সবাইকে ঈদ মোবারক

  • ১০-Aug-২০১৯ ০৯:৪১ অপরাহ্ন
Ads

:: ড. কাজী এরতেজা হাসান ::

‘মনের পশুরে কর জবাই/পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।’ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কবিতায় তুলে ধরেছেন ত্যাগের মহিমা। আগামীকাল পশু কোরবানির মধ্যদিয়ে নিজের ভেতরের কলুষতাকে ধুয়ে-মুছে সাফ করবে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নতুনভাবে শুরু হবে নতুন জীবন। ইসলামের এই শিক্ষা-আহ্বান নিয়ে বাংলাদেশজুড়ে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। প্রতিবারই এই উৎসবকে ঘিরে তৈরি হয় আনন্দ-হিল্লোল। এবারও তার কমতি নেই। স্বজনের কাছে ফিরতে পথের কষ্টভোগ মুছে গেছে প্রিয়মুখ সামনে পেয়ে। এমন আনন্দঘন দিনে সবাইকে অগ্রিম ঈদ  মোবারক।

প্রতিবারের মতো এবারও সারা দেশে ঈদুল আজহাকে ঘিরে সরকার বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্ধারণ করেছে কোরবানির বিশেষ স্থান। সেগুলোকে পরিপাটিও করা হয়েছে। ঈদের জামাত থেকে শুরু করে সবখানেই রাখা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা। শোলাকিয়ায় বৃহৎ ঈদের জামাতেও মাঠে এক সময় ঘটে যাওয়া জঙ্গিঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন সারা দেশে আর কোনো জঙ্গি নেই। প্রধানমন্ত্রীর এই সাফল্যকে বিশ্বনেতারা অভিনন্দনও জানিয়েছেন। 

ঈদে কোরবানি দেওয়ার পর ওই স্থান ভালোভাবে ধুয়ে-মুছে পরিচ্ছন্ন রাখব বলেই আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা। নিজেদের স্বার্থেই ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে মশা-মাছির উপদ্রব ও দুর্গন্ধ থেকে নিজেরা বাঁচব, অন্যকেও বাঁচাব। পশুর বিষ্ঠা সঠিক স্থানে অপসারণের কথা ভুলে গেলে চলবে না। তাছাড়া এখন সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিরাজমান। আপাতত কিছুটা কমের দিকে বলে আমরা শুনছি। তারপরও সাবধান হতে হবে আমাদের। স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। আর স্বাস্থ্য সচেতন নিজে হলেই সুখী হওয়া যায় না, আশপাশের সবকিছুর স্বাস্থ্যই ভালো রাখতে হয়। পরিবেশের প্রতি যেন আমরা এই কোরবানির ঈদে কোনো অবিচার না করি। খুব সাবধানে, খুব ভেবে প্রতিটি পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদেরকেই। 

ঈদ-আনন্দে মেতে কোনো শিশু যেন জলাধারের কাছে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এক কথায় আনন্দ যেন বেদনায় পরিণত না হয়, সেদিকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হবে সচেতনভাবেই। 

এবার সরকার যথাযথ পূর্বব্যবস্থা গ্রহণ করায় ঈদ উপলক্ষে ঘরেফেরা মানুষকে দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনা প্রথমদিকে কম থাকলেও টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ট্রেনের ব্যাপক সিডিউল বিপর্যয় তৈরি হয়। ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হলে মানুষ পড়ে দুর্ভোগে। তারপরও আপনজনের কাছে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন মানুষ। প্রতিবার সড়কে যেমন দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া গিয়েছে, কিন্তু এবার উল্লেখযোগ্য দুর্ঘটনা ঘটেনি। আমরা আশা করি, ঈদুল আজহার পরও মানুষের কর্মস্থলে ফেরা হবে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমরা সকলের সুখ-শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতি কামনা করি। ভোরের পাতার প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট ও শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদুল আজহার অনাবিল শুভেচ্ছা ঈদ মোবারক।

Ads
Ads