ডেঙ্গু চিকিৎসায় গ্রামগঞ্জে বেহাল দশা

  • ৭-Aug-২০১৯ ১০:৪৯ অপরাহ্ন
Ads
  • # জেলা হাসপাতালে লোকবল সংকট, গরম বাড়লে কমবে ডেঙ্গু : স্বাস্থ্য অধিদফতর 

:: জিএম রফিক ::

ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গ্রামগঞ্জে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা পড়ছেন দুর্ভোগে। অনেককেই পাঠানো হচ্ছে জেলা হাসপাতালে। কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে জেলা হাসপাতালেও মিলছে না সুচিকিৎসা। পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এমন প্রেক্ষাপটে গত ৩৯ দিনে রাজধানীতে চিকিৎসা নিতে এসে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে অন্তত ৯ জনকে। গতকাল বুধবারও ঢাকা মেডিকেলে মুন্সিগঞ্জ সদরের আওলাদ হোসেনের মুত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮। এদিকে গতকালও আক্রান্তের সংখ্যা অন্যদিনের তুলনায় বেশি ছিল। সরকারি তথ্য যাচাই করে জানা গেছে, সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রতি ঘণ্টায় হাসপাতালগুলোতে একশর বেশি ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এদিকে গরম বাড়লে ডেঙ্গু কমবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ। অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বুধবার রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে ডেঙ্গু বিষয়ক সেমিনার শেষে বলেছেন, এ অবস্থাকে আমরা মহামারি বলব না, আবার স্বাভাবিকও বলব না। তবে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। মন্ত্রী জানয়েছেন, ইতোমধ্যে ডাক্তার-নার্সদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সার্বক্ষণিক মনিটারিং করছি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে ১ জানুয়ারি থেকে আজ ৬ আগস্ট পর্যন্ত সারাদেশের হাসপাতালে প্রায় ৩০ হাজার ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১ হাজার ৯২১ জন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৯৬৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২ হাজার ৪২৮ জন অর্থাৎ গড়ে প্রতি ঘণ্টায় ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর আগে এই সংখ্যা ছিল ঘণ্টায় ৯৮ জন।  তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, তারা মাত্র ৪০টি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির তথ্য পাচ্ছেন। সব হাসপাতালের তথ্য পেলে প্রতি ঘণ্টায় ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত কয়েকদিন যাবত রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একাধিক মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের ফলে খুব শিগগিরই ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত গরম আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে ডেঙ্গু মশার প্রজনন কমে। গত কয়েকদিন যাবত যে গরম আবহাওয়া বিরাজ করছে তা অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গুর প্রকোপ কমে যাবে।

রাজধানী থেকে বাড়ি ফিরে যাওয়া শুরু হয়েছে কয়েক দিন থেকে। এরপরই গ্রামগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। লোকবল সংকটে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় উন্নত চিকিৎসা দিতে পারছে না। রোগীর অবস্থা নাজুক দেখলেই পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে জেলা হাসপাতালে। কখনো কখনো জেলার সরকারি হাসপাতালও দায়িত্ব নিতে পারছে না রোগীর। উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অধিকাংশ রোগীরা চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন রাজধানীর সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে। এমন রোগীদের কয়েকজন ইতোমধ্যে লাশ হয়ে ফিরেছেন নিজ এলাকায়। গতকাল বুধবারও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে প্রাণ হারিয়েছেন মুন্সিগঞ্জ থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আওলাদ হোসেন (৩২)। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আওলাদকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়। আওলাদ হোসেনের মামা আক্তার হোসেন ও ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) নাছির উদ্দিন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। মৌলভিবাজারের একজনও ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতলে মারা গিয়েছেন। এমন এক পরিস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক প্রফেসর ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা। এরকম অবস্থায় গ্রামে গিয়ে এ ধরনের উন্নত চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব নয়। সেটা ভাবার বিষয়। তিনি ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়া ডেঙ্গু রোগীদের ঈদের ছুটিতে গ্রামে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে রাজধানীর হাসপাতালগুলোতেও রয়েছে লোকবলের অভাব। 

স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, সব বিষয়ের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে তা সাধারণ মানুষকে সহজ করে বুঝাতে হবে। ডেঙ্গুর বিষয়েও সহজে মানুষকে বুঝাতে হবে। বর্তমানে বাস্তবতা একজন রোগী হাসপাতালে জ্বর নিয়ে আসলে তাকে ভর্তি করবে, এটাই তার প্রত্যাশা। এদিকে রাজধানীর হাসপাতালেও রয়েছে লোকবলের অভাব। মুগদায় অবস্থিত খোদ সরকারি হাসপাতালেও হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তার, নার্সরা। স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী জানান, হাসপাতালটি ২০১৩ সালে উদ্বোধন হলেও এখন পর্যন্ত অনেক লোকবলের সংকট রয়েছে। তবে এর মধ্যে আশার কথা সম্প্রতি ৪৫১টি শূন্য পদ পূরণে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৭ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়া হবে। এ হাসপাতালের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে অবশিষ্ট শূন্যপদ পূরণের পাশাপাশি বেশকিছু সিনিয়র নার্স বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত রয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি। 

‘গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছে’ উল্লেখ করে গতকাল রাজধানীর মুগদা হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এই অবস্থাকে আমরা মহামারি বলবো না আবার স্বাভাবিকও বলব না।’ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা, নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, হাসপাতালগুলোতে যদি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালসহ চারটি সরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এদিকে সেমিনারে এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গত বছর এই সময় ১১ হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। এ বছর একই সময়ে এর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর শনাক্তের উপকরণ কিটের কোনো অভাব নেই জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিদিন দুই লাখ কিট আনা হচ্ছে। তাই এ বিষয়ে সমস্যা হওয়ার কোনো কারণ নেই। 

অন্যদিকে সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় উন্নত যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। রয়েছে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অপ্রতুলতা। ফলে রোগীর অবস্থা একটু খারাপ হলেও তাদেরকে রাজধানীর দিকে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। অথবা আশেপাশের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও যেতে বলা হচ্ছে। ভোরের পাতা প্রতিনিধিদের সংবাদ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গিয়েছে।

মৌলভীবাজার :মৌলভীবাজারে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বুধবার ৩টা পর্যন্ত জেলায় ৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ১১ জন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ পর্যন্ত মৌলভীবাজারের ১৫ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকি ২৩ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। এছাড়া বুধবার মৌলভীবাজার সদর, রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলার তিন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রতœদীপ বিশ্বাস।  এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মৌলভীবাজারের মিঠুন ফয়সল চৌধুরী (২৮)। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে তার মৃত্যু হয়।  মিঠুন মৌলভীবাজার সদরের শাহবন্দর জমাদার বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা ফয়সল চৌধুরীর ছেলে।  

পটুয়াখালী :পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালের চিকিৎসক আরিফ হোসেন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল বুধবার ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তিনি চিকিৎসার জন্য বরিশাল চলে গেছেন। কলাপাড়া হাসপাতালে ইতোপূর্বে আরও চারজন ডেঙ্গু রোগী শণাক্ত হয়েছে। যার মধ্যে সর্বশেষ ভর্তি চাকামইয়ার আকলিমা বেগম চিকিৎসার জন্য বুধবার বরিশালে চলে যান। হাসপাতাল ছাড়াও বাইরের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আরও পাঁচজন ডেঙ্গু রোগী শণাক্ত হয়েছে। এনিয়ে কলাপাড়ায় এখন পর্যন্ত মোট ১০ ডেঙ্গু রোগী শণাক্ত হয়েছে। তবে কলাপাড়া হাসপাতালে আক্রান্তদের কেউই ভর্তি নেই বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জেএইচ খান লেলিন জানান, এ পর্যন্ত কলাপাড়ায় মোট ২০টি কীট পেয়েছেন। সরকার নির্ধারিত ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি ৫০০ টাকা ধার্য করায় বাইরের কোন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষষার কীট সংগ্রহ করছেন না। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :ব্রাহ্মণবাড়িয়া মো. সাদ বিন এজাজ নামে এক শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে।   সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। আয়ানের বাবা মো. এজাজ আহমেদ জানান, গত ৪ আগস্ট আয়ান জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরদিন চিকিৎসক পরীক্ষা নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। ৬ আগস্ট প্রথম পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য আবার পরীক্ষা করালে আবারো ডেঙ্গু অস্তিত্ব মেলে। গতকাল বুধবার দুপরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের পরীক্ষায়ও তার ডেঙ্গু ধরা পড়ে। হাসপাতালের তত্বাবধায়ক মো. শওকত হোসেন জানান, একাধিক পরীক্ষা নিরীক্ষায় শিশুটির ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। শিশুটির চিকিৎসকার ব্যাপারে সব ধরণের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

নীলফামারী:নীলফামারীতে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই দিনই সনাক্ত হয়েছে ১০জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। আর গত ২৫ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৪ দিনে জেলায় মোট ৫০ জন সনাক্ত করা হয়েছে।  নীলফামারী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, নীলফামারীর জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে গত ২৫ জুলাই থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীরা আসতে শুরু করে। ওই দিন দু’জন সনাক্ত হলেও পর্যায়ক্রমে সনাক্ত হওয়ার রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ৭ আগস্ট জেলায় ১০ জনকে সনাক্ত করা হয়। এ নিয়ে গত ১৪ দিনে ৫০ জনের ডেঙ্গু সনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ২২জন রোগী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ছয়জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। পাঁচজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে। আর এই হাসপাতাল থেকে সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুচিয়ার মোড় গ্রামের পরিতোষ চন্দ্র রায় (২৮), জেলা শহরের গাছবাড়ী এলাকার আব্দুল লতিফ (৪৫) ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম (২৫) জেলা শহরের শান্তিনগর গ্রামের ফারুক হোসেন (২২) সবুজপাড়া গ্রামের লিখন ইসলামকে (১৮)। সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মন বলেন, বুধবার পর্যন্ত জেলায় ৫০ জন ডেঙ্গু রোগি সনাক্ত হয়েছে। তারা সকলে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এলাকায় এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে, কেউ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে, কেউ সুস্থ হয়েছে, আবার অনেকে জেলার বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।

Ads
Ads