বিইউপি বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিংয়ে আসছে

  • ৬-Aug-২০১৯ ০৮:৩৩ অপরাহ্ন
Ads

:: উৎপল দাস ::

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেসনালস (বিইউপি) আগামী ২০৫০ সালের মধ্যেই বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় ঠাঁই পাওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে। বাংলাদেশের সবচে সুশৃঙ্খল বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে সরকার ও দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর আন্তরিকতা, শিক্ষকদের মানসম্পন্ন শিক্ষাদান এবং সর্বোপরি কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও মেধার কারণে এই সময়ের মধ্যে বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঠাঁই পাওয়া খুবই সম্ভব। এমনকি বিইউপি’র বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর মেজর জেনারেল এমদাদুল বারীর মতো প্রজ্ঞাবান, দেশপ্রেমিক, প্রযুক্তিজ্ঞানে হৃদ্য একজন মানুষ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আরো গতিশীল হয়ে বিইউপি’র একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর থেকে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করেন বিইউপির প্রো-ভিসি প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার । 

মঙ্গলবার সকালে বিইউপি ক্যাম্পাসে ভোরের পাতার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার এসব কথা বলেন। 

তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালের ৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস যাত্রা শুরু করলেও এটির মূল কাজ শুরু হয়েছে ২০১৫ সাল থেকে। দেশের ২৯ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে এখন ৪ শতাধিক শিক্ষক কর্মচারীর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটিতে রয়েছে ৬ হাজারেও বেশি শিক্ষার্থী। ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট কমিশন (ইউজিসি)’র নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই ২০১৫ সাল থেকে শুধু পেশাদার ও দেশপ্রেমিক সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী ছাড়াও সুশৃঙ্খল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশ ও জাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে ৪ টি অনুষদের মাধ্যমে ১৬ টা বিভাগ খোলা হয়েছে। 

বিইউপির প্রো-ভিসি প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার ভোরের পাতাকে আরো বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গতাণুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে থাকা এ প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কিছু রীতি নীতি রয়েছে। এ কারণেই সবচে সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস হিসাবে এখন বিইউপিকে গণ্য করে। উদাহরণ টেনে প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার বলেন, সম্প্রতি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে একজন এইচ এস সি পাস শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেছেন বাংলাদেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তানকে ভর্তি করানোর চেয়ে সবার আগে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বিইউপিতে ভর্তি করাতে চান। সামাজিকভাবে এখন বিইউপির সুশৃঙ্খল এবং সময়োপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার কারণেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এমন আস্থা এসেছে বলে মনে করেন বিইউপির প্রো-ভিসি প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার। 

তিনি এ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, হ্যাঁ, আমাদের ক্যাম্পাসে সরাসরি রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী রাজনৈতিকভাবে সচেতন। কেননা বিইউপির আবরার নামের একজন শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের সাথে আমরাও রাজপথে নেমেছিলাম। কিন্তু আমাদের কোনো শিক্ষার্থী একটা বাসেও ঢিল পর্যন্ত ছুঁড়েনি। অন্য কোনো গ্রুপ আমাদের নিরাপদ সড়কের দাবিকে পুঁজি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার যেন অপচেষ্টা না করতে পারে সে কারণে শিক্ষকরাও ছিলাম তাদের সাথে। আমাদের আন্দোলন সফল হয়েছে সুশৃঙ্খলভাবেই।  

বিইউপির শিক্ষাদানের বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রো-ভিসি প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার বলেন, আমাদের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য যে শিক্ষাক্রম বা সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়, সেখানে সে বিষয়ের ওপর পেশাদার একজন বিশেষজ্ঞকে কাজে লাগিয়ে থাকি। যেমন ব্যবসায়ে অনুষদের কোনো বিষয়ে সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের প্রতিষ্ঠিত একজন ব্যবসায়ীর পরামর্শ গ্রহণ করি। ভবিষ্যতে কর্মক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা যেন এই প্রতিষ্ঠানের লব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে পেশাগত জীবনে সফল হতে পারে সে লক্ষ্যেই এটা করা হয়েছে। 

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চমৎকার সম্পর্ক আমাদের বিইউপিকে আরো এগিয়ে নিয়ে গেছে বলে মনে করেন বিইউপির প্রো-ভিসি প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি লেকচারের সময়সীমা ৯০ মিনিট। এরমধ্যে শিক্ষক ৬০ মিনিট নিজে দায়িত্ব নিয়ে পড়ান। এরপর বাকি ৩০ মিনিট শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং শিক্ষার্থীরা সেখানে মনখুলে কথা বলতে পারেন। নিজ উদ্যোগেই শিক্ষকের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্কের কারণে কোনো ক্লাস মিস দিতে চান না। এছাড়া প্রতিটি বিভাগেরই প্রতি বছর একটি করে জার্নাল বের করেতে হচ্ছে বাধ্যতামূলকভাবে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশেরও সুযোগ রয়েছে। এটিকে আরো গতিশীল করা হবে। ডিজটাল ও প্রযুক্তিগতভাবে বিইউপির প্রত্যেক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক খুবই পারদর্শী বলে দাবি করেন তিনি। 

এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশের কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসাবে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যেই বিশ্বের সেরা ১০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাঙ্কিংয়ের তালিকায় ঠাঁই করে নিবে বিইউপি। এ লক্ষ্যেই কাজ করছে বিইউপির শিক্ষক ও কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।  সেক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ স্বচ্ছতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি কোনো বিষয়ে কোনো তদবির বিইউপিতে টিকে না বলেও নিশ্চিত করেছেন প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার। 

উল্লেখ্য, বিইউপির প্রো-ভিসি প্রসেফর ড. এম আবুল কাশেম মজুমদার বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য হিসাবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে ৩ বছর দায়িত্ব পালন করার পর আবারো শিক্ষকতায় ফিরে এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোক প্রশাসনে স্নাতক ও স্নাতোক্তোর করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের লেকচারার হিসাবে কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৮০ সালে। এরপর জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসাবে কাজ করেছেন সুনামের সঙ্গে। এছাড়া তিনি জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগেরও চেয়ারম্যান ছিলেন। 

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় জন্ম নেয়া প্রো ভিসি প্রফেসর ড.  এম আবুল কাশেম মজুমদার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন মানুষ। তিনি সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতেই পছন্দ করেন। রাজনৈতিক সচেতন নিরহংকারী এই মানুষটির রয়েছে কয়েকটি গবেষণাগ্রন্থ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী জার্নালে তার লেখা নিয়মিত ছাপা হচ্ছে।

Ads
Ads