বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রে কত বছর আগে থেকেই জড়িত ছিলেন জিয়া!

  • ১৫-Aug-২০১৯ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
Ads

::উৎপল দাস::

সদ্য স্বাধীন একটি দেশের জাতির জনক হিসাবে  বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সকল ষড়যন্ত্র ও কৃত্রিম সংকট মোকাবিলা করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশকে বিনির্মাণে ব্যস্ত। ঠিক তখনই মুক্তিযুদ্ধের আগ মুহুর্তে  পাকিস্তানি সেনাদের অস্ত্র উদ্ধারে যাওয়ার সময় বাধার মুখে ফিরে এসে মুক্তিযোদ্ধা বনে যাওয়া সেই সময়ের মেজর জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। এটা ছিল জাতির জনকের একটি ভুল সিদ্ধান্ত। কেননা তিনি বিশ্বাস করতেন স্বাধীন বাংলাদেশের কোনো নাগরিক তাকে হত্যা করতে পারে না। কিন্তু বিশ্বাসঘাতক যারা পাকিস্তানের আদর্শকে বুকে ধারণ করে এদেশকে আবারো পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল তাদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন অন্যতম। 

১৯৭৩ সালের মধ্য বসন্তে ৬ সপ্তাহের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরে যান বঙ্গবন্ধুর নির্দেশেই। কিন্তু সেখানে গিয়ে মার্কিন গোয়োন্দা সংস্থা সিআইএ এবং পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাসের মিলিটারি এ্যাটাসির সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন। তাদের প্রেসক্রিপশন মোতাবেক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ষড়যন্ত্রে তখন থেকেই লিপ্ত ছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ থেকে শুরু করে হত্যাকারীদের একত্রিত করতে কর্ণেল ফারুকের মতো অধীনস্ত কর্মকতার সুটকেসও নিজে বহন করে লন্ডন থেকে নিয়েও এসেছিলেন এই জিয়া। আর কর্ণেল ফারুক  ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের গুটির চাল। সেই চালটি ধীরে ধীরে সময় মতো কাজে লাগিয়ে আন্তজার্তিক ষড়যন্ত্রের ফলাফল এসেছিল বাংলাদেশের বন্ধু রাষ্ট্র ভারতের স্বাধীনতা দিবসে। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টকেই ঘাতকরা বেছে নিয়েছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার দিন হিসাবে। এর আগেও কয়েকবার তারা চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। কিন্তু সেই ব্যর্থতার সময়ও নিশ্চুপ ছিলেন জিয়াউর রহমান। পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরিকল্পনায় সফল হয়ে জিয়া তার রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করে অস্ত্রের মুখে নতুন ষড়যন্ত্র করে মুক্তিযুদ্ধের আরেক বীর সেনা কর্ণেল তাহেরকে মাইনাস করে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেই বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নে আঘাত হানে। ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে পাকিস্তানের আদলে আন্তজার্তিক মদদদাতাদের খুশি করতে ইসলামী প্রজাতন্ত্র হিসাবে গড়ে তোলে। এছাড়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের নামে রাজাকার-যুদ্ধাপরাধীদের রাজনীতিতে পুনবার্সন করেন এই জিয়াউর রহমান। 

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার সেই কালো রাতে জিয়া সেদিন খুনিদের সাথে অস্ত্রহাতে দানবীয়রূপে ধানমন্ডির বাড়িতে উপস্থিত না থাকলেও সম্পূর্র্ণ পরিকল্পনা জানতেন এবং সরাসরি পরিকল্পনার সাথে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার  প্রধান মাষ্টার মাইন্ড ছিলেন জিয়া। জিয়া সামনে না এসে পর্দার আড়ালে বসে কলকাঠি নেড়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাঙ্গালি জাতি যখন একটি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় গভীর ঘুমে বিভোর, তখন তার জাতির পিতাকে নৃশংস হত্যার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে নিজের মনোবাসনা পূরণ করে। সেইসাথে বাঙ্গালি জীবনের নতুন সকাল চিরতরে কালো মেঘে ডেকে যায়।

হাজার বছরের শেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্রের সাথে জিয়াউর রহমান যে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, পরবর্তীতে তার অবস্থান, ভূমিকা এবং কর্মকান্ড তা প্রমাণ করেছে। প্রথমত বলা যায়, বঙ্গবন্ধু হত্যায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছিলেন জিয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ১০ দিনের  মাথায় জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান হয়েছিলেন। তারপর জাতির জনকের খুনিদের বিচার না করে দেশের বাইরে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। বিচারের বদলে বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। সেখানেই শেষ নয়, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের জাতীয়ভাবে পূরস্কৃত করেছিলেন। জাতির জনকের হত্যার বিচারের দরজা চিরতরে বন্ধ করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন। কেউ যাতে কোনোদিন বিচার করতে না পারে সেজন্য সংবিধানে আইন জুড়ে দিয়েছিলেন । যেটা কালো আইন নামে পরিচিত।

Ads
Ads