কালো সিন্ডিকেটের কবলে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন: বিতর্কিত তিন জনের লবিং চলছে

  • ১৪-Aug-২০১৯ ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
Ads

::উৎপল দাস::
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নিজ হাতে গড়া ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একমাত্র ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। এই ঐতিহ্যবাহী সংগঠনটিকে বারবার বিতর্কিত করতে মুখিয়ে থাকে সংগঠনের ভেতরের বাইরে গড়ে উঠা দীর্ঘদিনের গড়ে উঠা অদৃশ্য কালো সিন্ডিকেট । সেই সিন্ডিকেটের কালো থাবা থেকে ছাত্রলীগকে বাঁচাতে সংগঠনটির সর্বোচ্চ অভিভাবক, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা নিজেই উদ্যোগী হয়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ আরো তিনটি ইউনিটের শীর্ষ নেতা নির্বাচন করেছেন। রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বানীকে সাধারণ সম্পাদক করে দায়িত্ব দেয়ার পর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নির্দেশে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন। 
এদিকে, ছাত্রলীগের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা ইউনিটের মধ্যে অন্যতম একটি ইউনিট হচ্ছে সমুদ্রকন্যা, পর্যটন নগরী হিসাবে খ্যাত কক্সবাজার। দীর্ঘ ৫ বছরেরও বেশি সময় পর আগামী ২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। 

সম্মেলনের দিনক্ষণ যতই এগিয়ে আসছে, ততই আঞ্চলিক একটি কালো সিন্ডিকেট সম্মেলন ঠেকিয়ে দেয়ার মতো পাঁয়তারা শুরু করেছে। কিন্তু জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোর্ত্তীণ সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয় বলেছেন, যেকোনো মূল্যে তিনি সম্মেলন করতে রাজি আছেন। শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপোসহীন মেয়ােদোর্ত্তীণ অবৈধ কমিটির সভাপতি হিসাবে তিনি তার দায়িত্ব পালন করতেও চান না। তাই সম্মানের সাথে বিদায় নিয়ে নতুন যোগ্য, মেধাবি ও ক্লিন ইমেজের কারো হাতে কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব অর্পণ করতে চান বলে ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন। 

তবে ভোরের পাতার এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে সম্মেলন ঠেকানো অথবা নিজেদের পছন্দের লোককে যারা বিতর্কিত তাদের নিয়েই কমিটি করার জন্য উঠে পরে লেগেছেন। যেকোনো মূল্যে নিজেদের মাইম্যান জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে বসানোর চেষ্টা করছেন। জেলার বিভিন্ন স্তরের আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও ছাত্রলীগের একটি অংশ কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনকে ঘিরে আঞ্চলিক কালো সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। 

বিশেষ করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার সদর পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুলসহ আরো কয়েকজনের আলাদা সিন্ডিকেট কাজ করছে এ সম্মেলনকে ঘিরে। এমনকি কক্সবাজার সদর আসনের এমপি আলহাজ সাইমুম সরওয়ার কমল গোপনে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রক হওয়ার প্রচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি প্রকশ্যে ছাত্রলীগ নিয়ে কোনো মাথা ব্যাথা না দেখালেও বিএনপি জামায়াতের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে বিতর্কিত এই এমপি এবার জেলা ছাত্রলীগেও বিএনপি-জামায়াত পরিবারের লোকজনকে নেতা বানানোর মিশনে নেমেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

তবে ছাত্রলীগের অবৈধ ও মেয়াদোর্ত্তীণ কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের গ্রুপ থেকেও নেতা হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন কয়েকজন বিতর্কিত। তাদের মধ্যে রয়েছেন মঈন উদ্দিন। একসময় অবৈধ ও মেয়াদোর্ত্তীণ জেলা কমিটির সভাপতি জয়ের অফিসে চাকরি করতে তিনি। এরপর জয় খুশি হয়ে জেলা ছাত্রলীগে প্রথম পোস্ট হিসাবে উপ দপ্তর সম্পাদক ভাগিয়ে নেন। তবে মঈন উদ্দিন আহমেদ নিজেই দাবি করেছেন, এই পদে আসার আগে আরো ৭ বার ছাত্রলীগের পদে ছিলেন। এরপর থেকে মঈন কিছুটা বেপোরোয়া জীবনাচরণ থেকে শুরু করেন। এমনকি রাজধানীর পর সারাদেশে যখন ডেঙ্গু মশার প্রকোপ বেড়ে যায়; তখন নিজ এলাকায় লোক দেখানো ফগিং মেশিন নিয়ে মশা নিধনের কাজে নামেন। এমনকি নিজের হাতে মেশিন না চালিয়ে অন্যদের টাকা দিয়ে সেগুলো করিয়ে নিজে শুধু ছবির ফ্রেমে ছিলেন। বর্তমান জেলা কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের ব্যক্তিগত অফিসে কাজ করার সুযোগে ছাত্রলীগের পদটি দখলে নেন। মঈন এখন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য নিয়মিত ঢাকায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীর কাছে লবিং করছেন। তবে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ভোরের পাতাকে বলেন, এমন কাউকেই রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে কক্সবজারের মতো জেলায় আদর্শিক ও ক্লিন ইমেজের কাউকেই নেতা বানানোর পরিকল্পনা আছে।  এসব অভিযোগের বিষয়ে মঈন উদ্দিন আহমেদকে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

খবর প্রকাশের ২০ মিনিট পরই মঈন উদ্দিন আহমেদ নিজেই এ প্রতিবেদককে ফোন করেন। তিনি তার বক্তব্য দেয়ার অনুরোধ করার পাশাপাশি ভোরের পাতার সম্পাদক ও এ প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আমি কোনোদিন কারো অফিসে চাকরি করি নাই। তবে ভোরের পাতার এ প্রতিবেদক তার অফিসে চাকরি করতেন তার অফিসে খোঁজ নিয়েই লিখেছে। তবে মঈন জেলা ছাত্রলীগের উপ দপ্তর সম্পাদক হওয়ার আগে আরো কয়েকটি পদে ছিলেন বলে দাবি করেন। এমনকি তিনি ছাত্রলীগ না করে ভবিষ্যতে সাংবাদিকতা করার দাম্ভিকতাও দেখিয়েছেন। 
 
এছাড়া জেলা ছাত্রলীগের মেয়াদোর্ত্তীণ কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ আদনান যার পিতা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক মুকুল। নিজ ছেলেকে জেলা ছাত্রলীগের শীর্ষপদে বসানোর জন্য নানা তদবির চলছে। যদিও এই মারুফ আদনানের বিরুদ্ধে চোরাই মটরসাইকেল ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে মারুফ আদনানের সঙ্গে কথা সম্ভব হয়নি। 

এছাড়া কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আনসারুল করিমও বিতর্কিত। তিনি ইয়াবা এবং নারীসহ উখিয়া থানায় আটক ছিলেন। যদিও আনসারুল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পারিবারিক শত্রুতার কারণে এসব হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন। তবে আদর্শিকভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতে গিয়ে তিনি মাঠে তেমনভাবে না থাকলেও জামায়াত শিবিরের সাথে তার কেনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। 

এসব প্রশ্নের বিষয়ে জানতে মেয়াদোর্ত্তীণ কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়কেও কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে আজকের মধ্যে কল ব্যাক করবেন বলে ক্ষুদেবার্তা পাঠালেও ফোন ব্যাক করেননি। 
 

Ads
Ads