প্রসঙ্গ : তিস্তা, এভাবে আর কতদিন?

  • ২১-Aug-২০১৯ ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

তিস্তা তার জলাশীর্বাদে উত্তরের জীবনকে বাঁচিয়ে রাখে। প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে উত্তরের জনপদকে তিস্তা অববাহিকার মানুষকে সে করে রেখেছে ঋণী। কিন্তু পাঁচ বছর ধরে তিস্তার পানি একতরফা প্রত্যাহার করার কারণে তিস্তা অববাহিকায় ভীষণ সংকট দেখা দিয়েছে। তিস্তায় যখন পানির প্রয়োজন ৫ হাজার কিউসেক, তখন পানি পাওয়া যায় মাত্র ২০০-৩০০ কিউসেক। কখনো কখনো এরও কম।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীলতার দিকে। অগ্রগতির বেগ চরমে। ঠিক সেই মুহূর্তে রংপুর বিভাগের দারিদ্র্যের হার অন্যান্য যেকোনো জেলার তুলনায় বেশ নিম্নে। এই অবস্থা তিস্তায় পানির সঙ্গে সম্পর্কিত। একসময় রংপুরের মঙ্গা দূরীকরণে তিস্তা সেচ প্রকল্প অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। এখন সেই সেচ প্রকল্প কার্যত শুষ্ক মৌসুমে অচল। তিস্তায় পানি না থাকার কারণে আরও অসংখ্য সমস্যা দেখা দিয়েছে। তিস্তায় পূর্ণমাত্রায় পানি আসলে শুষ্ক মৌসুমে ৬০ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে ধান চাষ করা যেত। এই জমি ব্যক্তিগত খরচে সেচের মাধ্যমে করতে হলে চাষ বাবদ খচর বেড়ে হয়ে যাবে কয়েকগুণ। আর সেটাই হচ্ছে এখন। তাই উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবনে এখন দুর্ভোগের সীমা নেই। সমস্যা সমাধানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে আশু এর সমাধান হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

তিস্তা নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত আলোচনা অনেক পুরনো। দেশ স্বাধীনের পরপরই ১৯৭২ সালে তিস্তার পানি নিয়ে যৌথ নদী কমিশনের দ্বিতীয় সভায় আলোচনা হয়। ১৯৮৩ সালে অন্তর্র্বর্তীকালীন একটি চুক্তিও হয়েছিল। এরপর কয়েক ধাবে বহুবার এ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, আলোচনা হয়েছে। শেষমেশ ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসঙ্গেই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা থাকলেও বাংলাদেশ সফরের আগমুহূর্তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর এলেন না। মনমোহন সিং সহজেই বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছাড়া তিনি তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি করবেন না। ২০১৫ সালে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশে এসেছিলেন। আমরা আরেকবার আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা ছেড়ে আসার সময় সাংবাদিকদের সাফ জানিয়ে দিয়ে এসেছিলেন; তিস্তা নিয়ে কোনো কথাই তিনি বলবেন না। তবে তিনি বাংলাদেশে এসে বলেছিলেন, ‘আমার ওপর আস্থা রাখুন।’ এবারও বাংলাদেশ সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর অমীমাংসিত তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন কোনো বার্তা দিতে পারেননি। আবারও আশার বাণীই আমাদের সঙ্গী হয়ে থাকল। জয়শঙ্কর জানালেন, দুই দেশের মধ্যকার অভিন্ন ৫৪ নদীর পানিবণ্টনের নতুন ফর্মুলা খুঁজছে বাংলাদেশ-ভারত।

আমরাও বলি, পানিবণ্টনের নতুন ফর্মুলা খুঁজুন। কিন্তু সেই নতুন ফর্মুলা খুঁজে পেতে কতদিন লাগবে- সেটিও বলুন। এভাবে আর কতদিন?

Ads
Ads