনার বাংলা তৈরি করতে। আর সেটা করতে হলে সকল ব্যবসায়ীর একতাবদ্ধ হতে হবে। তাহলে আমাদের দেশ হবে ব্যবসাবান্ধব দেশ। আর সেই সোনার বাংলা গড়তে যাচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেহেতু জাতির পিতা, তাই কেবল আওয়ামী লীগ নয় বরং দেশের সকল রাজনৈতিক দলেরই তাদের কার্যক্রমে যথাযথ সম্মানের সাথে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি ব্যবহার করা উচিত। বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে তিনি বলেন তার জন্যই আজকে এই দেশকে পেয়েছি। আমি বলবো সকাল থেকে রাত প্রতিটিক্ষণ তাকে স্মরণ করে আমাদের বাঁচা উচিত। মানচিত্র থেকে বাংলাদেশকে মুছে ফেলতে চেয়েছিল পাকিস্তানি বাহিনী এবং বিএনপি চক্রান্তকারীরা। কিন্তু জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য আজকে এই দেশ টিকে আছে। তার জন্যই আজকে আমরা বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারছি। আগে এই দেশকে তেমন কেউ চিনত না। আজ আমদানি-রফতানি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশকে সব দেশই চিনে। এটা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আমাদের শিল্পক্ষেত্রে যদি সহযোগিতা না করতেন, এই দিকে যদি বিশেষ নজর না দিতেন তাহলে আজ আমরা সোনার বাংলা পেতাম না। আল্লাহ পাকের অশেষ রহমত ছিল বলেই প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং আছেন। একসময় যারা আমাদের সমালোচনা করতেন তারাই বলছেন আজকে বাংলাদেশ উন্নয়নের একটি রোল মডেল হিসেবে পরিণত হয়েছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রতিটি দলই যেন জাতির পিতার ছবি ব্যবহার করে। তিনি বলেন, এক সময় জয়বাংলা বলতে পারতাম না। কয়েকদিন আগে পার্লামেন্টে বলছি যে স্লোগানে আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি সেই সেøাগানকে আমরা কেন মানি না। যার জন্য আজ আমরা দেশ পেয়েছি, তার স্লোগান আমরা কেন ব্যবহার করবো না। বাঙালি জাতিকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর যত চিন্তা-ভাবনা ছিল তা পূরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কোনো দলের না তিনি ছিলেন পুরো জাতির। তিনি ছিলেন আমাদের সকলের প্রিয়। আর তার কন্যা শেখ হাসিনার নাম এখন ঘরে ঘরে। আজ বিশ্বের বুকে ব্যবসায়ীদের জায়গা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি নাসির হোসেন বলেন, যিনি এই দেশ সৃষ্টি করেছেন, যিনি এ দেশে না থাকলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নাম থাকতো না। আজকে ১৫ই আগস্ট জাতির জন্য একটি কাল অধ্যায় হিসেবে রচিত হয়েছে। যে লোকটি জীবন যৌবন দিয়ে বাংলাদেশের জন্য যা করেছে তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করে শেষ করা যাবে না। রাজনীতিতে সব কিছু  নিয়েই বিতর্ক হয় কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। তিনি ছিলেন, তিনি আছেন সব সময় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি আকরাম উদ্দিন হামিদ বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারকে হত্যা করেছেন তাদের আমরা নিঃসন্দেহে ঘৃণা করি। তারা চায়নি কখনো এই বাংলাদেশ একটি সুন্দর ব্যবসায়িকবান্ধব দেশ হোক। তারা চেয়েছে আমাদের দেশ পাকিস্তান হয়ে যাক। আমরা পাকিস্তানি নিয়মে চলি। আজ বাংলাদেশের এত পরিবর্তন শুধুমাত্র জননেত্রী শেখ হাসিনার জন্য। আজ বাংলাদেশ এত উন্নয়ন শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যবসাবান্ধব নীতির অধীনে সহযোগিতা করার জন্য। আজকে আমরা যদি সবাই একত্রে কাজ করি তাহলে আমাদের সোনার বাংলাদেশ হতে বেশি সময় লাগবে না। আজকে অনেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা জায়গায় ছবি লাগিয়ে চাঁদাবাজি করে এই অধিকার কারো নেই। আজকে বাংলাদেশ কোনো ব্যর্থ রাষ্ট্র না। 

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল ১৯৭৪ সালে। তখন দেশের বেশ কিছু জায়গায় খাদ্যের সংকট ছিল। তার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলি। তিনি  আমাদের কথা শুনে দ্রুত কিছু খাদ্যের জোগান দিলেন। 

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি এম এ কাসেম বলেন, বঙ্গবন্ধুুকে খুব কাছ থেকে দেখেছি। তিনি ছিলেন অসাধারণ একজন ব্যক্তি। তাকে কেউ কোনো অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিলে তিনি বলতেন আমি আসবো। তাকে যেমন অতি সহজেই সাধারণ মানুষ হিসেবে পেয়েছি ঠিক তেমনিভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনাকেও কাছে পাওয়া যায়। অতীতে যখন বঙ্গবন্ধু ছিলেন তখন কোনো বিদেশিদের সঙ্গে কথা বললে তারা দেখতাম খুব অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতেন এবং তার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জন্য মহানায়ক। তার জন্ম হওয়ায় আজ আমরা বাংলাদেশ পেয়েছি। 

এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বঙ্গবন্ধু তার দূরদর্শী নীতিমালা ও প্রচেষ্টায় দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দেশ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পর এখন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে।

পরে অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ‘জীবন ও কর্ম’ নিয়ে এক আলোক চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এফবিসিসিআই সম্মেলনকক্ষে প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন।

Ads
Ads